রাজধানীর পল্টনে কালভার্ট রোডে ওয়াসার খোলা ম্যানহোলে পড়ে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার ঘটনায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) তলব করেছেন হাইকোর্ট।
আগামি ১৯ মার্চ দুইজনকে হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ ঘটনার বিষয়ে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা দিতে হবে। মঙ্গলবার (০৭ মার্চ) বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।
পাশাপাশি রুলও জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে ম্যানহলে পড়ে ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় বিবাদীদের কর্তব্যকাজে অবহেলা, যার প্রেক্ষিতে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যক্তির মৃত্যর ঘটনায় তাদের কেন দায়ী করা হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
এছাড়াও মৃত ব্যক্তির পরিবারকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
রুলে স্থানীয় সরকার সচিব, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পল্টন এলাকার ড্রেনেজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) রুলে বিবাদী করা হয়েছে।
আদেশের আগে আদালত বলেন, ‘পল্টনে খোলা ম্যানহোলে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু’ শীর্ষক প্রতিবেদন আমাদের নজরে এসেছে। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, মাসাধিককাল ম্যানহোল ঢাকনা ছাড়া খোলা থাকে। এতে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ থাকে না। এভাবে মানুষ মারা যাবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।
পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রাজধানীর পল্টনে কালভার্ট রোডে ঢাকা ওয়াসার খোলা ম্যানহোলে পড়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কয়েক দিন ধরে কালভার্ট রোডের পল্টন টাওয়ারের সামনে ম্যানহোলের প্রায় ৪০ বর্গফুট আয়তনের একটি ঢাকনা খোলা ছিল। কিন্তু এখানে কোনো সতর্কবার্তা বা চারপাশে সংকেত ছিল না। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই ব্যক্তি এই সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় খোলা ম্যানহোলে পড়ে যান। এ সময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। রাত ৭টা ২০ মিনিটে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের কর্মীরা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
স/শা

