ঢাকামঙ্গলবার , ১৩ জুন ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

দরিদ্রতার কষাঘাতে হারিয়ে যাচ্ছে সকল স্বপ্ন

admin
জুন ১৩, ২০১৭ ১:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তাপস কুমার, নাটোর:
ঘর-বাহির সামাল দিয়েই একজন নারীকে এগিয়ে চলতে হয় প্রতিনিয়ত। তারপরও নারীকে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয় পদে পদে। ঘরের কাজে যেমন স্বীকৃতি নেই, তেমনি বাইরের কাজেও দেওয়া হচ্ছে কম মজুরি। মুখে সমান অধিকারের কথা বললেও সমান অধিকার পাচ্ছেন না নারী। অথচ দেশে নারী শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শুধু গার্মেন্টসে নারী শ্রমিকদের দেখে এ মন্তব্য নয়। নারী শ্রমিকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ কৃষিকাজে নিয়োজিত। তাছাড়া আদিবাসী সব নারীই শ্রমিক। এই চরিত্র আবহমানকালের।
এদিকে কৃষিভাণ্ডারখ্যাত চলনবিল অঞ্চলের গুরুদাসপুর, সিংড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর এলাকায় দিন দিন কৃষি শ্রমিক হিসেবে নারী শ্রমিকরা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। শুধু কৃষি শ্রমিক হিসেবে নয়, গৃহস্থালি, রাস্তাতে মাটিকাটা ও গৃহনির্মাণ কাজে জোগালিসহ বিভিন্ন প্রকার কাজকর্মে নারীদের অংশগ্রহণমূলক কাজের পরিধি বর্তমানে চোখে পড়ার মতো- তারা তাদের শ্রম দিয়ে দেশ তথা জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, তারা তাদের শ্রম যথাযথভাবে প্রয়োগ করেও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সব ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করেন। অথচ মজুরি বৈষম্যের শিকারের সম্মুখীন হন তারা। এতে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। তারা শুধু নিয়মিতভাবে কাজ চান বেঁচে থাকার তাগিদে। তাদের মধ্যে রয়েছে শুধু বুকভরা হাহাকার আর হতাশা। সব মিলিয়ে জীবনযুদ্ধে নারীদের নিবেদিত এক বলিষ্ঠ যোদ্ধার আমরণ-আপোসহীন সংগ্রামের চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে পুরো চলনবিল অঞ্চলে। এক সময়ে আবহমান বাংলার নারীদের নরম হাতে রঙ-বেরঙের চুড়ি শোভা পেতো, বর্তমান সময়ে সে হাতে চুড়ির বদলে তাদের নিত্যসঙ্গী হয়েছে কৃষিকাজের সরঞ্জাম কাঁচি, কোদাল, হাতুড়ি কিংবা নানা রকমের কৃষি সরঞ্জাম। কোমলমতি নারীদের হাত দিয়ে তারা কৃষিক্ষেতে অধিক ফসল ফলানোর জন্য তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম সেরে তারা পৌঁছে যান তাদের আরেক কর্মস্থলে। অথচ তাদের ঠিকমতো খাওয়া ও বিশ্রামের সময় নেই। জীবন-জীবিকার তাগিদে জীবনে বেঁচে থাকার জন্য তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাছাড়া নারী শ্রমিকরা অধিকাংশই কৃষিকাজের বিভিন্ন অঙ্গনে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ধানের চাতালে ধান শুকানোর শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় রাস্তায় মাটিকাটার কাজে নিয়োজিত গুরুদাসপুরের শেফালী বেগম ও হাওয়া বেগমের সঙ্গে। তারা বলেন, এত পরিশ্রমের পরেও নারীরা কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একজন পুরুষ শ্রমিক প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০টাকা হিসেবে পারিশ্রমিক পান, সেখানে নারী শ্রমিকরা প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পারিশ্রমিক পান। এ টাকা দিয়েই তারা তাদের সংসার চালান। এ ছাড়াও তারা শিক্ষা, চিকিৎসা, সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীরা বেঁচে আছেন সমাজে অবহেলিত হয়ে, দরিদ্রতার কষাঘাতে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে তাদের সকল স্বপ্ন-সাধ। একই কাজ করে নারীরা পুরুষদের চেয়ে অর্ধেক মজুরি পাচ্ছেন না। নামমাত্র মজুরি তাও কাজ না পাওয়ার ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস তাদের মধ্যে নেই। এ সকল নারীর মধ্যে বেশিরভাগ নারী বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত, আবার কেউ কেউ আছেন অধিক সন্তানের জননী- অভাবের তাড়নায় তারা এ পেশাকে জীবনে বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সমাজের এ সকল অবহেলিত নারীকে নিয়ে অনেক দেশি-বিদেশি সংস্থা সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কাজ করছেন, এ নিয়ে সমাজের ভদ্রলোকদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
অন্য নারী শ্রমিকরা জানান, নিতান্তই ক্ষুধার জ্বালা মেটানোর জন্য তারা এ পেশাকে বেছে নিয়েছেন। কাজ পাবেন না এ ভয়ে তারা মালিকদের মজুরি বেশি দেওয়ার কথা বলতে সাহস পান না। এ অঞ্চলের বাস্তবতা হলো অধিকাংশ নারী শ্রমিকের বসবাস রাস্তার পাশে অথবা অন্যের জায়গায় ঘর তুলে। তাদের দেখার মতো কেউ নেই। সমাজের সর্বস্তরের বিত্তশীল মানুষেরা যদি নারীদের পাশে এসে দাঁড়ান তাহলে তাদের প্রতিটি পরিবারে অর্থনৈতিক মুক্তি ও সচ্ছলতা আসবে বলে মনে করেন অনেকেই।

স/এষ্