ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৩ এপ্রিল ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

চাঞ্চল্যকর সিমা খুনের উদ্ধার হওয়া দু’টুকরো লশের অংশই কি শেষ ?


এপ্রিল ১৩, ২০১৭ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির রাজাপুরে চাঞ্চল্যকর সিমা খুনের ঘটনায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের আশ্রয় নেয়া হলে অভিযোগটি মূল এজাহারের সাথে সংযুক্ত করে তদন্তের নির্দেশ দেয়ার পর ৫দিন অতিবাহিত হলেও ওসি মুনির উল গিয়াস আদালতের কোন আদেশ পাননি বলে জানিয়েছেন। হত্যা মামলার বাদী মোঃ মাজেদুল ইসলাম ঘাতক স্বামী মিজান খন্দকারের একান্ত সহযোগী, খুনের স্থান গোমস্তা বাড়ীর মালিক এনায়েত গোমস্তা ও তার স্ত্রী ঝুমু বেগমকে পুলিশ আসামী হিসাবে এজাহার ভূক্ত না করে স্বাক্ষী করার অভিযোগে গত ৬ এপ্রিল আদালতে আবেদন জানালে রাজাপুর থানা পুলিশকে এ আদেশ প্রদান করেন। অন্যদিকে নিহত গৃহবধূ সীমার মৃতদেহের দুটি অংশ পাওয়ার পর বাদী অন্যান্য অংশ উদ্ধারের জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে মামলার আইও ও ওসির কাছে ‘ডুবুরী দিয়ে নদীতে তল্লাশী’র অনুরোধ জানালেও ওসি মুনির উল গিয়াস উদ্ধারকৃত দুই টুকরো নিয়েই তার সন্তোষ্ট থাকতে বলেন। এঅবস্থায় নিহত সীমার দেহের অপরাংশ উদ্ধার, এনায়েত গোমস্তাসহ পালাতক আসামীদের গ্রেপ্তার ও হত্যার বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মাঝে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নিহত সিমার বড়ভাই বাদী মাজেদুল ইসলাম ও স্বজনরা জানায়, গত ৩০মার্চ রাতে সিমাকে তার স্বামী মিজান খন্দকার রাজাপুরে সাউথপুর গ্রামে এনায়েত গোমস্তার বাড়ী বসে নির্মম ভাবে হত্যা করলেও এনায়েত গোমস্তা ও তার স্ত্রী ঝুমু বেগম সহ কেউ আমাদের পরিবারকে কিছুই জানায়নি। বরং সিমাকে হত্যাসহ লাশ টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দিয়ে মিজানকে বিদেশে পালিয়ে যেতে সহযোগীতার জন্য ঘনিষ্ট বন্ধু এনায়েত গোমস্তা সাথে নিয়ে ঢাকা যায়। এরপর গত ১ এপ্রিল ‘মতিঝিল থানা পুলিশ ঘাতক স্বামী মিজান খন্দকার ও তার সহযোগী বন্ধু এনায়েত গোমস্তাকে (যার ঘরে সিমাকে খুন করা হয়) গ্রেপ্তার করে ঢাকার পুলিশ (সিমার পরিবার) সীমাকে হত্যার বিষয়টি আমাদেরকে জানায় ও রাজাপুর থানা পুলিশকেও অবগত করে। যে কারনে আমরা রাজাপুর পুলিশের কাছে এনায়েত গোমস্তা ও তার স্ত্রী ঝুমু বেগমকে এজাহার নামীয় আসামী করার জন্য জানালেও ওসি মুনির উল গিয়াস তাকে (এনায়েত গোমস্তা) আসামী করা যাবেনা তাকে স্বাক্ষী করলে মামলার জন্য ভালো হবে বলে তাড়াহুড়া করে আমার স্বাক্ষর গ্রহন করেন।
এবিষয়ে সিমার বড়ভাই বাদী মাজেদুর ইসলাম জানায়, যে বাড়ী বসে সিমা কে নির্মম ভাবে খুন করা হলো সেই বাড়ীর মালিক তথা ঘাতক মিজানের সকল অপকর্মের সহযোগী এনায়েত গোমস্তা ও তার স্ত্রীকে এজাহারে স্বাক্ষী হিসাবে অন্তর্র্ভূক্ত করা ‘হত্যাকারীদের রক্ষার কৌশল’ বলে আমরা মনে করি। তাই গত ৬ এপ্রিল সীমা খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত এনায়েত গোমস্তা ও তার স্ত্রী ঝুমু বেগমকে হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ও ঘাতক মিজানের মা ও প্রথম স্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছি। আদালত শুনানী শেষে আবেদনটি সম্পূরক এজাহার হিসাবে রাজাপুর থানায় রেকর্ডকৃত মামলাটির সাথে সংযুক্ত করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মামলার আইও এসআই আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানায়, রিমান্ডে আনা আসামীরা এনায়েত গোমস্তার বাড়ীতে বসে হত্যার পর মিজানের বাড়ীতে নিয়ে এসেছে বলে স্বীকার করেছে। তবে যে বাড়ীতে বসে হত্যার ঘটনা ঘটেছে তাদের স্বাক্ষী রাখা হয়েছে। বর্তমানে নিহতের লামের অংশ উদ্ধারের জন্য ব্যাপক তল্লাশী অভিযান চলছে। তবে তল্লাশীর জন্য কোন ডুবুরি দল নেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে রাজাপুর থানার ওসি মুনির উল গিয়াস সাংবাদিকদের জানান, সীমা হত্যার ঘটনায় আদালতে সম্পূরক এজাহারের আবেদন করা হয়েছে বলে শুনেছি, তবে আদালতের আদেশ এখোন পর্যন্ত থানায় আসেনি। নিহতের মৃতদেহ উদ্ধারের প্রচেষ্টা চলতে তবে কোন ডুবুরী দলের সাহায্য নেয়া হয়নি। পুলিশ সদস্যরাই তল্লাশী চালাচ্ছে।

স/জনী