ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

কলারোয়ায় শিক্ষার্থীদের গাইড কিনতে যেয়ে অভিভাবকরা দিশেহারা

admin
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

ফিরোজ জোয়ার্দ্দার সাতক্ষীরা:সাতক্ষীরা কলারোয়ায় সরকারের নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে উপজেলায় বিভিন্ন বইয়ের দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ গাইড ও নোট বই। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটর মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এসব নোট বই, গাইড ও কোম্পানীর তৈরী করা সিলেবাস কিনতে বাধ্য করছে। যার কারনে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে। উপজেলার কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলার ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনুপাতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে জননী প্রকাশনী, হাসান বুক হাউজ, পাঞ্জেরী, পুথিনালয়,সংসদ ও পপি কোম্পানীর জেলা ম্যানেজারদের সাথে এসব স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বাজারের বইয়ের দোকান গুলিতে মোটা অংকের চুক্তিবদ্ধ হয়ে নিন্ম মানের এ নোট বই ও গাইড শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করছে। তারা আরো জানান, প্রতি বছর প্রকাশ্যে টাকার বিনিময়ে এ ধরনের শিক্ষা বানিজ্য হলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন না। খোদ উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে বিভিন্ন বইয়ের দোকানে নিন্ম মানের গাইড কেনার জন্য শিক্ষার্থীসহ অবিভাবকদের ভীড় করছে। চুক্তিবদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাগছে লিখে দেয় নির্দিষ্ট নোট বই ও গাইড ছাড়া অন্য কোন কোম্পানীর বই কিনতে পারছে না। বই কিনতে আসা বিভিন্ন হাইস্কুলের শিক্ষার্থীর অবিভাবকরা জানান যে স্কুল থেকে যে প্রকাশনী বইয়ের তালিকা দিয়েছে সেই তালিকা অনুযায়ী বই কিনতে হবে । তাই না হলে স্কুলের শিক্ষকরা পড়াবে না। উপজেলার চন্দনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খোরদো সালেহা হক বালিকা বিদ্যালয়, সরসকাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কামারালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, পুথিনালায় ও পাঞ্জেরী প্রকাশনী কলারোয়ায় মোট ২২ বিদ্যালয়ের সাথে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকরা ৪৫ লাখ টাকায় এ কোম্পানীর নিন্ম মানের বই ও গাইড শিক্ষার্থী চালানোর জন্য মৌখিক চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া অন্য স্কুলের সাথে হাসান বুক হাউজ, পাঞ্জেরী, পুথিনালয়, সংসদ ও পপি কোম্পানীর বই ও গাইড চালানোর জন্য মোটা অংকের টাকার চুক্তিবদ্ধ করেছে। এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের অবিভাবকরা অভিযোগ করে জানান, সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকরা জননী প্রকাশনীর ও পুথিনাল প্রকাশনীর নিন্ম মানের গাইড, নোট বই ও সিলেবাস কোম্পানীর সাথে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় চড়া মূল্যে শিক্ষার্থীদের এসব নিষিদ্ধ ব্যাকারণ, গ্রামারসহ বিভিন্ন গাইড বই কিনতে বাধ্য করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্য বইয়ের পাশাপশি গাইড বই ও ব্যাকারণসহ অনান্য বইয়ের মান খুবই নিন্ম মানের ও চড়া মূল্যের কারনে বই কিনতে পারছে না অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা। আর এ কারনে অনেকে স্কুলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়েও বই ও গাইড কিনতে না পারায় শিক্ষকদের ভয়ে স্কুলে যাচ্ছে না। এর কারন হিসেবে শিক্ষার্থীদের অবিভাবকরা স্কুল শিক্ষকদের গাইড বই কেনার নির্দেশ দেয়াকে দায়ী করছেন। অবিভাবকরা জানান, উপজেলার অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র, ছাত্রীরা কৃষক পরিবারের সন্তান। তাদের পক্ষে চড়া মূল্যে এ নিন্ম মানের নোট বই, ব্যাকারন, গ্রামার কেনা সম্ভব না। ফলে অসহায় গরীব অবিভাবকরা চরম হতাশায় ভুগছেন এমন কি তাদের সন্তানদের পড়াশুনা বন্ধ করার মত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। যার কারনে উপজেলায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার এ সব বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা মোটা অংকের টাকা নিয়ে যশোরের হাসান বুক ডিপো, জননী পাবলিকেশন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে উপজেলার ৪৮ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ সব নিন্ম মানের ব্যাকারন গাইড, নোট বইসহ বিভিন্ন বই ৬ষ্ট শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত বাংলা ব্যকারণ, ইংরেজি গ্রামার, বিদ্যালয়ের ছাত্র, ছাত্রীদের জোর পূর্বক কিনতে বাধ্য করছেন। তারা আরো জানান, এমন কি চুক্তিবদ্ধ কোম্পানীর বই ও গাইড না কিনলে তাদের স্কুলে আসতে নিষেধ করা হচ্ছে অথবা বিনা কারনে মারপিট করছে। যার ফলে কোমলমতি ছাত্র, ছাত্রীরা বই কিনতে না পারলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে।

স/শা