ঢাকাশুক্রবার , ১০ নভেম্বর ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

কোন্দলে দুই দল, মাঠে একাধিক প্রার্থী

admin
নভেম্বর ১০, ২০১৭ ২:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজবাড়ী-১ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য  প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় গোটা এলাকা মুখরিত। সন্ধ্যার পর থেকেই রাজনৈতিক দলের কার্যালয়গুলো নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখরিত থাকছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইছে। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরকারের সমালোচনা এবং এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর  মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। জয়-পরাজয়ের ব্যবধান হতে পারে খুব সামান্য। তবে বড় দুই দলের মধ্যে জিইয়ে থাকা কোন্দল যে দল মেটাতে সক্ষম হবে সে দলের প্রার্থীই জয়ী হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা। বিগত নির্বাচনগুলোয় এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ের পাল্লাই ভারী। তবে বিএনপির অবস্থানও বেশ শক্ত এ আসনে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর পাশাপাশি জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাকের পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণায় আছেন। রাজবাড়ী জেলার প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে নদী ভাঙন, লোডশেডিং, জলাবদ্ধতা, বেহাল সড়ক ব্যবস্থা প্রভৃতি। দীর্ঘদিন ধরে রাজবাড়ীবাসী এসব সমস্যার মধ্যদিয়ে দিনযাপন করলেও সমাধানে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আবদুল জব্বার, রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী, গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র শেখ মো. নিজাম, সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আকবর মর্জি। কাজী কেরামত আলী আবার দলীয় মনোনয়ন পাবেন এমন প্রত্যাশা তার কর্মী-সমর্থকদের। তার নানা উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন কর্মী-সমর্থকেরা। বেশির ভাগ সময় এলাকায় থেকে তিনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। কাজী কেরামত আলী তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন জানিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গোয়ালন্দ-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কটি মহাসড়কে পরিণত করা হয়েছে। ৩৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। আধুনিক রাজবাড়ী গঠনে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের অন্য প্রার্থীদের মধ্যে বেশ আলোচনায় রয়েছেন রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি কামরুন নাহার লাভলীর স্বামী মহম্মদ আলী চৌধুরী ও গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র শেখ মো. নিজাম। এমপি কাজী কেরামত আলীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুই মেয়র প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। জানতে চাইলে শেখ মো. নিজাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দলের মনোনয়ন পেলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। তবে দলের প্রার্থী যাকেই দেওয়া হবে তার পক্ষেই তিনি কাজ করবেন। রাজবাড়ী পৌরমেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, রাজবাড়ী জেলায় আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রার্থী বদলের বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন ধরে যিনি দলের এমপি রয়েছেন, তিনি এলাকার উন্নয়নের জন্য তেমন কোনো কাজই করেননি। কৌশলে তিনি আওয়ামী লীগকে দ্বিধা-বিভক্ত করে রেখেছেন। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হলে রাজবাড়ী-১ আসনটি হাতছাড়া হতে পারে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ নেতা। এ আসনে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও দলীয় কোন্দল প্রকট। কোন্দল মেটাতে না পারলে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হতে পারে বলে মনে করে রাজনৈতিক সচেতন মহল। আওয়ামী লীগের কোন্দল তেমন একটা প্রকাশ্য না হলেও বিএনপির কোন্দল প্রকাশ্য। পাল্টাপাল্টি সভা-সমাবেশ এখন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ আসনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক এমপি, রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক। এ ছাড়া জেলা বিএনপির আরেক সহসভাপতি মো. আসলাম দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। বিএনপির সিনিয়র একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জেলা বিএনপির বিভক্তির কারণেই দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে এ কোন্দল মেটাতে না পারলে দলের প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত। রাজবাড়ীতে সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এম এ খালেক ও মো. আসলাম। জানতে চাইলে এম এ খালেক বলেন, রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপি সবসময়ই শক্তিশালী। বিএনপির হারানো এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে হলে অবশ্যই প্রার্থী বদল করতে হবে। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা সভাপতি হাবিবুর রহমান বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মিলটন। তাছাড়া জাতীয় পার্টির আরেক অংশের সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুল খান মমিনও দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থিতা নিয়ে হাবিবুর রহমান বাচ্চুই এগিয়ে রয়েছেন বলে জানান দলটির একাধিক নেতা। হাবিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, জোটবদ্ধ নির্বাচন করলে বৃহত্তর ফরিদপুরের রাজবাড়ী-১ আসনটি চাইবে জাতীয় পার্টি। এ নিয়ে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মো. এরশাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলে তিনি জানান। জাকের পার্টি নির্বাচনে অংশ নিলে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদফতর সম্পাদক মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাজবাড়ী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমলাকান্ত চক্রবর্তী বাবন দলের প্রার্থী হবেন।

স/এষ্