মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কাঠাদিয়া- শিমুলিয়া, ধীপুর,যশলংসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন জমিতে কৃষকরা তামাক চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। মুন্সীগঞ্জে সব ধরনের সবজি আবাদের জন্য এই জেলার মাটির ব্যাপক গুনাগুন রয়েছে। বিশেষ করে আলু উৎপানে। কিন্তু জেলার কোথাও তামাক চাষ না হলেও প্রতি বছরের ন্যায় এবারও টঙ্গিবাড়ীতে কিছু চাষী তাদের জমিতে তামাক চাষ করেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমিতে চাষকৃত তামাক এখন ঘরে তোলার পালা। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কৃষকরা জমি থেকে কাঁচা পাতাগুলো বাড়ীতে এনে প্রক্রিয়াজাত করেন। প্রথমে ডালপালা ছাটাই করে পাতাগুলোকে লম্বা বোটাসহ রোধে শুকাতে দেন। তখুনি তামাকের গ্যাস বাতাসে মিশে যায়। এতে করে এলাকার সব বয়সের মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যায়।রোধে শুকানোর সময় তামাক পাতার গন্ধে পথ দিয়ে হাঁটলে নাক, মুখ বন্ধ হয়ে আসে। এমনটাই জানিয়েছে স্থানীয় অনেকে।
তামাক চাষী জলিল জানান, তামাক চাষে তেমন একটা সার লাগেনা। খাটুনি কম অল্প টাকায় অধিক জমিতে চাষ করা যায়। অধিকাংশ খরচ তামাক প্রক্রিয়াজাতকরন কোম্পানির প্রতিনিধিরাই দিয়ে থাকেন। অন্য ফসলে খরচ বেশী। এটা তো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জানি এটা ক্ষতি ,অল্প খরচে বাড়তি আয়ের জন্য এবার জমিতে তামাক আবাদ করেছি।
মুন্সীগঞ্জ সরকারী বক্ষব্যাধী হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: মির্জা মো: ইদ্রিস আলী বলেন, তামাকজাত দ্রব্য সেবন বা ব্যবহারে হৃদরোগ, ফুসফুসে কিউবেটি এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। রোধে শুকানো তামাক পাতার ঝাঁজ শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
সিভিল সার্জন ডা: মো: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তামাকের আগাগোড়া সবটাই ক্ষতিকর। এটা ব্যক্তি এবং সামাজিক জীবনের জন্যও ক্ষতিকর। রয়েছে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও। বক্ষব্যাধী রোগের অন্যতম কারন হচ্ছে তামাকজাত দ্রব্য। কৃষকের অন্যান্য সব ধরনের ফসল ফলাতে পরামর্শ প্রদান করা এবং তামাক চাষের ব্যাপারে চাষীদৈর নিরুৎসাহিত করা একান্ত প্রয়োজন। সামাজিকভাবেও কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
স/শা

