তুরাগে এক প্রতারক গণধোলাইয়ের শিকার
স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজধানীর তুরাগে প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক মানুষ জনের টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জাকির হোসেন (৫০) নামে একজনকে গণধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তুরাগের নয়ানগর মোল্লা পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত সেকান্দার আলীর ছেলে জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আয়ুর্বেদী চিকিৎসক ও ইয়াকিন নামক একটি মাল্টিপারপাস লিমেটেড কোম্পানির মালিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অসংখ্য লোকজনের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই প্রতারকের খপ্পরে পড়ে এলাকার অনেকে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে গুরুত্বর অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
পুরান কালিয়ার রোকোনুজ্জামান, মোসাঃ কিরন মালা, মোঃ খোকন কবিরাজ, শুক্রভাঙ্গার মোঃ ইকবাল হাসান, নয়ানগর এলাকার মমিন মোল্লাহসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অসংখ্য মানুষজনকে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক জাকির । এসব বিষয় নিয়ে এলাকায় একাধিকবার বিচার সালিশও হয়। কিন্তু পাওনাদাররা তাদের পাওনা টাকা কোন ক্রমেই ফেরত পাচ্ছেনা এই প্রতারকের কাছ থেকে ।
প্রায় ৩ বছর পূর্বে জাকির ও তার স্ত্রীর নিজ নামিয় আড়াই কাঠা জমি বিক্রির কথা বলিয়া ও ৬১ লক্ষ টাকা মূল্য নির্ধারণ করিয়া ৪১ লক্ষ টাকা বায়না বাবদ নেয় নয়ানগর মোল্লা পাড়া এলাকার বাসিন্দা ও তুরাগ থানা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সোহরাব মোল্লা এবং তার ভাগিনা রোকনুজ্জামানের নিকট থেকে ।
বায়নার টাকা নেওয়ার সময় ৩মাসের মধ্যে উক্ত জমিটি রেজিস্ট্রি করে দিবে মর্মে অঙ্গীকার করে প্রতারক জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী । পরে উক্ত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও জমিটি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে বিভিন্ন রকম তাল বাহানা করতে থাকে প্রতারক জাকির দম্পতি ।
এক পর্যায় ক্রেতা সোহরাব মোল্লা ও রোকনুজ্জামান জানতে পারে জমিটি একটি ব্যাংকে মর্টগেজ দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা লোণ নিয়েছেন প্রতারক জাকির দম্পতি । পরে কোন উপায় অন্ত না পেয়ে ক্রেতা সোহরাব মোল্লা ও রোকনুজ্জামান তাদের বায়না বাবদ দেওয়া ৪১ লক্ষ টাকা ফেরত চান জাকির দম্পতির নিকট ।
এসময় জাকির দম্পতি অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বায়নার টাকা পরিশোধ করবে মর্মে অঙ্গীকার করে । নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর সোহরাব মোল্লা ও রোকনুজ্জামান তাদের বায়নার টাকা চাইলে এক মাসের সময় চান জাকির হোসেন । তারপর একাধিকবার সময় নিতে থাকেন জাকির হোসেন দম্পতি । এই ভাবে কেটে যায় প্রায় ১ বছর । তার পর উক্ত বিষয়টি স্থানীয় ৫৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে জানান ভুক্তভোগী সোহরাব মোল্লা ও রোকনুজ্জামান ।
পরে কাউন্সিলরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক বিচার সালিশ হয় । উক্ত বিচার সালিশে ১ মাসের মধ্যে সোহরাব মোল্লা ও রোকনুজ্জামানের সমস্থ পাওনা টাকা পরিশোধ করে দিবে মর্মে অঙ্গীকার করেন জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী । কিন্তু সেই সময় অতিক্রম হওয়ার পরেও তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করিয়া একাধিকবার ডেট নিতে থাকে প্রতারক জাকির হোসেন । এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মার্চ উক্ত টাকা দেওয়ার ডেট দেয় জাকির হোসেন । তাই ডেট মত তার বাড়িতে সোহরাব মোল্লা তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে সাথে নিয়ে টাকা চাইতে যায় । এসময় সোহরাব মোল্লার পাওনা টাকা না দিয়া উল্টো গালিগালাজ করে জাকির হোসেনসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ।
এসময় সাদ্দাম হোসেন এর প্রতিবাদ করলে তাকে সহ তার বাবা সোহরাব মোল্লাকে শারীরিক ভাবে নাজেহাল করে জাকির হোসেনসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা । আর এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে প্রতারক জাকির হোসেনকে গণধোলাই দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় ।
পরে জাকির হোসেন তুরাগ থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করলে ঘটনাস্থলে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ছুটে যান অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা তুরাগ থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক ( এস আই ) আব্দুর রহমান । তার পর পুলিশের সামনেই জাকির হোসেনর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সোহরাব মোল্লার ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে প্রহার করার চেষ্টা করে ।
এক পর্যায় সাদ্দাম হোসেনের হাতে থাকা একটি আইফোন ছিনিয়ে নেয় জাকিরের মেয়ে এবং উপস্থিত সকলের সামনেই সেই মোবাইল ফোনটিকে আছড়িয়ে ভেঙ্গে ফেলে । এ বিষয় জানতে এস আই আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারনা করা হচ্ছে জাকির হোসেনের কাছে এলাকার অনেকে টাকা পয়সা পাওনা রয়েছে । সে পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধ না করিয়া দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন রকম তাল বাহানা করে আসছে । এক কথায় সে চিটার প্রকৃতির লোক । বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।
একটি সূত্র জানায়, সোহরাব মোল্লার এক পুত্রবধূ প্রতারক জাকিরের ইয়াকিন নামক মাল্টিপারপাস লিমেটেড কোম্পানিতে ১৫ লক্ষ টাকা জমা রেখেছেন, কিন্তু সেই টাকাও ফিরত না দিয়ে বিভিন্ন রকম তালবাহানা করতেছে প্রতারক জাকির হোসেন।
স/বি

