কিশোরগঞ্জ, আশরাফ আলী : অকাল বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে কৃষী সম্পদ নষ্ট হওয়াই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সাময়ীক সহযোগীতা ও স্থায়ী দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষে ২৮ এপ্রিল ২০১৭ শুক্রবার বিকাল ৩.৩০ ঘটিকার সময়য়ে হাওর বিষয়ক এক সেমিনার করা হয় কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবি ভবন (জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ)। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ শিকদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য, গণতন্ত্রী পার্টি। মাহামুদুর রহমান বাবু, প্রেসিডিয়াম সদস্য, গণতন্ত্রী পার্টি। অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ। অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। ড. হালিম দাদ খান, সমন্বয়ন হাওর অঞ্চল। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এ্যাড. ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, সভাপতি, গণতন্ত্রী পার্টি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা। সেমিনার পরিচালনা করেন- এ্যাড. গাজী এনায়েতুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, গণতন্ত্রী পার্টি, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা। বক্তারা বলেন- ৭টি জেলায় ৫৮ কোটি টাকা প্রতি বৎসর বাঁধ নির্মাণের জন্য জেলা পর্যায়ে দেওয়া হয়। এতে ৭টি জেলায় ৪০৬ কোটি টাকা প্রতি বৎসর প্রদান করা হয় হাওর অঞ্চলের জন্য। কিন্তু যে হাওর থেকে দেশের ২০ ভাগ খাদ্য যোগান দেওয়া হয় সেই হাওরকে স্থায়ী কোনো সমাধান না দিয়ে তার মাঝে অপরিকল্পিত ২৯ কিলোমিটার রাস্তা করায় এই হাওরের পানি নামতে ১৮ বৎসর লাগবে। এতে কৃষক চিরদিনের জন্য কৃষি ভূমি হারাবে। যারা হাওর উন্নয়ন বিষয়ক কর্মকর্তা তারা হাওর রক্ষা করার জন্য ব্রাজিল, কানাডা ও আমেরিকা ঘুরে অভিজ্ঞতা নেন। কিন্তু বাস্তবে নদীর পাড় ও হাওরের দূর্দশা দেখতে পান না। তাদের প্রতি আহ্বান জানান হাওরে সরেজমিনে পর্যবেক্ষন করেন। যারা হাওরের বাঁধের টাকা মেরে খেয়ে ফেলেছেন তারা মনে করেন এর বিচার হবে না। তারা যদি মুসলমান হয়ে থাকেন সূরা ফাতিহা-এর মা-লিকি এয়াওমিদ্দিন বিশ্বাস করলে পরকালে যদি বিচার হতে পারে তবে হাওরের বাঁধের টাকার চুরি করারও বিচার হবে। যেমন- পঁয়তাল্লিশ বছর পরে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হয়েছে ও যুদ্ধ অপরাধীর বিচার হয়েছে। কিছুদিন আগে চার হাজার কোটি টাকা চুরি হওয়ায় মন্ত্রী বলেছেন এটা বাংলাদেশের জন্য কোনো ব্যাপার না। আজ তার কাছে দাবী হবে- সকল কৃষকের ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেন, এটাও দেশের জন্য কিছু না। কিছু হবে না। দুদক কিশোরগঞ্জে আসলে এলাকাবাসী ভয়ে তথ্য দিতে অসহযোগিতা করে এবং হাওর অঞ্চলে বর্ষার শেষে জলমহাল ডাক বন্ধ করতে হবে এবং জাল যার জলাধার তার বাস্তবায়ন করতে হবে, এখানে সিন্ডেকেট জলদস্যুদেরকে নির্মূল করতে হবে। সেমিনার শেষে গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি এ্যাড. ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন বলেন- হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নদী শাস্বিত ব্রীজ তৈরি করা হলে হাওরে কেন ফ্লাইওভার তৈরি করা যাবে না। রাস্তা তৈরি বন্ধ করে ৭টি জেলায় ৫টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করে যাতায়াতের সুবিধা তৈরি করে দিতে জোর দাবি জানিয়ে ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। ১. হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় তৈরি করতে হবে। ২. হাওরে প্রধান কার্যালয় হবে। ৩. জাতীয় কৌশলপত্র তৈরি করতে হবে। ৪. প্রতি জেলায় প্রশাসনিক কার্যালয় গঠন করতে হবে। ৫. নদী-খনন বা ড্রেজিং নিশ্চিত করতে হবে। ৬. হাওরে কৃষকের সকল ঋণ পরবর্তী ফসল তোলা পর্যন্ত কিস্তি মওকুফ করতে হবে পরবর্তী ফসল গোলায় উঠলে এই কিস্তি পূণরায় চালু হবে। ৭. হাওরের জন্য বিশেষ প্রজাতির ধান আবিষ্কার করতে হবে। যাহা পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুনে উৎপাদিত হবে। চৈত্রের প্রথমেই কাটা শেষ হবে। যা হাওরের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে স্থায়ী সমাধান বলে গণ্য হবে। এরপরে তিনি বলেন- আজকের পানি সংকট ভবিষ্যতের জন্য পানি হাহাকার হয়ে না দাঁড়ায়। সেকথা মাথায় রেখে উন্নয়নমূলক কর্মকা- বাস্তবায়িত করতে হবে।
স/এষ্

