নাটোরের গুরুদাসপুরে বাল্যবিয়ে-মাদক প্রতিরোধ ও
সোঁতিজাল উচ্ছেদে আপষহীন প্রশাসন
তাপস কুমার, নাটোর:
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের বিশেষ অভিযান আর কঠোর পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে আত্রাই নদীর সমস্ত অবৈধ সোঁতিজাল উচ্ছেদ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিয়ে ও মাদক প্রতিরোধে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য জরিপে জানা যায়, বিগত এক সপ্তাহের মধ্যে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেনের নেতৃত্বে থানার অফিসার ইনচার্জ দিলীপ কুমার দাসের সহযোগিতায় উপজেলার বুক চীরে বয়ে যাওয়া আত্রাই নদী, বিলহরিবাড়ী, হরদমা খালের ৮টি সোঁতিজাল সমূলে উচ্ছেদ করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি অবৈধ সোঁতিজালের উদ্যোক্তা কমপক্ষে ৪০ জনের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় তিনটি মামলা দায়ের করেছে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। সুত্র জানায়, পরবর্তীতে সোঁতিজাল মালিকরা প্রভাবশালীদের আশ্রয় নিয়ে ওই নদীতে সোঁতিজাল প্রতিস্থাপন করে পোনা ও মা মাছ শিকার এবং পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারেনি।
অপরদিকে পৌর এলাকার বিবাহ রেজিস্টার কাজী মো. আব্দুল্লাহ, বিয়াঘাট ইউনিয়নের কাজী শফিকুল ইসলাম ও খুবজীপুর ইউনিয়নের কাজী বুলবুল জানান, ইউএনও মোহাম্মদ মনির হোসেনের কঠোর পদক্ষেপের ফলে উপজেলার প্রায় সর্বত্রই বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে এবং তারাও কোন বাল্যবিয়ের পক্ষে কাজ করছেন না বলে জানান।
এদিকে বন্দরনগরী বাণিজ্যিক এলাকা চাঁচকৈড়সহ ৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক চোরাচালান, বিক্রি ও সেবন প্রায় শতভাগ প্রতিরোধ করা হয়েছে বলে জানান থানার এএসআই মো. আনোয়ার হোসেন। এতে এলাকার অধিকাংশ মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী ভ্রাম্যমান আদালত এবং নিয়মিত মামলায় জড়িয়ে নাটোর জেলা জেল হাজতে অবস্থান করছে। এখনও মাদক বিরোধী অভিযানে থানা পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসন অত্যন্ত তৎপর রয়েছে বলে জানান থানার অফিসার ইনচার্জ দিলীপ কুমার দাস।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ে, মাদক এবং নদীতে সোঁতিজাল বিস্তারের সাথে জড়িত সমাজ বিরোধী অপতৎপরতার সাথে কোন আপষ নেই। সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আরো কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স/মা

