এম.এম.রহমান,মুন্সীগঞ্জঃ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের সৈয়দপুরে অবৈধভাবে রজতরেখা নদীর সংযোগ খালটি দখলের চেষ্টা করছে একটি চক্র। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী বেষ্টিত সৈয়দপুর উত্তরকান্দি, দক্ষিনকান্দি,সিকদারকান্দি, বকচর,সুমার ঢালীকান্দি, জাজিরা কুঞ্জনগর, চর যোগেন্দ্র, গ্রামের জনসাধারনের সারা বছর যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। যোগাযোগ উন্নয়ন বঞ্চিত এসব গ্রামের সাধারন মানুষকে জেলা শহরে আসতে হলে ছোট বড় ট্রলার বা নৌকাই প্রধান ভরসা। সাধারন মানুষ শহরে আসতে হলে প্রথমে চিতলিয়ার রজতরেখা নদী পার হয়ে চিতলিয়া বাজারে আসতে হয়। আবার গ্রামগুলোতে ফিরে যেতে চিতলিয়া নদী পাড় হয়ে ওপারে গেলে দীর্ঘ পাঁয়ে হাঁটার পথ। নদী পার হওয়ার পর এসব গ্রামের সব বয়সের লোকদের সৈয়দপুর গ্রামে যেতে প্রায় আধা ঘন্টার পথ হাঁটতে হয়। তাছাড়া জাজিরা, বকচর গ্রামের লোকদের যে কোন প্রয়োজনে হাঁটে বাজারে আসতে প্রায় ২ ঘন্টার পথ পায়ে হেঁটে। সড়কগুলো হলো কাঁচা রাস্তা, অনেক স্থানে ইটের সোলিং থাকলেও এখন আর নেই। ভেঙ্গে বড় বড় গর্তে পরিনত হয়েছে। বৃষ্টির কাঁদাজলে পথযাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। সেখানে নেই কোন পরিবহন ব্যবস্থা, সড়কগুলোকে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় অনেকটা চলাচলের অনুপুযুক্ত হয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি প্রায় ৩০ বছর পূর্বে চিতলিয়া বাজারের নদীর মোহনা থেকে সড়কের পাশ দিয়ে স্থানীয়রা নৌকা চলাচলের জন্য একটি খাল খনন করেন সৈয়দপুর গ্রামবাসী। খালটি খননকাজে নিজেরা গ্রাম থেকে চাঁদা তুলে জমির প্রকৃত মালিককে পরিশোধ করেন। কিন্তু স্থানীয় এক ভূমিদস্যু আহম্মদ উল্লাহ প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে কতিপয় লোকককে নিজেদের ওয়ারিশ বানিয়ে খালটি দলিল মূলে নিয়ে যায়। খালটি প্রায় ৯ কিলোমিটার পর্যন্ত । সৈয়দপুর গ্রাম ঘেষে সুমারঢালী কান্দি গ্রামের শেষে চরকেওয়ার ইউনিয়নের বাঘাইকান্দি খালে যুক্ত হয়েছে। কৃষি মৌসুমসহ সারাবছর কৃষকসহ সর্বসাধারনের মালামাল পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বা নৌকা। প্রতিদিন এই খালটি দিয়ে নৌকা বা ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে করে হাজার হাজার মানুষ চিতলিয়া বাজারে আসে । সেখান থেকে সিএনজি বা অটো রিক্সার জরুরি প্রয়োজনে মুন্সীগঞ্জ শহরে আসা যাওয়া করেন এসব গ্রামের সব বয়সের সাধারন নারী – পুরুষ। নিত্য প্রয়োজনে এসব গ্রামের সাধারন মানুষগুলো খালটি দিয়ে নির্বিগ্নে চলাচল করে আসছিল ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সৈয়দপুর গ্রামের আহম্মদ উল্লাহ নামের এক প্রভাবশালী খালটিকে তার ক্রয় সম্পত্তি দাবি করে কতিপয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে ভরাট করার চেষ্টা করে। গত- ১১ জুলাই মঙ্গলবার খালটি ড্রেজারের মাধ্যমে ভরাট করতে গেলে স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে সেখান থেকে তারা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খালটি ভরাট হলে এ এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়বে বলে অশংকা করছেন সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা।
সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্ধা এড. এস আর রহমান মিলন জানান, আমরা শ্রম এবং অর্থ দিয়ে খালটি খনন করি। জমির প্রকৃত মালিককে আমরা গ্রামবাসীরা টাকাও পরিশোধ করেছিলাম। এই খালটি আমাদের চলাচলের একমাত্র পথ। আমরা নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল, কৃষি উপকরন, সেচ কাজে এবং কৃষিকাজে এই খালটি আমাদের একমাত্র ভরসা। আমাদের গ্রামবাসীরা শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও খালটিকে রক্ষা করব। কিন্তু স্থানীয় সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত গ্রামবাসীকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে তারা খালটিকে দখল করে নিবেই। আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
স্থানীয় মুরুব্বি আবুল কাশেম জানান, আমরা জন্ম থেকেই নদী আর পানি ছাড়া কিছু দেখিনি। সড়কটি হওয়ার পর শুকনো মৌসুমে আমরা হেঁটে চলাচল করতাম। খালটি খনন করার পর পর আমাদের ভোগান্তি কমে যায়। আমরা বাড়ীর ঘাট থেকে চিতলিয়াবাজারে নৌকা বা ট্রলারে এসে বাজার করে পূনরায় বাড়ীর ঘাটে নামতে পারি। এখন কিছু ভূমিদস্যু লোক খালটি ভরাট করার পায়তারা করছে। খালটি ভরাট হলে স্কুল- কলেজ পড়–য়া ছেলে মেয়ে এবং জরুরি রোগীদের নিয়ে আমরা ভোগান্তিতে পড়ব।
খাল ভরাটের বিষয়টি অস্বীকার করে আহম্মদ উল্লাহ বলেন, আমি খাল ভরাট করার জন্য কোন ড্রেজার নিয়ে আসিনি। অন্য লোক এনেছিল তারা চলে গেছে। গ্রামের জনগনের যেভাবে ভালো হয় আমি সেই পক্ষেই আছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া জাহান বলেন, ওখানে ড্রেজার পৌছানোর সাথে সাথে আমরা খবর পেয়ে তাদেরকে প্রতিহত করেছি। কোনক্রমে সরকারী খাল ভরাট করতে দেয়া হবেনা। এর পরও যদি কেউ খাল ভরাটের চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স/এস্

