ঢাকাবুধবার , ২৬ এপ্রিল ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

নাটোরে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে মাসব্যাপী তাঁত-বস্ত্র শিল্প মেলা ॥ মধ্যরাত পর্যন্ত দর্শক সমাগম

admin
এপ্রিল ২৬, ২০১৭ ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তাপস কুমার, নাটোর:
বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় তাঁত, বস্ত্র ও শিল্পকে মানুষের সাথে পরিচিত করা আর বিদেশী চ্যানেলের অপসংস্কৃতি কাটিয়ে দেশজ সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টির লক্ষ্যে নাটোরে চলছে মাসব্যাপী তাঁত-বস্ত্র ও শিল্প মেলা। মেলার আকর্ষণীয় বিভিন্ন স্টল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা আর দেশজ সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রতিযোগীতা দেখতে প্রতিদিনই মধ্যরাত পর্যন্ত মেলায় দর্শক সমাগম ঘটছে বলে দাবী করছেন আয়োজক কমিটি।
মেলার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক রুহুল আমিন বিপ্লব জানান, বিদেশী সিল্কী পোশাক, কৃত্রিম তন্তু আর কৃত্রিম শিল্পের প্রভাবে আমাদের দেশীয় তাঁত, বস্ত্র আর শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্ত। এতে একদিকে যেমন আমরা বাঙালীরা আমাদের দেশীয় প্রযুক্তি আর শিল্প থেকে দূরে সরে যাচ্ছি অপরদিকে বিদেশী পণ্য আমাদের বাজার দখল করে নিচ্ছে। নানাগুণে সমাদৃত বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী দেশীয় তাঁত-বস্ত্র আর শিল্প বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায় এসব শিল্পর সাথে জড়িত হাজার হাজার পরিবার এখন প্রায় বেকারের পথে। যদিও অনেকেই বিকল্প পেশা গ্রহণ করছেন কিন্তু অধিকাংশই বংশ পরস্পরায় চলে আসা পেশা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারছেন না। ফলে বিশাল এই জনগোষ্ঠি অনেকটা অর্ধাহারে-অনাহারেই জীবন যাপন করছেন। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি তাঁত পল্লি করার ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি সম্মান জানিয়ে নাটোরের শিল্প আর শিল্পীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়েই মাসব্যাপী এই মেলার আয়োজন করেছেন তারা। পাশাপাশি এই মেলায় প্রতিদিনই চলছে স্থানীয় নৃত্যশিল্পীদের নৃত্য প্রতিযোগীতা। এই প্রতিযোগীতার মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্য থেকে কিছু শিল্পী জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি করানো আর দেশজ সংস্কৃতির প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়ছে বলে দাবী করেন তিনি। গত পহেলা বৈশাখ মেলার উদ্বোধন করেন নাটোর সদর আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল। এক মাস মেলা চলার পর বৈশাখের শেষ দিনে মেলার সমাপ্তী ঘোষণা করা হবে বলেও দাবী করেন বিপ্লব।
সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা যায়, নাটোর শহরের প্রাণকেন্দ্র কানাইখালী মাঠে আয়োজন করা হয়েছে ওই মেলা। মেলায় প্রায় শতাধিক স্টল বসেছে। স্টলগুলোতে রয়েছে দেশী-বিদেশী পণ্য। এরমধ্যে ঢাকার মামা চটপটি, তাঁতের শাড়ি, থ্রিপিছ,দেশীয় ক্রোকারিজ সামগ্রী, ফুড স্টল, মেয়েদের কসমেটিক সামগ্রী, ব্যাগ, ছেলেদের পাজামা-পাঞ্জাবী, টি-শার্ট, মেয়েদের চুড়িসহ অন্যান্য প্রসাধনী, পুরানা ঢাকার চটি সামগ্রী। ছোট শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে দোলনা, চরকি, নৌকা, ট্রেন, নাগরদোলা, বড়দের জন্য প্রাইভেট কার রানার প্যাভিলিয়ন। মেলার মাঝখানে স্থাপন করা হয়েছে নানা রঙের পানির ফোয়ারা যা দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ছে। এছাড়া স্থাপন করা হয়েছে মোটরসাইকেল মৃত্যুকূপ, ম্যাজিক বোর্ড। প্রতিদিন দেশজ নৃত্য আর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার জন্য মেলার শেষ প্রান্তে স্থাপন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক মঞ্চ। মেলার স্টলে রাখা হয়েছে টাঙাইলের তাঁত বস্ত্র, শাড়ি, থ্রি-পিছ আর বার্মিজ সামগ্রী। রয়েছে চায়না সামগ্রী। এছাড়া রয়েছে হস্তশিল্প, শো-পিছ আর ম্যাট। এর বাইরে কিছু স্টলে সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী। মেলার প্রবেশদ্বারের পাশেই স্থান পেয়েছে দিনাজপুরের বিখ্যাত আচার আর বিসমিল্লাহ ফুড প্রোডাক্টস যেখানে দেশীয় বিভিন্ন নাড়–, মুড়ির মোয়া আর তীলের খাঁজাসহ বিভিন্ন আকর্ষনীয় খাবার স্থান পেয়েছে। এছাড়া রয়েছে ঢাকার কলাবাগানের বিখ্যাত মামা হালিম আর ঢাকার চটপটি যা দর্শকদের আকর্ষণ করছে।
বিভিন্ন স্টলের মালিকরা দাবী করেন, যদিও দর্শক সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু তারা তাদের প্রত্যাশিত বিক্রি করতে পারছেন না। তবে আশা করছেন শেষের দিনগুলোতে মেলায় বিক্রির হার বাড়বে।
মেলার দর্শক বকুল হোসেন দাবী করেন, মেলার আকর্ষণীয় স্টল আর সান্ধ্যকালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তাদের মুগ্ধ করছে। তিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছেন।
মেলায় আসা দর্শক রাকিব জানান, মেলার পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর। দেশীয় পন্য প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রচারের লক্ষ্যে এ ধরনের মেলা প্রয়োজন। তাই মেলা দেশের প্রতিটি জেলায় হলে মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থা হবে বলে আমার প্রত্যাশা।
মেলার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বিপ্লব জানান, মেলার সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের প্রযুক্তির ব্যবহার ওয়াই-ফাই ব্যব্স্থা যুক্ত করা সহ র‌্যাব-পুলিশের টহলের পাশাপাশি তার নেতৃত্বে দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। মেলার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কোনরুপ সমস্যাসৃষ্টি ছাড়াই মেলার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন তারা।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবী করেন, জেলা পুলিশ মধ্যরাত পর্যন্ত মেলা চত্বর ও শহরের বিভিন্ন রাস্তায় টহল অব্যাহত রেখেছেন যাতে মেলাগামী ও মেলা ফেরত কোন দর্শক সমস্যায় না পড়েন।

স/এষ্