ফিরোজ জোয়ার্দ্দাার,স্টাফ রিপোর্টার সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌর সদরের জনগুরুত্বপূর্র্ণ গ্রামীণ পাকা সড়কগুলোর মধ্যে কলারোয়া-টু-সরসকাটি ও খোর্দ্দ এই সড়কটির উপর বেত্রাবতী নদীর ব্রিজটি বেহাল দশা চরমে উঠেছে। এই ব্রিজটি দেখার যেন কেউ নেই। সবচেয়ে মজার দৃশ্য হলো ব্রিজের নীচ যেন ময়লা ফেলার এক নর্দমা। এখানে প্রচলিত হয়ে গেছে, পাশের মুরগী মাংস ব্যবসায়ীরা মুরগীর অবশিষ্ট ও নানা প্রকার ময়লা আবর্জনা ফেলার স্থান করে নিয়েছে। সরেজমিনে জানা যায় ও ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা পৌর মেয়র ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কাছে জানিয়েছি কিন্তু কোন ফল আসেনি। সুতরাং তারা এখন বেত্রাবতী নদীকে বেছে নিয়েছে ময়লা ফেলার একমাত্র জায়গা। নদীর পাশে বসবাসরত মানুষদের দূর্গন্ধ আর নোংরা পানি তাদেরকে অস্থির করে তুলেছে এবং বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কলারোয়া বাজার থেকে পূর্ব দিকে বেত্রাবতী নদী যেটি পার হয়ে বামনখালী বাজার হয়ে সরসকাটি বাজার পর্যন্ত সুদূর কেশবপুর ও যশোর সংলগ্ন দীর্ঘ রাস্তা অপরপক্ষে কলারোয়া টু খোর্দ্দ সড়ক টি বর্তমানে রাজগঞ্জ হয়ে মনিরামপুর যশোর চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। কয়েক বছর ধরে ব্রিজটি কোন সংস্কার না হওয়ায় অনেক অংশে ভেঙ্গে গেছে এবং এটা খুবই সংকীর্ণ হওয়ায় মানুষ ও যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া এই রাস্তার পার্শ্বে দুইটি রেলিং খুবই ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। পার্শ্ববর্তী দুটি ইটভাটা থাকায় প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনায় পড়ছে সাধারণ নিরহ মানুষ। বিশেষ করে ইটভাটার মাটি বহনকারী সারিবদ্ধ মাহিন্দ্রগুলো ব্রিজটির উপর পারাপারে যানযটের একমাত্র কারণ এবং অনেক সময় খাড়া হয়ে থাকে এই জরাজীর্ণ সরু ব্রিজটি সেই পুরানো দিনের তৈরী যেটি বলা চলে মরার উপর খাড়া। আর ছোটখাটো সড়ক দূর্ঘটনা ও জ্যাম যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনও কখনও ১ থেকে দেড় ঘন্টা যাবৎ যানবাহন আটকে থাকে তাই ব্রিজ সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরী ও সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। বেহাল দশা জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখনই সংস্কার করা না হলে বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগি তো বটে জনদূর্ভোগের আর সীমা থাকবেনা। জরুরী অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার ব্রিগ্রেডের গাড়ী যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছেনা। বিধায় দুই উপজেলার প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ মানুষ কলারোয়া থেকে কেশবপুর, মনিরামপুর ও যশোর যাওয়ার একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা এই সড়কটি। এছাড়া এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনি শত শত ট্রাক, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল সহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। এমনকি কলারোয়ার নামকরা স্কুল কলেজসহ কয়েকটি হাইস্কুল ও প্রাইমারী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষকসহ হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর চলাচলে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অল্প হাফ মিনিটের সময়ের পথ পাড়ি দিতে দীর্ঘ সময় লাগছে। সংস্কারের অভাবে বর্তমানে যান চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। তাই ব্রিজটি সংস্কার করা এলাকায় বসবাসকারী মানুষসহ বিভিন্নœ এলাকার মানুষের গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। একান্ত বাধ্য হয়ে যাতায়াত করলেও তাদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। ব্রিজটি এখন যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপণীত। ব্যস্ততম এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে বিভিন্ন এলাকার মানুষের ভীষণ কষ্টভোগ করতে হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলারা যখন কলারোয়া হাসপাতাল সহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা করাতে আসে তখন ব্রিজের কাছে আসলেই থামতে হয়, এই বেহাল দশার কারণে তাদের আকুতি মিনতি দেখে মনে হয় এ যেন দেখার কেউ নেই। ফলে জরুরী ভিত্তিতে যাতে ব্রিজটি সংস্কার করা হয় তার জন্য সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সাতক্ষীর-১ আসনের (তালা-কলারোয়া) এমপি এ্যাড.মুস্তফা লুৎফুল¬াহর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। ইতিপূর্বে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী জানান, কলারোয়ার ব্রিজ সড়ক বিভাগের আওতাধীন থাকায় সংস্কারের বিষয়টি এলজিইডির আওতায় আসে না। বিধায় সংস্কার করতে পারছেন না। তবে কলারোয়ার জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজ যাতে জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার করা হয় এমনটি আশা ভুক্তভোগী জনগনের। এলাকাবাসীর এই প্রতিবেদককে বলেন, নদীর পূর্ব পাশের ৬ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগন প্রতিনিয়ত এই রাস্তায় চলাচল করলেও তারা যেন এ দৃশ্য দেখেও দেখেন না। তারা জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সড়কটি দূত সংস্কার করার জন্য এলাকাবাসী উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স/জনী

