ঢাকাবুধবার , ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

ধামরাইয়ে আদর্শ গ্রাম বাস্তবে আছে সরকারি তালিকায় নেই

admin
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৭ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ধামরাই (ঢাকা) থেকে মো. মাসুদ সরদার

কথায় বলে কর্তার গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই। কথাটা পুরোটাই উল্টো রয়েছে ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নে পাল্লী এলাকায় অসহায় ও ছিন্নমুল মানুষের আশ্রয়স্থলে।

যা আদর্শ গ্রাম হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে এলাকায়। অথচ বাস্তবে থাকলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কোন দপ্তরে নামের তালিকা নেই।

সরকারি খাস জমিতে ৫২টি পরিবার ঘরবাড়ি নির্মান করে মাথাগোজার ঠাঁই নিয়ে বছরের পর বছর বসবাস করলেও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কোন কর্মকর্তা খোজ নেয়নি এখানকার বাসিন্দাদের। কে রাখে কার খবর এমটাই হয়েছে এখানে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের পাল্লী গ্রামের পাশে প্রায় ২৬ একর সরকারি খাস জলাশয় ছিল। এর একপাশে প্রায় ১০একর জায়গার মধ্যে মাঝখানে পুকুরের জায়গা রেখে সরকারিভাবে তিন পাশে ২০০৫/২০০৬ সালের দিকে ছিন্নমুল মানুষের আশ্রয়নের জন্য মাটি ভরাট করা হয়। এ ভরাটকৃত মাটি বর্ষা ও বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে প্রায় সমান হয়ে যায়। থেকে যায় শুধু সীমানা।

অজ্ঞাত করনে পরবর্তীতে ওই জায়গায় সরকারের পক্ষ থেকে আর কোন ধরণের তদরকি করা হয়নি। সরকারি তদরকি না থাকার কারণে বসবাসরত পরিবার গুলো একএক করে নিজেরাই একটু একটু করে মাটি ভরাট করে কোনরকম করে মাথাগোজার ঠাঁই করে নেয়।

বসবাসরত পরিবারের লোকজন বলেন, বোটাবোটি (নির্বাচন) আইলেই আমাগো খবর নেয় এলাকার নেতারা । বোটাবোটি গেলে আর চেয়ারম্যান মেম্বারগো দেহা (দেখা) যায়না। উপজেলা থেইক্যাও কোন স্যার আহেনা। আমরা কিমুন আচি না আচি কেউ দেহেনা।

তারা কষ্টের ভাষায় আরো বলেন, আমাগো ছেলে-মেয়েদের লেহা-পড়া করার জন্য একটা স্কুল ও নাই। গভীর নলকুপ শৌচাগার ও কবরস্থানের মসজিদের জায়গা পর্যস্ত নেই। বাড়িথেকে বের হওয়ার জন্য একটা রাস্তা পর্যন্ত নেই।এমনকি অনেক বাড়িতে বিদ্যুৎ পর্যন্ত নেই বাড়ির দলিলপত্র (কাগজ )নেই বলে। তবে অনেকেই বিদ্যুৎ পেয়েছে টাকা খরচ করে।

এখানকার বাসিন্দাদের প্রতি বাড়ির সামনে বিশাল একটি পুুকুর থাকলেও তারা পুকুরে মাছ চাষ ও হাঁস পালন তো দুরের কথা গরু ছাগল গোসল পর্যন্ত করাতে পারেনা। একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মন্ত্রণালয় থেকে ইজারা নিয়েছে। ফলে এখানকার লোকজন মাছ চাষ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত আব্দুল লতিফ, আনোয়ার, আয়তন নেছা, ঠান্ডু বেপারী বলেন, পূর্বে আমাদের বাড়ি ঘর ছিল না অন্যের বাড়িতে থাকতে হতো। পরের কথা শুনতে হতো অনেক। এখন অন্যের কথা শুনতে না হলেও কবে যেন এখান থেকে আমাদের চলে যেতে হয়।

কেন চলে যেতে হবে এমন প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন বসবাসের ১০/১২ বছর গেলেও আমাদের বাড়ির কোন তালিকা করেনি সরকারের লোকজন। অনেকে আবার বাড়ি তৈরী তা আবার মৌখিক হস্তান্তর করে অন্যত্র চলেও গেছে এমন অভিযোগও রয়েছে।

এ ব্যাপারে গত কয়েকদিন আগে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহম্মদ এরসঙ্গে কথা হয় ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)অফিসে।

পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে ওখানে সরেজমিনে গিয়ে বসবসারত পরিবারের তালিকা তৈরি করে বিস্তারিত রির্পোট দেয়ার জন্য মৌখিক নির্দেশ প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ তমিজ উদ্দিন প্রমুখ।

স/ এষ্