নদী খননে মিলল জ্বালানি, নরসুন্দার কসম এখন ময়মনসিংহের হেঁসেলে
জবা আক্তার ।। ময়মনসিংহের নান্দাইলে নরসুন্দা নদী খননকালে এক বিশেষ ধরনের কালো মাটি পাওয়া যাচ্ছে, যা স্থানীয়দের কাছে “কসম” নামে পরিচিত। এই মাটি রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা এটি সংগ্রহের জন্য ভিড় করছেন।
কসম এক ধরনের কালো মাটি, যা সাধারণত প্রাচীন জলাশয়, নদীর তীর বা তলদেশে পাওয়া যায়। এটি সাধারণ মাটির তুলনায় হালকা এবং কালো রঙের হয়ে থাকে। এই মাটি রোদে শুকিয়ে রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
নান্দাইলের নরসুন্দা নদীর ২৩ কিলোমিটার খননের সময় এই মাটির সন্ধান পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই মাটি রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে পারছেন, যা তাদের জ্বালানি খরচ কমাতে সাহায্য করছে। বিশেষ করে অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই মাটি খুব ভালো জ্বলে এবং দ্রুত রান্না করতে সাহায্য করে। অনেকেই এই মাটি সংগ্রহ করে সারা বছরের জন্য জ্বালানি হিসেবে মজুদ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কসম সাধারণ মাটির মতোই, তবে একটু কালো ও নরম। সংগ্রহের পর টুকরা টুকরা করে ১৫ থেকে ২০ দিন রোদে শুকাতে হয়।
এরপর সারাবছর রান্নার জন্য জ্বালানি হিসেবে মজুত রাখা হয়। বাপ-দাদার কাছে শুনেছেন, বড় বড় গাছপালা নদীর মাটির নিচে চাপা পড়ে এ ধরনের কালো মাটিতে পরিণত হয়েছে। শুদ্ধ ভাষায় এ মাটিকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলা হলেও স্থানীয়ভাবে নাম দিয়েছেন কসম।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে বনাঞ্চল রক্ষা করা সম্ভব হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।
এই ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবের পরিবেশ তৈরি করেছে এবং তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

