কালকিনি প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় আঁড়িয়াল খাঁ নদের অব্যাহত ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নদীতীরবর্তী গ্রামবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে দেড় শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আর বসত বাড়ি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করছে। উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর এলাকার পশ্চিম আলীপুর ও পূর্ব আলীপুর গ্রাম, বাঁশগাড়ি এলাকার দক্ষিণ বাঁশগাড়ি গ্রাম, সিডিখান এলাকার নতুন চরদৌলত খান গ্রাম ও সাহেবরামপুর এলাকার আন্ডারচর লঞ্চঘাট গ্রাম গুলো ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি গ্রামে ক্ষতিগ্রস্তদের কিছু আর্থিক সহায়তা দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আবার কোন কোন গ্রামে উপজেলা প্রশাসন থেকে খবর পর্যন্ত নেয়া হয়নি। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারন মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নদীভাঙ্গনের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলো সহায়তা প্রাপ্তির আশায় এব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে।
উপজেলার দক্ষিণ বাঁশগাড়ী গ্রামে নদী ভাঙ্গনের শিকার বারেক বেপারী, দেলোয়ার বেপারী, বাবুল চোকদার, লালমিয়া বেপারী, মরিয়ম নেছা, হাওয়া বেগম, আবুল হোসেন, রতন বেপারী, তাছলিমা বেগম, মোঃ মহসিন, রাশেদা বেগম, জলিল মৃধা, শিলা বেগম, কুদ্দুস সিকদার, নুরজাহান বেগম, আনোয়ার মৃধা, সবুজ সিকদার, খালেদা সহ ৩০/৩৫জন গ্রামবাসী জানায় ‘ নদী ভাঙ্গনে আমাদের বসত বাড়ি থেকে শুরু করে সব কেরে নিয়েছে। আমরা এখন সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি। কিন্তু সরকারী দপ্তর থেকে সহায্য সহযোগিতা থাক দূরের কথা কেউ এখনো আমাদের খোঁজ খবর পর্যন্ত নেয়নি।’
এব্যাপারে বাঁশগাড়ি এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন ‘ ভাঙ্গনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে দিনে তালিকা করলে রাতে আবার নতুন তালিকা করা লাগে। তবে এবিষয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দাখিল করেছি।’ এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহাদী হোসেন বলেন ‘ তালিকা পেয়েছি ঠিকই তবে তা যাচাই বাচাই চলছে। দক্ষিণ বাঁশগাড়ি গ্রামে এখনো কোন সরকারী সহায়তা প্রদান করা হয়নি ঠিকই তবে প্রক্রিয়া চলছে।’
স/এষ্

