ঢাকাশুক্রবার , ২৮ জুলাই ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

কাঠালিয়ার দেড় লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত

admin
জুলাই ২৮, ২০১৭ ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ রাজিব তালুকদার, কাঠালিয়া (ঝালকাঠি)

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা সদরে কোন হাসপাতাল না থাকায় সদরসহ পাঁচ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। জেলার সবচেয়ে দূরত্ব ও দরিদ্রতম উপজেলা এটি। উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষের জন্য একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যা উপজেলা সদর থেকে ১০কিলোমিটার দুরত্বে আমুয়া ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে হলতা নদীর পাড়ে অবস্থিত।

আওরাবুনিয়া ইউনিয়ন ও চেঁচরী রামপুর ইউনিয়ন থেকে এ হাসপাতালের দুরত্ব ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটারের ও বেশি। ফলে একটি মাত্র ইউনিয়ন ছাড়া বাকি পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ এ হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা সদরে শুধুমাত্র বহিঃবিভাগের চিকিৎসা পদ্ধতির একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে একজন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘ দিন ধরে পদটি শুন্য। একজন মাত্র উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। ফার্মাসিষ্ট ও অফিস সহায়ক পদ দুটিও রয়েছে শুন্য। দরিদ্র এলাকা হওয়ায় এখানে ব্যক্তি মালিকানায় কোন বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক গড়ে ওঠেনি। সদরে দিলিপ চন্দ্র হাওলাদার নামের একজন এমবিবিএস ডাক্তার প্রাইভেট প্রাকটিস করেন। তিনি অনেক সময় ব্যক্তিগত কাজে উপজেলার বাহিরে গেলে উপজেলা সদর ডাক্তার শুন্য থাকে।

উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামের মানসুরা বেগম জানান, হাসপাতাল দুরে থাকায় যেদিন ডাক্তার দেখাইতে যাই, সেদিন আর রান্না বা কোন কাজ করা সম্ভব হয়না। ডাক্তার দেখাইয়া বাড়ী ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল হক মনির বলেন, উপজেলা সীমানায় জালের মত অসংখ্য খাল থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ দূর্গম। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপজেলার এক কোনায় হওয়ায় স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির সাধারন মানুষ সেবা পেতে কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খানম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র দুরবর্তী স্থানে হওয়ায় এলাকার গর্ভবতী মা, জখমী ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা এ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডাঃ শরীফ মুহম্মদ ফয়েজুল আলম বলেন, উপজেলা সদরে সরকারী- বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেক গুরুত্বপূর্ন মানুষ বসবাস করেন। তারা প্রতিনিয়ত আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। সদরে ভাল চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবার নিয়ে বসবাস করতে সাহস পান না।

উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার বলেন,কাঠালিয়া উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়া তাদের মৌলিক অধিকার। তাদের এ সেবা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। উপজেলা সদরের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এক একর ১৫ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত। এখানে এখনও এক একর জমি খালি রয়েছে। এ জমিতে ২০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা সম্ভব। আমি এ বিষয়ে এমপি মহোদয়ের সাথে একাধিকবার কথা বলেছি। আশা করছি তারাতারি হাসপতাল নির্মাণ করে অবহেলিত ও দরিদ্রতম উপজেলার মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া সম্ভব হবে।

স/এষ।