মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড়া বাজারে সরকারী খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় মিজান খাঁন নামের এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা বাজারে থাকা তিনটি সরকারী ভিটি দখল করে দ্রুত গতিতে ভবন নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে।
দিঘিরপাড়া বাজারের একাধিক দোকান মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখান থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দক্ষিনে থাকা ছিলো দিঘিরপাড় বাজার।
বাজারটি যখন পদ্মার ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন হয়। সরকার তখন এই বাজারটির পুরো জায়গা একোয়ার করে বাজার বসানোর জন্য ভিটি বরাদ্ধ দেন। সরকার প্রতি দোকান মালিককে ২২ফিট/১৫ ফুট করে ভিটি বরাদ্ধ দেয় ।
সেখানে ভিটি বরাদ্ধ প্রাপ্ত দোকান মালিকরা টিনের ঘর তৈরী করে দোকান চালিয়ে আসছিলো। ওই সময় ভিটি বরাদ্ধ প্রাপ্তরা হলেন, সেলিম হালদার, মান্নান শেখ ও সুমন মালত ।
বর্তমানে মিজান খাঁন সেলিম খাঁনের অংশ কিনে নিয়ে মান্নান শেখ ও সুমন মালত অংশসহ তিনটি ভিটি দখল করে ২য় তলা বিশিষ্ট ভবন তৈরীর কাজ করছেন। ইতিমধ্যে ভবনটির ৬৫ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।
ভবনটিতে ১০টি দোকান তৈরী হয়েছে নিচতলায়। ভরা বাজারে খাস ভিটা দখল করে ভবন তৈরীর দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা অবাক হন। স্থাণীয় প্রভাবশালী বিএনপির এই নেতা ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই চালিয়ে যাচ্ছে ভবন তৈরীর কাজ । বাজারের পাশে থাকা ইউনিয়ন ভুমি অফিস কর্মকর্তা এস এম গিয়াসউদ্দিন নিজেই জানেন না ভবন তৈরীর বিষয়টি।
মিজানখাঁনের ভবন তৈরীর বিষয়ে দিঘিরপাড় বাজার কমিটির সভাপতি আরিফ হালদার বলেন ও সাধারন সম্পাদক রফিজল মোল্লা দখলের বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি।
সরেজমিনে দুপুর বেলা দিঘিরপাড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দ্রুত গতিতে চলছে ভবণ নির্মান কাজ । ২য় তলা বিশিষ্ট ভবনের নিচ তলার ১০ টি দোকান এবং দ্বিতীয় তলার ছাদ তৈরীর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ।
এ সময় ভবন তৈরীর বিষয়ে জানতে মিজান খাঁনকে ফোন করিলে তিনি বলেন, আমি ভিটিগুলো কিনে নিয়েছি আমার কাছে কাগজ আছে। ভবন তৈরী করার অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাকা ভবন তৈরী করেছি এটা বৈধ কিনা অবৈধ সেটা জানিনা। তৈরী করেছি এখন সরকার যদি অবৈধ মনে করে ভেঙ্গে দিবে ।
পরে মুলচর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে ভূমি কর্মকর্তা গিয়াস ভুমিদস্যু মিজান খাঁনের পক্ষ নিয়ে বলেন আমি তাকে কাগজপত্র নিয়ে দেখা করতে বলেছি বলেই তার দায়িত্ব এড়িয়ে কাজের ব্যস্থতা দেখিয়ে অফিস ত্যাগ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা¤œৎ হাছিনা আকতার বলেন, বিষয়টি জানান পর পর ঘটনাস্থলে নায়েবকে পাঠিয়েছি। নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। অভিযান করে নির্মানাধীন ভবনটি উচ্ছেদ করার প্রক্রিয়া চলছে।
স/এন

