তাপস কুমার, নাটোর:
উত্তরের বৃষ্টির পানি আর পাহারি ঢলে চলনবিলসহ সিংড়া ও গুরুদাসপুর এলাকার বানভাসি গ্রাম গুলোতে এখন চরম গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। গো-চারন ভুমি ও এলাকার উঁচু জায়গা গুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এই সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। বিশেষকরে ভাটি এলাকা অর্থাৎ উল্লাপাড়া, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর এলাকার গো-খামারিরা এই এলাকা থেকে বেশী দামে খর কিনে নৌকা যোগে নিয়ে যাওয়া ও বারবার বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্য সংকট প্রকট থেকে আরো প্রকট আকার ধারন করেছে।
জানা গেছে, সিংড়া ও গুরুদাসপুরের চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এমনকি এখনও প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে ঘাসের ক্ষেত ও গো-চারন ভুমি গুলো তলিয়ে গেছে পানির নিচে। মাঠ থেকে কাঁচা ঘাস সংগ্রহ করতে না পেরে এলাকার খামারিদের সম্পুর্ণভাবে খড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
গুরুদাসপুর উপজেলার বিলসা গ্রামের আফজাল হোসেন জানান, এক আটি খড় ৩ টাকা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে। খৈইল-ভূষিরও দাম বেশী। এ অবস্থায় এ এলাকার মানুষের গোবাদী পশু পালন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। খড় ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন জানান, উপজেলার নিন্মাঞ্চলে ব্যাপক বোনা আমন ধানের চাষ হয়। আমন ধানের খড় গরু-মহিষ খুব কম খায়। তা আবার বন্যার পানিতে বোনা আমন ধান তলিয়ে যাওয়ায় পুরোপুরি বোরো ধানের খড়ের ওপর নির্ভলশীল হতে হচ্ছে। বোরো ধানের ক্ষর এখন রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ এলাকা থেকে এনে বিক্রয় করতে হচ্ছে। যার কারনে এলাকায় খড়ের দাম বেশী হয়েছে। গুরুদাসপুর উপজেলা ভেটেনারী সার্জন আবু কায়েস বিন আজিজ জানান, এলাকায় গো-খাদ্য সংকট হওয়ায় খামারিরা বিকল্প হিসেবে দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে করে অবশ্য খরচটা একটু বেশী পড়ছে।
স/মা

