কলারোয়ায় ‘টক-অব-দ্যা-কান্টি’ আলোচিত রবিউল চেয়ারম্যান!
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ভারতীয় এক নারী (রিয়া খাতুন ১৮) কে ধর্ষন করার অভিযোগে আদালতে মামলা হওয়ায় সময়ের সবচেয়ে সমালোচনায় আলোচিত চেয়ারম্যান রবিউল হাসান। শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে শুরু করে মফস্বল পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ব্যাপক সমালোচনার পাত্র চেয়ারম্যান রবিউল হাসান। এ যেন এক ‘টক-অব-দ্যা-কান্টির’ মত মুখরুচি হয়ে গেছে সবার মুখে।
সমাজের ফুট-পাত থেকে শুরু করে আলিশিয়ান পর্যন্ত ধিক্কার জানাচ্ছে এমন কু-রুচি পূর্ণ জঘন্য ঘটনার। রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করে নিজেকে রাখতে চেয়েছেন নিরাপদে। কিন্তু চেয়ারম্যান রবিউল হাসান সেটা করতে না পেরে নিজেই ভিলেন হয়ে সমালোচনায় এসেছেন। সুন্দর, সুদর্শন, যুবক নিজের কৃতকর্ম ঢাকার জন্য ছুটছেন বিভিন্ন প্রান্তে একটু নিরাপদ আশ্রয়ে। তা কি করে সম্ভাব আদালতের ব্যাপারে তো আর কেহ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
বৃৃহস্পতিবার বিকালে সাতক্ষীরা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে ভারতীয় নাগরিক এক নারীকে ধর্র্ষন করার অভিযোগে ধর্ষিতা নারীর শাশুড়ী মিনু বেগম বাদি হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করার পর ব্যাপক তোঁড়-ঝাঁপ শুরু করে দেন তিনি। শুক্র-শনিবার দিনভর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ১২নং যুগিখালি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হাসানসহ তার চার সহোযোগীর বিরুদ্ধে ভারতীয় এক নারীকে ধর্ষনের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
সেই খবর বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় মানুষের মুখে মুখে মুখরুচি। কেহ-কেহ এই জঘন্য ঘটনার বিরোধীতা করেন আবার কেহ-কেহ এই ঘটনা ধাঁমা-চাপা দেওয়ার প্রায়তারা চালায়। আসলে কি চেয়ারম্যান রবিউল হাসানের পক্ষে এমন জঘন্য কাজ করা সম্ভাব এমন প্রশ্ন সাধারণ জনগনের। তবে এঘটনায় ভারত-বাংলাদেশের নিযুুক্ত হাই কমিশনারের কাছে জোর তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন ভারত থেকে উঠে আসা বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিকরা।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে ধর্ষিতা রিয়া খাতুনের শ্বাশুুড়ী বাদি মিনু বেগমের ছেলে আফজাল ভারতের পশ্চিম বাংলায় দিন মজুরের কাজ করতো। কাজের মধ্যে নবম শ্রেণীর ছাত্রী ভারতের বিথারী গ্রামের মেয়ে রিয়া খাতুনকে সাথে পরিচয়। সেই মেয়েকে বাংলাদেশে এনে বিয়ে করেন। বিয়ের কাগজপত্র ও আদালতের অ্যাফিডেভিটও রয়েছে। তারা ঘর-সংসার করার এক পর্যায়ে যুগিখালী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হাসান তার ছেলের বউকে নানা ভাবে বিরক্ত করতো।
এরই মধ্যে সুযোগ বুঝে গত ৭ই সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চেয়ারম্যান রবিউল হাসান আফজালের বাড়িতে গিয়ে বলেন- বাজারে পুলিশ এসেছে তোমাদের আমার সাথে এখন যেতে হবে। চেয়ারম্যানের কথায় বাদির ছেলে ও বউকে যুগিখালি বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসের দোতালায় নিয়ে যান। পরে তাদের কাছে ১৫হাজার টাকা চেয়ে আফজালকে তিনি বলেন- তোমার বউ ভারতীয় নাগরিক। এখানে থাকতে চাইলে পুলিশকে এই টাকা দিতে হবে।
আর না দিলে তোমার বউকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাবে। সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই চেয়ারম্যান থানার ওসির সঙ্গে কথা বলানোর নাম করে ওই রাতেই ছেলের বউকে নিয়ে যান। পরে তাকে থানায় না নিয়ে গিয়ে তোলা হয় কলারোয়ার পৌরসদরে ঝিকরা গ্রামের জনৈক সঞ্জয়ের বাড়িতে।
ওই বাড়ির একটি কক্ষে ভারতীয় নারীকে আটকে রেখে প্রথমে আওয়ামীলীগ নেতা চেয়ারম্যান রবিউল হাসান ও পরে পালাক্রমে তার চার সহোযোগী সোহাগ হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, সোহাগ দফাদার ও কদম আলী ধর্ষন করেন। ধর্র্ষিতা হওয়া ভারতীয় নারীকে গভীর রাতে চেয়ারম্যান রবিউল হাসান ইউপি পরিষদের চৌকিদার এমাদুলের মাধ্যমে বাড়িতে পৌঁছায়ে দেন। ভোরে ধর্ষিতার শ্বাশুড়ী মিনু বেগম ঘুম থেকে উঠে বাড়ির মধ্যে নিজের ছেলের বউকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সকালে বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে থানায় খবর দেওয়া হয়।
পুুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে প্রথমে সরকারি হাসপাতালে ও পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সুস্থ হয়ে কলারোয়া থানায় মামলা করা হলে পুলিশ তা রেকর্ড না করে ফেরত দেয়। বাধ্য হয়ে ওই নারীর শ্বাশুড়ী সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন। সেই মামলার খবর আর যেন কোন গণমাধ্যম কর্মীরা প্রকাশ করতে না পারে সেই জন্য চেয়ারম্যান রবিউল হাসান তাদের হয়রানী করার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিদের দারস্ত হচ্ছে।
ডেসটিনি থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হাসান। কে এই রবিউল হাসান অনুসন্ধান চলছে চোঁখ রাখুন পরবর্তি সংখ্যায়।
স/মা

