ঢাকাসোমবার , ২৮ আগস্ট ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত ঝালকাঠির কামার শিল্পীরা

admin
আগস্ট ২৮, ২০১৭ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ মোছাদ্দেক বিল্লাহ,ঝালকাঠির প্রতিনিধি

আসন্ন ঈদুল আযহাকে ঘিরে কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। একদিকে হাপরে আগুনের শিখা অন্যদিকে হাতুড়ি পেটানোর টুংটাং শব্দে তৈরি হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাটি। শহর-গ্রাম সবখানেই কামাররা সমান ব্যস্ত পুরোনো দা,ছুরি এবং বঁটিতে শাণ দিতে।আবার মোটর চালিত মেশিনে শাণ দেয়ার কাজ চলছে পুরোনো গুলোর।কেউবা ব্যস্ত নতুন নতুন দা,ছুরি.তৈরিতে।তাই দম ফেলার যেন সময় নেই তাদের। সারা বছর অনেকটা অলস সময় পার করা কামারা ব্যস্ততা ভিড়ে এখন অতিরিক্ত ধরদাম করে সময় নষ্ট করতেও আগ্রহী নন। কাঠালিয়া উপজেলায় বিভিন্ন কামারদের দোকান ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির দাতারা কোরবানির পশু কাটা ছেড়া করার জন্য পরিবারের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত সবকটি দা ছুরি ধামা আর বটি শাণ দেওয়ার জন্য নিয়া আসছে কামারদের কাছে। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বিরামহীন ব্যস্ততা।
উপজেলার আওরাবুনিয়া,কাঠালিয়া,শেীলজালিয়া,চেঁচরীরামপুর পাটিখালঘাটা হাটে গিয়ে দেখা যায় কামারা কয়লা দগদকে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করেছেন এসব ধারালো কর্তন সামগ্রী।তবে এসব তৈরিতে এখনো আধুনিকতার কোন ছোয়া লাগেনি।পুরাতোন সেকালের নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো কর্তন সামগ্রী তৈরির কাজ।

কামাররা জানায়, এ পেশায় অধিক শ্রম জীবিকা নির্বাহে কষ্ট হলেও শুধু বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ পেশাটিকে তারা এখনও আঁকড়ে ধরে আছেন।বিভিন্ন সময় এসবের চাহিদা কম থাকলেও কুরবানির পশুর জন্য বেশি প্রয়োজন হওয়ার সকলেই এখন ছুটছেন কামারদের কাছে।আর এতেই এক মাসে পেশাটি জমজমাট হয়ে উঠছে।অন্য দিকে কামার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে।অন্য সময়ের চেয়ে দোকানে মৌসুমি কর্মচারীর সংখ্যাও বেড়েছে। পোড়া কয়লার গন্ধ,হাপরের হাঁসফাঁস আর হাতুড়ি পেটানোর টুং টাং শব্দে তৈরি হচ্ছে চকচকে ধারালো দা, চাপাটি,ছুরি বঁটিসহ নিমিষে মাংস কাটা-কুঠার সহ নানান উপকরণ। ঝালকাঠি জেলার কামার পাড়া ও কাঠালিয়া, নলছিটি,রাজাপুর উপজেলার কামার দোকানগুলোতে কারিগরদের যেমন ব্যস্ততা বেড়েছে তেমনি বেঁচা-বিক্র করতে গিয়েও গলদগর্ম হয়ে পড়েছেন বিক্রেতারা।কয়েকজন কামারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্প্রিং লোহা ও কাঁচা লোহা সাধারণত এ দুই ধরনের লোহা ব্যবহার করে এসব উপকরণ তৈরি করা হয়।

স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও বেশী।আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণ গুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম। লোহার মান ভেদে স্প্রিং লোহা ৪০০ টাকা নরমাল ২৫০ টাকা,পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০থেকে ২০০, দা১৫০ থেকে ৩৫০টাকা,পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০ থেকে শুরু,বঁটি ২০ থেকে ৪০০,চাপাটি ৫০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়।বিক্রিতারা আরও জানান,বছরের ১১মাসে তাঁদের ব্যবসা হয় এক রকম আর কোরবানর ঈদের আগের এক মাসে ব্যবসা হয় আরেক রকম। ঈদুলর আযাহ এলেই উপজেলার কামারের দোকানিদের বেচাবিক্রি ও ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বছরের বাকি সয়টার বেশির ভাগই হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয়।কোরবানি এলেই বেচাবিক্রি ও লোকজনের মরিচা পড়া দা বঁটি,ছুরি ইত্যাদি সরঞ্জাম ধারালো করার ব্যস্ততা বেড়ে যায়।

স/মা