জবি প্রতিনিধি (জি এ এমমাহফুজ আলম): “Let’s enlarge our bonding” স্লোগান কে ধারণ করে অর্থনীতি পরিবার আয়োজন করে নৌ-বিহার ও বিদায় সংবর্ধনা-২০১৭। গত বুধবার (১মার্চ ২০১৭)সকাল ৮.৩০ মিনিটে বিভাগের সামনে থেকে শুরু হয় এ যাত্রা। আয়োজক কমিটির প্রধান আহ্বায়ক অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন- প্রায় ৭০০ ছাত্র-ছাত্রির এ স্বতঃস্ফূর্ত আজকের এই আয়োজন আমাকে যেমন আনন্দিত করেছে ঠিক তেমনই এটি একদিকে মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে অন্যদিকে আমাদের ৬ষ্ঠ ব্যাচের বিদায় হৃদয়ে কষ্টের দাগ অনুভূত হচ্ছে। এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. প্রিয়ব্রত পাল। এছাড়াও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ও নীল দলের সভাপতি এবং এ বিশাল নৌ-বিহারের স্বপ্নদ্রষ্টা অধ্যাপক ড. মোঃ আইনুল ইসলাম, বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলাম।
চাদপুরের উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছাড়ার পরই মেধাবি ছাত্র জবি অর্থনীতি বিভাগ শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এম এ মমিন এর উপস্থাপনায় ও ড. মোঃ আইনুল ইসলাম এর সভাপতিত্তে আলোচনা সভা ও বিদায় সংবর্ধনা-২০১৭।উক্ত অনুষ্ঠানে ১-১২তম ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন। আলোচনা শেষে বিদায়ী সকলের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. প্রিয়ব্রত পাল এবং অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ও নীল দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ আইনুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. প্রিয়ব্রত পাল বলেন এটি অর্থনীতি বিভাগের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যা আর কোন বিভাগ আয়োজন করতে পারিনি, এখানে যেমন ১-১২ তম ব্যাচের সকলের অংশগ্রহন রয়েছে আবার অন্যদিকে ৬ষ্ঠ ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা ও রয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ও নীল দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ আইনুল ইসলাম- বর্তমান ও সাবেকদের এ মিলনমেলাকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করে বলেন, সামনে এ বিভাগ আরও উদ্ভাবনী বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করবে যেখানে সকলের উপস্থিতি একান্ত কাম্য, অন্যদিকে বিদায়ীদের প্রতি শুভকামনা ও আয়োজনে অংশগ্রহনকারি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। এ বিষয়ে ট্যুরের সমন্বয়ক ৬ষ্ঠ ব্যাচের মেধাবি ছাত্র গাজী আবু হোরায়রার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- এত বড় আয়োজন করা আমাদের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল, যা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পেরে মহান প্রভুর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, সাথে সাথে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি আয়োজক কমিটির সকলকে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই অনুষ্ঠানটি সার্থক হয়েছে।
বেলা ২.০০ টার দিকে দুপুরের খাবারের বিরতি দেয়া হয়। খাবার শেষে শুরু হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে পারফর্ম করে সকল ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীরা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। নাচ, গান, কবিতা আবৃতি, মুখাভিনয় নাটক ছাড়াও এ অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘গল্প ব্যান্ডের’ কনসার্ট। নবম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ‘ভালবাসার গ্যারাকল’ নামক কমেডি নাটক ও একাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা শিক্ষামূলক “শিক্ষাগুরুর মর্যাদা” নাটক পরিবেশন করেন। সবশেষে অনুষ্ঠানের সঞ্চালকও প্রধান সমন্বয়ক এম এ মমিন আয়োজক কমিটির শিক্ষক সহ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও বন্ধু আবু হোরায়রা, মাসুম, সিরাজ, মমিন, নাজিম, খালিদ, জসিম, আব্দুল কাহহার, মহুয়া, শম্পা সহ সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।
স/ এষ্

