ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৩ এপ্রিল ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

তাপস নিঃশ্বাস বায়ে, মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে

admin
এপ্রিল ১৩, ২০১৭ ৭:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’, ১৪২৩ বঙ্গাব্দকে বিদায় জানিয়ে পুরনো জরা ও গ্লানি ঝেড়ে ফেলে পহেলা বৈশাখের নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎসবের আমেজে বাঙালি ১৪২৪ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নেবে। আবহমানকাল ধরে এ দেশের মানুষ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নববর্ষ পালন করেআসছে। নতুন বছরের প্রথম দিনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে থাকছে উৎসব-আয়োজন। সবকিছুতেই খুঁজে পাওয়া যাবে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার প্রয়াস। দোকানিরা সারা বছরের হিসাব মিলিয়ে খুলবেন হালখাতা। দেশের নানাপ্রান্তে জমবে জমজমাট বৈশাখী মেলা।

পহেলা বৈশাখ বাঙালির অন্যতম প্রধান সর্বজনীন উৎসব হয়ে উঠেছে। এ কারণেই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সি বাঙালি নব নব আনন্দে বৈশাখী উৎসব উদযাপন করছেন। শহর-বন্দর থেকে শুরু করে গ্রাম-গ্রামান্তরে, পথে-প্রান্তরে, সর্বত্র বৈশাখী মেলায় গণমানুষের যে মিলনমেলা জমে, তা আর কোনো উৎসবে দেখা যায় না। বিশেষ করে, বাংলাদেশের মানুষ এ উৎসবকে সার্বজনীন কৃষ্টি ও সংস্কৃতি হিসেবে মেনে নিয়েছেন। বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও মহাসমারোহে ও সাড়ম্বরে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়। বঙ্গাব্দের প্রথম দিনটিতে বিপুল উৎসাহ এবং উদ্দীপনার সঙ্গে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান পশ্চিম বাংলায় আয়োজিত হয়ে থাকে। বাংলার গ্রামীণ এবং নাগরিক জীবনের মেলবন্ধন সাধিত হয়ে সকলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আনন্দে একসূত্রে বাঁধা পড়েন।

নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণী দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেত। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহে সরকারিভাবে চালু হয়েছে বৈশাখী ভাতা, যা উৎসবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। তবে বেসরকারি সেক্টরে এখনো তা চালু হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার সকালে গণভবনে দলের নেতাদের সঙ্গে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। শুক্রবার সকাল ১০টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ে শরিক হবেন।

পহেলা বৈশাখ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বর্ষবরণের উৎসবে জঙ্গি হামলা বা অন্যকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ষবরণের উৎসব ঘিরে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সন্ধ্যার আগেই বর্ষবরণের উৎসব শেষ করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ আশপাশ এলাকায় বর্ষবরণের উৎসব ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় আজ শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাজধানীতে বর্ষবরণের আয়োজন

ছায়ানট : প্রথম প্রভাতেই রমনার বটমূলের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছায়ানট ভোরের সূর্যের আলো দেখার সঙ্গে সঙ্গেই অর্থাৎ ভোর ছটা দশ মিনিটে সরোদবাদন দিয়ে শুরু করবে বর্ষবরণের মূল অনুষ্ঠান। রমনায় ছায়ানটের অনুষ্ঠানের অর্ধ শতাব্দী পূরণ উপলক্ষে এবারের আয়োজন হবে বড় ও তিন পর্বে বিভক্ত। বেলা দশটা নাগাদ অনুষ্ঠান শেষ হবে দেওয়ানা মদিনা লোকপালা দিয়ে। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য- ‘আনন্দ, বাঙালির আত্মপরিচয়ের সন্ধান ও অসাম্প্রদায়িকতা’।

মঙ্গল শোভাযাত্রা : চারুকলার শিক্ষার্থীরা সকাল ৯টায় বের করবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য করা হয়েছে-‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর…’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ হাজারো বাঙালি। ইউনেস্কো বর্ষবরণের এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়ায় চারুকলা অনুষদ বিগত ২৮ বছরের উল্লেখযোগ্য মোটিফগুলো এবারের শোভাযাত্রায় রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ঋষিজ : শিশু পার্কের প্রবেশদ্বারে নারকেলবিথী চত্বরে গত ৩৪ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ঋষিজের বৈশাখী আয়োজন। এতে ঢাকা ও ভারতের শিল্পীরা ছাড়াও সঙ্গীত পরিবেশন করবেন গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর।

শিশু একাডেমী : শিশু একাডেমীর শহীদ মতিউর মুক্তমঞ্চে সকাল ৯টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একাডেমীর চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ‘বৈশাখে রং লাগাও প্রাণে’ এই শিরোনামে ক্যানভাসে ছবি এঁকে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন। এই আয়োজনটি বাংলাদেশ শিশু একাডেমী কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ ৬৪টি জেলা ও ৬টি উপজেলায় একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট : পয়লা বৈশাখের দিন বিকাল ৪টায় রাজধানীর মিরপুর, দনিয়া রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে একক ও দলীয় লোকসঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তিসহ নানা আয়োজন পরিবেশন করবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

বাংলা একাডেমিতে বৈশাখী মেলা : বাংলা একাডেমি সকাল সাড়ে ৭টায় একাডেমির রবীন্দ্র-চত্বরে বর্ষবরণ উপলক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে একাডেমি ‘বইয়ের আড়ং’ শিরোনামে পহেলা বৈশাখ থেকে ১০ বৈশাখ পর্যন্ত বইমেলার আয়োজন রেখেছে। এছাড়া ১০ দিনব্যাপি বৈশাখী মেলার আয়োজনও আছে একাডেমি চত্বরে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন।

চ্যানেল আই ও সুরের ধারা: বর্ষবরণ উপলক্ষে চ্যানেল আই ও সুরের ধারা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে ৬ষ্ঠবারের মত আয়োজন করেছে ‘সানসিল্ক হাজারো কণ্ঠে’ বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। এখানে মেলার আয়োজনও থাকবে। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল আই।

চট্টগ্রামে বৈশাখী আয়োজন: বর্ষবরণ উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ, নববর্ষ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবসহ সংগঠনগুলো বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। নগরীর ডিসি হিলে বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করেছে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ। চট্টগ্রামে বর্ষবরণের সবচেয়ে বড় আয়োজন এটি। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির উৎসব, সবার যোগে জয়যুক্ত হোক’ শ্লোগানে ২ দিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু হচ্ছে। আগামীকাল ভোর ৬টায় উস্তাদ স্বর্ণময় চক্রবর্তীর বিলাসখানি তোড়ি রাগ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নববর্ষের অনুষ্ঠানমালার সূচনা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ঢোলক বাদন, গান, আবৃত্তি, নৃত্য, নাটক, কবিগান, লালনগীতি, মাইজভাণ্ডারি ও মরমী গান, সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় দলীয় সঙ্গীত, বৃন্দ আবৃত্তি, কবিতা পাঠ এবং বৈশাখী মেলা।