আগামীকাল ৬ জানুয়ারি (রোববার) নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পাশাপাশি ৭ জানুয়ারি (সোমবার) শপথ নিচ্ছেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এ জন্য শনিবার (৫ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও কাজ করছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবরা। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সচিবালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রায় সবগুলো দপ্তর খোলা। শপথের জন্য আমন্ত্রণ ও নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন নিয়ে কাজ করছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা। কয়েক দফা মিটিংও করেছেন তারা।
বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদের যুগ্মসচিব নাজমুল হক সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গ ভবনে যান। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম গণভবনে যান। সেখান থেকে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার পর বঙ্গভবনে যাবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের শপথের পর নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নতুন সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ পাওয়ার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ নেবেন। তারপর বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি।
বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে ৬ জানুয়ারি (রোববার) মন্ত্রিসভা গঠন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ নেন। এর পর সংসদীয় দলের বৈঠক হয়। বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জোটগতভাবে তারা পেয়েছে ২৮৮ আসন। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোট পেয়েছে মাত্র সাতটি আসন।
নির্বাচনের পর গত বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত এমপিদের মধ্যে ২৮৯ জন শপথ নেন। জয়ের পর টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন শেখ হাসিনা।
সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্ধারণ করবেন সেভাবে অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এদিকে নতুন মন্ত্রিসভা ৬০ সদস্যের হতে পারে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। এর মধ্যে ৩৫ জনের মতো মন্ত্রী, ২১ জনের মতো প্রতিমন্ত্রী ও ৪ জনের মতো উপমন্ত্রী থাকতে পারেন।
স/এষ্

