তাপস কুমার, নাটোর:
উত্তর জনপদের অন্যতম লিচুর মোকাম বলে খ্যাত নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর কানু মোল্লার বটতলা মোড়ে রসালো টসটসে লিচু বিকিকিনিতে জমে উঠেছে এবারের লিচুর মোকাম।
২০০১ সাল থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে ওই লিচুর মোকাম। প্রতি মৌসুমে নাজিরপুর, সোনাপুর, জুমাইনগর, মামুদপুর, মোল্লাবাজার, বিন্যাবাড়ী, বিয়াঘাট, কাছিকাটা, ধামাইচসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগাম জাতের মোজাফ্ফর লিচু, বোম্বাই ও চায়না জাতের রসালো টসটসে লাল রংয়ের লিচু আমদানি হয় মোকামটিতে। এসব লিচু বিকিকিনির জন্য কানু মোল্লার মোড়ে রয়েছে মায়ের দোয়া বাণিজ্যালয়, ভাই ভাই ফলভান্ডার, সততা ফল ভান্ডার, মুন্নী ফলভান্ডার, মোল্লা ফলভান্ডার, বিস্মিল্লাহ্ ফলভান্ডার, ঈষা ফলভান্ডার, মক্কা-মদিনা ফলভান্ডার, সোনালী ফলভান্ডার, বিস্মিল্লাহ ফলভান্ডার ও হিমু ফলভান্ডারসহ কমপক্ষে ১৫টি লিচুর আড়ৎ। মায়ের দোয়া ফলভান্ডারের সহোদর মান্নান ও মাহ্বুব জানান, উপজেলার একমাত্র নাজিরপুর ইউনিয়নেই প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে আগাম মোজাফ্ফর লিচুর চাষ হয়। বৈশাখের শেষ সপ্তাহ থেকেই এসব বাগানের লিচু ওই মোকামে আসতে শুরু করে। সেখান থেকে অতিদ্রুত মোকামে পৌঁঁছাতেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গড়ে উঠেছে ওই লিচু মোকামটি। তবে এবারের বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর ফলন কম হওয়ায় লিচু চাষিরা হতাশায় ভুগছেন। এছাড়াও প্রতি বছরের তুলনায় এবারে লিচুর দাম কম হওয়ায় তেমন লাভবান হচ্ছেন না তারা বলে জানান লিচু চাষী আব্দুল আলিম রতন। তিনি আরও জানান, এবারে প্রতি হাজার লিচু ৮ শত থেকে ১ হাজার ৫ শত টাকা দরে বিক্রি করছেন এলাকার লিচু চাষীরা। অথচ গত বছরে এর দাম ছিল প্রতি হাজার ১ হাজার ৫ শত থেকে ২ হাজার ৫ শত টাকা পর্যন্ত এবং গত বছরে প্রতিদিন গড়ে ২০ ট্রাক করে মোকামে সরবরাহ হলেও এবারে লিচু সরবরাহ হচ্ছে গড়ে ১০-১২ ট্রাক করে।
বিস্মিল্লাহ্ ফলভান্ডারের ফিরোজ আহম্মেদ জানান, প্রতি মৌসুমে এই লিচুর মোকাম থেকে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, বগুড়া, নওগাঁ, পঞ্চগড় জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লিচু সরবরাহ হয়ে থাকে।
লিচু মোকাম কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতিদিন বেলা ২ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে বিভিন্ন মোকাম থেকে আসা ট্রাকে লিচুর ঝুড়ি বোঝাইয়ের কাজ। কুমিল্লার লিচু ব্যবসায়ী বরকত আলী ও হাজীগঞ্জের জাকির হোসেন জানান, ৭/৮ বছর ধরে তারা এই মোকামে লিচু ব্যবসা করছেন। প্রতি মৌসুমে এখান থেকে তারা দুই থেকে আড়াই লাখ করে লিচু কিনে থাকেন। এলাকার লিচুর স্বাদ, রং, আকার সবই ভালো। একই ধরনের তথ্য জানালেন নোয়াখালীর লিচু ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন, ঢাকার খোকন আর সিলেটের মইনুদ্দিন। তারা আরও জানান, লিচুর গুনাগুন অনুযায়ী তাদের মোকামে তারা শতকরা ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা করে বিক্রি করে থাকেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, মোজাফ্ফর লিচুর বৈশিষ্ট হলো এগুলো আগাম জাতের এবং সংখ্যায় গাছে বেশি ধরে। এতে পোকার আক্রমন হয়না বললেই চলে। গুরুদাসপুর উপজেলায় এবার ৪০৯ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের লিচুর চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার লিচুর চাষ বেশি হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফলন কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে চাষীরা। তারপরেও এবারে উৎপাদিত লিচুর পরিমাণ সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন।
গুরুদাসপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ মনির হোসেন বলেন, লিচুর ওই মোকামটি নিয়ে আগামীতে সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
স/এষ্

