ঢাকাশনিবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

জঙ্গিদের হাতে আইএমইআই নম্বরহীন চোরাই মোবাইল!

admin
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গোপনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে চোরাই পথে আসা আইএমইআই নম্বরহীন মোবাইল সেট ব্যবহার করছে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে এ ধরনের মোবাইল সেট তারা ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে। চোরাই পথে আনা মোবাইলসেটগুলোতে ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি অর্থাৎ আইএমইআই নম্বর থাকে না, আবার একই আইএমইআই নম্বর শত শত মোবাইল সেটে থাকছে, যে কারণে দাগী অপরাধী সনাক্তে বিপাকে পড়তে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে অধরাই থেকে যাচ্ছে দাগী সন্ত্রাসীরা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে এক শ্রেণির চক্র বিশেষ করে চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে বিভিন্ন ব্রান্ডের মোবাইল সেট পাচার করছে। পরে সেগুলো রাজধানীর অভিযাত মার্কেট থেকে শুরু দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে। আর এ সেটগুলোকে নিজেকে লুকিয়ে ও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকতে সন্ত্রাসী দাগী আসামিরা ব্যবহার করছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাস্টমস, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও বাংলাদেশ রেগুলেটরি কমিশন বিটিআরসি যৌথ অভিযান চালিয়ে গত কয়েকমাসে এ ধরনের কয়েক হাজার মোবাইল সেট উদ্ধার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কুরিয়ার সম্প্রতি চীন থেকে আনা প্রায় ২২ হাজার মোবাইল সেট জব্দ করে কাস্টমসের প্রিভেনটিভ টিম। তারা কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেন এ বিপুল মোবাইল সেট আনার ক্ষেত্রে বিটিআরসির কোনো অনুমতি নেয়নি। পাশাপাশি মোবাইলগুলোর কোনো আইএমইআই (আইএমই) নম্বরও নেই। এছাড়াও যেগুলোর আইএমই নম্বর আছে একই আইএমই নম্বরের আরো অনেক সেট রয়েছে।

এছাড়া মোবাইলের যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে আনা এ সেটগুলোর যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে তাও ভুয়া। পরবর্তী গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করলে এর প্রমাণ পায়। দেখা যায় চোরাই পথে আনা মোবাইল সেটগুলোর আইএমই নম্বর থাকে না। আবার যেগুলোর থাকে সেগুলোর একই নম্বরে অনেক মোবাইল সেট থাকে। অর্থাৎ গোয়েন্দা সংস্থা বুঝতে বাকি থাকে না এগুলো সাধারণত অপরাধমূলত কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার জন্য সেটগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকরাও এ মোবাইলগুলো কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাগী আসামি গ্রেফতারে প্রযুক্তির সহায়তা অপারেশন শুরু করে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথ্য বিভ্রাটের মধ্যে পড়ে যায়। পরে বিটিআরসির সহযোগিতা চাইলেও তারা এক বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে। পরে পুলিশ বিটিআরসির বিরুদ্ধে সহযোগিতা না করার অভিযোগও তোলে। এরপরই বিটিআরটির কর্মকর্তাদের টনক নড়ে। বিটিআরসি তদন্ত করে দেখে একই আইএমই নম্বরের মোবাইল সেট শত শত। আবার দেখা যাচ্ছে কোনো মোবাইল সেটের আইএমই নম্বর-ই নেই। পরে বিটিআরসি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সহযোগিতা নিয়ে দেশব্যাপী অভিযানে নামে। সর্বশেষ গত মাসে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে অভিযান চালিয়ে এ ধরনের কয়েক হাজার মোবাইল সেট জব্দ করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, একজন অপরাধী কখনই তার নিজের পরিচয়পত্র দিয়ে মোবাইলের সিম কেনে না। পাশাপাশি সে যে মোবাইল সেট ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে এ অবস্থার ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রতিনিয়ত সমস্যার সন্মুখীন হতে হচ্ছে। অবশ্য এ ধরনের সেট ব্যবহার করছে প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন অপরাধীরা। বর্তমানে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অধিকাংশই তরুণ এবং যুবক। যারা প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন। মূলত এদের মোবাইল নম্বর ও মোবাইল সেট কোনটির-ই সঠিক তথ্য থাকছে না। বিষয়টি অনুধাবন করেই এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

রুট শাহজালাল : গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য মতে চোরাই মোবাইলের রুট হচ্ছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এক শ্রেণির চক্র কতিপয় সিএন্ডএফ এজেন্ট দিয়ে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে তারা এসব মোবাইল সেট নিয়ে এসে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সূত্র জানায়, আইএমইএ না থাকা ও একাধিক আইএমইআই নম্বরের মোবাইল সেটগুলোর মধ্যে রয়েছে স্যামসাং, সনি, সনি এক্সপেরিয়া প্রভৃতি।

ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ দলের সহকারী কমিশনার আহসানুল কবির বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা খবর পাই মোবাইলের যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে মোবাইল সেট এনে তা খালাসের চেষ্টা করছে একটি চক্র। পরবর্তীতে আমরা তল্লাশি চালিয়ে সেটি জব্দ করি। তিনি বলেন, শাহজালাল বন্দরের কুরিয়ার বা ফ্রেইট দিয়ে এসব মোবাইলের চালান বের হওয়া সম্ভব নয়। বিমানবন্দর ব্যবহার করে লাগেজ সুবিধা নিয়ে কেউ করতেও পারে। তবে আমরা সবসময় সতর্ক থাকি যেন চোরাচালান পণ্য কোনোভাবেই বের হতে না পারে। পাশাপাশি শুল্ক ফাঁকি যেন কোনো পণ্য বের হয়ে না যায়।

বিটিআরসির পরিচালক লে. কর্নেল জুবায়ের বলেন, অবৈধ সেটের আইএমইআই ঠিক থাকে না। দেখা যায় একাধিক সেটে একই আইএএমআই নম্বর। তিনি বলেন, চঁদাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধে এসব মোবাইল সেট ব্যবহার হয়। যার কারণে আমরা এর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, বিটিআরসির সহযোগীতায় আমরা এ ধরনের সেটের বিরুদ্ধে অপারেশন শুরু করেছি। মূলত অপরাধীরা তাদের নিজেকে লুকিয়ে রাকতে এ ধরনের সেট ব্যবহার করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বলেন, একই নম্বরের আইএমই যখন একাধিক হয় তখন সেটাকে ক্লোন বলে। আর এই ক্লোন সেট বিশেষ করে প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন অপরাধীরা ব্যবহার করছে। আইএমইএ নম্বর না থাকা ও একাধিক আইএমইএ কারণে অপরাধী সনাক্ত ও গ্রেফতারে সমস্যা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি আইএমইআই নম্বর না থাকা ও একাধিক আইএমইআই নম্বরের ব্যক্তিকে আমরা গ্রেফতারও করেছি।

স/শা