কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। মার্কিন কার্ল ভিনসনের নেতৃত্বাধীন রণতরীর বহর কোরীয় উপদ্বীপের দিকে রওনা হওয়ার খবরের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেছে পারমাণবিক শক্তিচালিত একটি সাবমেরিন; যা পুরো কোরীয় দ্বীপে যুদ্ধের আবহ তৈরি করেছে। মূলত উত্তর কোরিয়া পরমাণু বা ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেছে। ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ইউএসএস মিশিগান গতকাল দক্ষিণ কোরিয়ার বুশান নৌঘাঁটিতে পৌঁছায়। সাবমেরিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসনের নেতৃত্বাধীন রণতরীবহরে যোগ দেবে। অংশ নেবে সামরিক মহড়ায়। এ অবস্থায় সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন।
দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, পারমাণবিক শক্তিচালিত ইউএসএস মিশিগানে ১৫৪টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আছে। একাধিক মিনি-সাব আছে। আছেন ৬০ জন বিশেষ অভিযানের সেনা। উল্লেখ্য, গতকাল উত্তর কোরিয়া তার সশস্ত্র বাহিনীর ৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। এর আগে এ অনুষ্ঠান পালন করতে গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। এসব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। যে কোনো সময় যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছে সেখানে। অস্বাভাবিকভাবে আজ হোয়াইট হাউসে উত্তর কোরিয়া বিষয়ে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সব সিনেট সদস্যকে। কোরীয় উপদ্বীপ অভিমুখে মার্কিন রণতরীবহরের অগ্রসর হওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তারা এই রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। উত্তর কোরিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ শুরু করলে তাদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হবে।
গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর কোরিয়া গতকাল বড় ধরনের সামরিক মহড়া করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা কোরীয় উপদ্বীপের পশ্চিমের জলভাগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক মহড়া করছে। এ মহড়ায় শিগগির কার্ল ভিনসনের নেতৃত্বাধীন রণতরীবহর যোগ দেবে।
গোটা সিনেটকে হোয়াইট হাউসে তলব : উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে ব্রিফিং দিতে মার্কিন সিনেটের সব সদস্যকে হোয়াইট হাউসে তলব করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একে হোয়াইট হাউসের ক্ষেত্রে বিরল ঘটনা বলে অবহিত করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা জোরালোভাবে, গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এ থেকে তাই প্রমাণ করছে। এর আগে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ পরিষদের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার (পারমাণবিক) অগ্রগতি বন্ধ করার বিষয়টি সমাধান করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ওই বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়া এখন যে আচরণ করছে তা মেনে নেওয়া যায় না। তাই তাদের পারমাণবিক ও ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর শক্তিশালী অবরোধ করতেই হবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে। তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের জন্য একটি বড় সমস্যা হলো উত্তর কোরিয়া। এটা এমন একটা সমস্যা যা আমাদের শেষ পর্যন্ত সমাধান করতেই হবে। ’ আজ হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে সিনেটের ১০০ সদস্যের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস উপস্থিত থাকবেন।
রুশ সীমান্তের কাছে এফ-৩৫এস বহর : মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক বিমান এফ-৩৫এসের একটি বহর অপ্রত্যাশিতভাবে গতকাল রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশ এস্তোনিয়ায় পৌঁছার কথা রয়েছে। মূলত রাশিয়াকে ভয় দেখাতেই এই বিমানবহর এস্তোনিয়ায় নেওয়া হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এএফপি, বিবিসি গার্ডিয়ান।
স/এষ্

