আশুলিয়ায় গার্মেন্টস কর্মী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয় জঙ্গিরা। আজাদ নাম পরিচয় দিয়ে এক জঙ্গি বাসা ভাড়া নেয়। বাসার মালিক ইব্রাহিমকে আটকের পর র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
র্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের জানান, সাভারের আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকার চৌরাবালি এলাকার বাড়িটি ঘিরে রেখেছে র্যাব।ওই বাড়ির মালিকের নাম ইব্রাহিম হোসেন। আমরা তাকে আটক করেছি। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে বলেছে, আজাদ নাম পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বাসা ভাড়া নেয়। সে গার্মেন্টেসে চাকরি করে বলেও জানিয়েছিল।
মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সকালের দিকে জঙ্গিরা বেশ কয়েকবার বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং গুলি করেছে। পাল্টা জবাব হিসেবে র্যাব ও কয়েক রাউন্ড গুলি করে।
তিনি আরও বলেন, তাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমপর্ণের জন্য সকল সুযোগ দেয়া হচ্ছে। হ্যান্ড মাইকে এ ব্যাপারে ঘোষণাও দেয়া হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের।
শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে র্যাব-৪ এর একটি দল নয়ারহাট এলাকার চৌরাবালি এলাকায় টিনশেডের ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা র্যাব-৪ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি লুৎফুল কবীর জানান, অভিযান শুরুর পরপরই ভেতরে থাকা জঙ্গিরা র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে কমপক্ষে ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। বাড়িটির ভেতরে জঙ্গি দলের একাধিক সদস্য রয়েছে।
তিনি আরো জানান, ভেতরে থাকা জঙ্গিরা র্যাব সদস্যদের ‘তাগুতির দল’ উল্লেখ করে বেশ কয়েকবার গালিগালাজ করে। বেশ কিছুদিন ধরে আমরা এই জঙ্গিদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের এই আস্তানার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর সেখানে অভিযান শুরু করি।
এই র্যাব কর্মকর্তা জানান, টিনশেড ওই বাড়িটির ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে হ্যান্ডমাইকে বেশ কয়েকবার আহ্বান জানানো হলেও তারা সাড়া দেয়নি। অভিযান আরো জোরদার করা হবে।
আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল আওয়াল জানান, র্যাবের অভিযানের খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে রাত ৩টা থেকে জঙ্গিদের ওই আস্তানার আশপাশের বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য র্যাব সদস্যরা কাজ শুরু করে।

