টানা বৃষ্টির পর জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনের নোংরা পানি মিশে একাকার হয়ে গেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে রাজধানীর জুরাইন, দয়াগঞ্জ, যাত্রাবাড়ীর মীরহাজারীবাগ, মোল্লাপাড়া, পাড়-গেন্ডারিয়া, নামাপাড়া, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, কলাবাগান, নিউ মার্কেট, জুরাইন, খিলগাঁওয়ের উত্তর গোড়ান, সিপাইবাগ, মেরাদিয়া, বনশ্রী-৮ নং সড়ক, রামপুরা, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ, নাখালপাড়া, বাড্ডা, ফকিরাপুলসহ খিলগাওয়ের নিম্নাঞ্চল।

বুধবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর নিম্নাঞ্চল এলাকার বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়কগুলো ডুবে গেছে। শুধু নিম্নাঞ্চল নয়, অনেক উঁচু জায়গা ও রাস্তায় পানি জমেছে। পানি ঢুকে পড়েছে মার্কেট, দোকানপাট, বাসা বাড়ি ও মসজিদ। বাসায় পানি ঢোকায় বন্ধ হয়ে গেছে অনেক বাসা বাড়ির রান্নার কাজ।
মীরহাজারীবাগের বাসিন্দা হালিম হায়দার নতুন সময়কে বলেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাসার রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। পানি ঘরে ঢুকে এখন থাকার খাট পর্যন্ত উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেলো, মীরহাজারীবাগের মোল্লাপাড়ায় কোমর পর্যন্ত পানি জমেছে। পানি বন্দি বাসা বাড়ির লোকজনেরা তাদের ঘরের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। আর দয়াগঞ্জ নতুন সড়কে কোমর পর্যন্ত পানি উঠায় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন চলাচল।
দয়াগঞ্জ সড়কে পানি উঠায় আনন্দ পরিবহনের একটি গাড়িকে পানিতে আটকে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ কারণে দীর্ঘক্ষণ যাত্রীদের বাসে বসে অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে যাত্রীরা নেমে বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে চালু করতে সহায়তা করে।
মোল্লাপাড়ার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এলাকার যে অবস্থা তাতে ঘরে মালামাল রাখলে নষ্ট হয়ে যাবে। এ কারণে আমার এক আত্মীয়ের বাসায ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখে আসতেছি।
অনেক দোকান-পাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেকের ব্যবসা বাণিজ্যে ক্ষতি হয়েছে। দোকানে পানি ঢুকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানালেন মায়ের দোয়া স্টিলের মালিক সালাউল্লাহ আকাশ।
তিনি নতুন সময়কে বলেন, দোকানের ভেতরে ১০ টি রং করা সুকেস নষ্ট হয়ে গেছে। রংয়ের কৌটাগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কাজ করতে পারছে না দোকানের কর্মীরা।
স/এষ্

