ঢাকারবিবার , ২২ অক্টোবর ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

টানা বৃষ্টিতে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধি: ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

admin
অক্টোবর ২২, ২০১৭ ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

টানা বৃষ্টিতে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধি: ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

টানা বৃষ্টিতে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার প্রায় ৫০টি গ্রামের বাসিন্দা।

শুক্রবার দুপুরে পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩/৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পানি বৃদ্ধিতে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের বসতঘর ও ফসলের খেত তলিয়ে গেছে। ফসলের খেতে পানি জমে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

পানিতে তলিয়ে গেছে নলছিটির ষাটপাকিয়া ও কাঠালিয়ার আমুয়া বন্দরের ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে। এতে বিভিন্ন রুটের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, শুক্রবার এ অঞ্চলের ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে হাল্কা ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। শনিবারের ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বৃষ্টিপাত এবং ভারিবর্ষণ ও বজ্রসহ ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী ও হালতা নদীতে নিম্নচাপের কারণে জোয়ারের পানি ৩/৪ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার চার উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মাছের ঘের, আমন ধানের খেতসহ হাজার হাজার একর জমির ফসল ও ফসলি জমি। শহরের লঞ্চঘাট থেকে কাঠপট্টি ট্রলারঘাট পর্যন্ত শহর রক্ষাবাঁধ উপচে ভিতরে ভিতরে পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে গেছে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি। পুরাতন কলাবাগান চর এলাকায় হালিমা-মোয়াজ্জেম হোসেন প্রাথমিক বিদ্যালয়, হালিমা-ইউসুফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ দেড় শতাধিক বাড়ির মানুষগুল পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বৃদ্ধ খালেক হাওলাদার ও তার স্ত্রী বৃদ্ধা আনজারা বেগম বলেন, সিডরের সময় ঘর ভেঙে গেছে। অনেকে অনেক কিছু পেলেও পাইনি আমরা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙা ঘরের ভেতর পানি ঢুকে। ঘরের খাডাল (ফ্লোর) কাদা হয়ে গেছে। নাতি-নাতনি নিয়ে ভেজা ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে থাকায় অসুখ-বিসুখ হচ্ছে।

স্থানীয় হাসান মাহমুদ জানান, গত এক যুগেরো বেসি সময় দড়ে ঝালকাঠি পৌরসভা খেয়াঘাটে কোন শিড়ি না থাকায় এখানকার মানুষ গুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার হয়। এখানকার মানুষ খেয়া পাড়াপাড়ের জন্য একটি শিড়ি জরুরী হয়ে পরেছে।

স্থানীয় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আ. হামিদ খান বলেন, কয়েকবার সাইক্লোন শেল্টারের জন্য বরাদ্দ এনেছিলাম। কিন্তু তা এখানে প্রয়োজন হলেও কর্তৃপক্ষ এখান থেকে বরাদ্দটি সরিয়ে নেয়। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি হলেই স্কুল ছুটি দিতে হয় এবং এ এলাকার বাসিন্দাদের জলাবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ওই ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিদর্শন ও বাসিন্দাদের খোঁজখবর রাখছি। নিচু ও ঘনবসতি এলাকায় একটি সাইক্লোন শেল্টার অতি প্রয়োজন। কৃষ্ণকাঠি জেলে পল্লীতে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং সুতালড়ি পুলিশ লাইনের পেছনে রাস্তা উপচে পানি গড়িয়ে যাচ্ছে।

কাউন্সিলর মো. দুলাল হাওলাদার জানান, জেলে পল্লীতে বৃষ্টির পানি অপসারণের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। একটি পাইপ বসিয়ে পানি অপসারণের চেষ্টা করা হয়েছে। সুতালড়ি পুলিশ লাইনের পেছনের রাস্তার জন্য কয়েকবার প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তারা অনুমোদন না দেয়ায় রাস্তা করা সম্ভব হয়নি। এখন পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

স/মা