বিদ্যুৎ প্রসাদ রায়, কিশোরগঞ্জ থেকে: কিশোরগঞ্জ তাড়াইল উপজেলাটি ১৪ হাজার ১৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনে ১০৫টি গ্রামে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৩৯ জন মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল। তাড়াইল উপজেলা হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
জানা যায়, ২১ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ৮ জন কর্মরত আছেন। ২১ জন নার্সের জায়গায় ৮ জন নার্স কর্মরত থাকলেও তার মধ্যে আবার ৪ জন ডেপুটেশনে রয়েছেন। প্রাইভেট প্র্যাকটিস হাসপাতালের চিকিৎসা সেবাকে ব্যাহত করছে। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিচরণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসকদের দিয়ে নিজ নিজ কোম্পানির ওষুধ লেখাচ্ছেন। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের চেয়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সংখ্যা বেশি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরাই হাসপাতালে রাজত্ব করছেন। রোগী ও এলকাবাসীর অভিযোগের পরও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ইনডোর বিভাগে ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, নিম্নমানের খাবার মুখে দেওয়া যায় না। খাবার স্যালাইন আর প্যারাসিটামল ওষুধ ছাড়া হাসপাতাল থেকে আর কিছুই মিলছে না। নিয়মিত ডাক্তারদের দেখা মিলেনা। খাবার নিয়ে চলছে হরিলুট। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বেডের রোগীর পরিবর্তে বিড়াল ঘুমাচ্ছে। এম্বুলেন্সের ভাড়া নেওয়া হয় দ্বিগুণ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহসানুল হক মুকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডাক্তার ও নার্সসহ আরো কিছু সমস্যার কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে। হাসপাতালের বেডে রোগী থাকার পরিবর্তে বিড়াল থাকার বিষয়, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এ বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
স/ এষ্

