জরুরী বিভাগের রোগী নিয়ে টানা হেচড়া নিত্যদিনের ঘটনা আটপাড়া হাসপাতালে যন্ত্র আছে টেকনিশিয়ান নাই
নেত্রকোণা থেকে মো: আসাদুজ্জামান খান সোহাগ-
আটপাড়া উপজেলার প্রায় ২ লাখ জনগোষ্ঠীর একমাত্র চিকিৎসা সেবার আশ্রয় স্থল উপজেলা সরকারি হাসপাতালটি। এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে চলমান আছে। বর্তমানে হাসপাতালটি ৩০ শর্য্যা থেকে ৫০ শর্য্যায় উন্নীত করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে মোট ১৭ টি ডাক্তারের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আছেন ০৫ জন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ কাগজে কলমে ৯ জন ডাক্তার থাকলেও বাস্তবে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন তারা। নিয়মিত সকল ডাক্তার কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে উপজেলাবাসী।
এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাস্তবে এর কোন সুফল বয়ে আনছে না। হাসপাতালের ওয়ার্ড, টয়লেট ও বিছানার আসবাবপত্র অপরিচ্ছন্ন ও অগুছালো। রোগী ছাড়পত্র গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহৃত বিছানার আসবাবপত্র পরিচ্ছন্ন করার বিধান থাকলেও তা না করে একই বিছানায় অপর রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়। জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের হয়রানির শেষ নেই।
বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি ও স্থানীয় ফার্মেসীর মালিকগণ রোগী নিয়ে টনা-হেচড়া শুরু করেন। স্বল্প পরিসরে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ থাকলেও ফার্মেসীর মালিক ও বিক্রয় প্রতিনিধিদের আবদারে অপ্রয়োজনীয় অধিক দামের নামে-বেনামী কোম্পনারীর ঔষধে রোগীদের চিকিৎসা নিতে বাধ্য করা হয়।
জরুরী বিভাগের সাথে ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধি ও ফার্মেসী মালিকদের বিশেষ সুসম্পর্ক রয়েছে।এক্স-রে মেশিনটি বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত স্থাপন করা হয়নি। এক্স-রে মেশিনটি পরিচালানার জন্য নেই টেকনিশিয়ান।
এছাড়া আন্ট্রাসনোগ্রাফী মেশিনটিও বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে স্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফী মেশিনটি স্থাপন এবং টেকনিশিয়ানের অভাবে রোগীদের কোন উপকারে আসছে না। এতে হাসপাতালে আসা দূরদূরান্তের রোগীরা বেশী খরচে জেলা সদরে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইসিজি মেশিনটি সক্রিয় থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে রোগীরা এর সুফল ভোগ করতে পারছেন না। হাসপাতালে ল্যাবের কার্যক্রম চলমান থাকলেও তা যথাযথ নয়।
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালের করোনা ইউনিট থেকে এ পর্যন্ত ৩ জন করোনা রোগী সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এ পর্যন্ত উপজেলায় করোনা ভ্যাকসিনের ১ম ও ২য় ডোজ দেয়া হয়েছে ৩৪২৭ জনকে। এর মধ্যে পুরুষ ১৯৩২ ও মহিলা ১৪৯৫ জন।
সার্বিক বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শরীফ আহমেদ বলেন, পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা গুলো উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে এবং শূণ্য পদে ডাক্তারের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পত্র লেখা হয়েছে। জরুরী বিভাগের বিষয়টি তদন্তক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স/বি

