কলারোয়ায় মাদরা সীমান্তে নিশ্চিত পাচারের হাত থেকে দু’ই স্কুল ছাত্রকে উদ্ধার করেছে বিজিবি
সাতক্ষীরা ব্যুরো প্রতিনিধি,
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রতারনার শিকার নিশ্চিত পাচারের হাত থেকে দু’ই স্কুল ছাত্রকে উদ্ধার করেছে মাদরা সীমান্তের বিজিবি’র সদস্যরা। শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সীমান্তের মেইন পিলার ১৩/৩ এস ৮ আরবি’র নিকট কালিবাড়ি হরিদাস ঠাকুর মন্দিরের পাশে সোনাই নদীর ধার থেকে ওই স্কুল ছাত্রদের উদ্ধার করা হয়। তৎক্ষণিক উদ্ধার হওয়া স্কুল ছাত্রদের টহলরত বিজিবির সদস্যরা মাদরা বিজিবি ক্যাম্পে এনে পরিবারের কাছে খবর দেন। খবর পেয়ে ছাত্রদের পিতা-মাতারা মাদরা ক্যাম্পে হাজির হয়। পাচারের স্বীকার হওয়া দু’ই স্কুল ছাত্র পৌরসদরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি জিকে এমকে পাইলট হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ও স্কুলের পিছনে বাড়ি গদখালি গ্রামের আট্রিস্ট শ্যামল অধিকারীর ছেলে নির্জন অধিকারী (১২) ও একই গ্রামের সরকারি কলেজের পিছনে ইকবল হোসেনের ছেলে তানভীর হাসান নূর (১২)। উদ্ধার হওয়া ছাত্ররা জানান, শনিবার সকালে তারা স্কুলের ক্লাস শেষ করে দুপুরে টিফিনের ছুটিতে বাড়ি যায়। বাড়িতে যাওয়ার পথে স্কুলের সামনে থেকে অচেনা মুখে দাঁড়ি, শার্ট, প্যান্ট, পরিহিত এক প্রতারক এসে মিথ্যা মোবাইলে তাদের সাথে কথা বলে। ছাত্ররা প্রতারকের কথা শুনতে থাকে আর প্রতারক বলতে থাকে তোমাদের এক আতœীয় অসুস্থ হাসপাতালে দেখতে যেতে হবে। প্রতারকের কথায় ছাত্ররা না শুনে বলে টিফিনের ক্লাস ছুটি খাওয়ার জন্য বাড়িতে যাব।
প্রতারক হোটেলে খাওয়ার লোভ দেখিয়ে ছাত্রদের ইঞ্জিনভ্যানে তুলে কোল্ড ষ্টোরের সামনে দিয়ে গোপিনাথাপুর তৈলকড়া রাস্তা বেয়ে কেড়াগাছি সীমান্তে সোনাই নদীর ধার হরিদাস ঠাকুরের মন্দিরে নিয়ে যায়। মন্দিরের পাশে বাঁশ বাগান শলার বোডে নদী পার হয়ে ওপারে আসলে তোমাদের আতœীয়কে দেখা যাবে বলে প্রতারক কৌশলে ভারতে চলে যায়। এদিকে প্রতারক আগে ভারতে চলে যাওয়ায় ছাত্ররা বুঝতে পারে নিজেরাই পাচার হচ্ছে। ছাত্ররা অনাহারে কিছুদূর রাস্তা হেঁটে টহলরত বিজিবি’র ল্যাঃ নায়েক বাবুল মোল্লার সাথে ঘটনাটি খুলে বলেন। বিজিবি তাদের উদ্ধার করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা সাপেক্ষ ছাত্রদের পিতা-মাতার কাছে তুলে দেয়। মাদরা বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার কবির আহম্মেদ জানান, তার সীমান্ত এলাকায় কোন মানব পাচারকারীদের স্থান নেই। নিশ্চিত প্রতারনার শিকার হয়ে আসা স্কুল ছাত্রদের ভারতে পাচারের জন্য আনা হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তে টহল জোরদার করায় ওই ছাত্ররা পাচার হতে পারেনি। উদ্ধার ছাত্রদের দুই পিতা-মাতার কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আশা রাঁখি সীমান্তে কোন অবৈধ মানব পাচার বা অন্য কিছু পারাপার হবে না। এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন আগে কেড়াগাছি সীমান্তের বোয়ালিয়া উত্তর পাড়া গ্রামের আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারীর সক্রিয় সদস্য মোকছেদ ও আকছেদ দুই সহোদর ভাইয়ের বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকা অবস্থায় পাচারের জন্য আনা দু’ই কপোত-কপোতীকে আটক করেছে পুলিশ।
এই আটকের ঘটনায় মানব পাচারকারীর হোতা মোকছেদ ঘটনাটি নিজেই আঁড়াল করে গাঁ-ঢাকা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্ররণে এনে কিছু দিন পর আবার এলাকায় ফিরে মানব পাচারকারীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। আর এই স্কুল ছাত্র পাচারের জঘন্য ঘটনা একটি অংশ বলে স্থানীয়রা মনে করেন। উদ্ধার হওয়া স্কুল ছাত্রদের ফেরত দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মনিরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, ছাত্র তানভীর হাসান নুরের পিতা ইকবল হোসেন ও নির্জন অধিকারীর মাতা শ্যামলী অধিকারী, কাকা- প্রবীর অধিকারী, স্কুলের শিক্ষক মনিরুজ্জামান প্রমুখ।
স/মা

