এ.কে.আজাদ (জেলা প্রতিনিধি) লক্ষ্মীপুরঃ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ার হাট সংলগ্ন চর পাগলা ২নং ওয়ার্ডের মধ্যে সরকারি খাস জমিতে প্রস্তাবিত চিংড়ি প্রকল্পের জমি ভূমিদস্যু কর্তৃক দখলের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা গেছে, চর ঠিকা ২নং ওয়ার্ডের স্থায়ি বাসিন্দা আলী আহাম্মদ সওদাগর এর ছেলে মোঃ শাহ্ নেওয়াজ দীর্ঘ ১৭বছর যাবৎ তার সহায়-সম্বল বিসর্জন দিয়ে উক্ত সরকারি খাস জমিতে চিংড়ি প্রকল্পের অনুমোদন চেয়ে সংলিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট আজ ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপর দিকে একটি কু-চক্রি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ঐ খাস জমি জোর পূর্বক দখলে নিয়ে আপরাধ প্রবণতা চালিয়ে যাচ্ছে হরদমে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাদিক ব্যক্তিবর্গ জানান, অত্র এলাকাটি নিরবিচ্ছিন্ন বিলান হওয়ায় এবং রাস্তা-ঘাট না থাকায় পুলিশ প্রশাসনের আনাগোনা খুবই কম। আর এই সুযোগে অপরাধীরা খুব সহজেই অপরাধ করে পার পেয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে সরকারি এই খাস জমি জুড়ে একটি সিন্ডিকেট বাহিনী জোর পূর্বক বেশ কিছু ঘর উঠিয়ে জামাত- শিবিরের নেতৃত্বে উগ্রবাদী গোষ্টি নব্য জেএমবি’র ট্রেনিং সেন্টার খুলে বসেছে। এসব কারনে এবং সরকারি ঐ জমি ভোগ দখলকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতি ও গরু ব্যবসায়ী আবদুর রব খুন হয়। লক্ষীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর বাদী মোঃ শাহ্ নেওয়াজ এর নালিশি অভিযোগ থেকে জানা যায়, তিনি দক্ষিন চর পাগলা মৌজার গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এক ১নং খাস খতিয়ান ভূক্ত ১৮.৮৩ ভূমি অন্দরে ১০ একর জমি চিংড়ি চাষ করার জন্য ভূমি মন্ত্রনালয়ে আবেদন করিলে জেলা প্রশাসক লক্ষ্মীপুর ও নির্বাহী অফিসার রামগতি আইন অনুসারে ভূমি মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে উক্ত ভূমি একর প্রতি ১৫০০ টাকা খাজনা নির্ধারণ করিয়া তার নামে দীর্ঘ মেয়াদী ইজারার প্রস্তাব ভূমি মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করেন। যাহা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভূমি মন্ত্রনালয়ের শেষ আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে শাহ্ নেওয়াজ জানান, আমার প্রক্রিয়াধীন সরকারের এই মূল্যবান চিংড়ি জমি অত্র এলাকার চিহ্নিত জামাত শিবিরের হোতা আবদুল হাসিম ও আবদুল আলীর নেতৃত্বে কবির হাওলাদার, মাওলানা আবু তাহের, হানিফ, হারুন, আনোয়ার, রিপন, দেলোয়ার, সামছু, শাহজাহান, নুরুল হক সহ আরো বেশ ক’জন সংঘ বদ্ধ হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লক্ষ্মীপুর এর আদেশ লঙ্গন করিয়া রাতের আধারে ২০/২৫টি ঘর উঠিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করে চলেছে। এতে করে একদিকে যেমন সরকারি মূল্যবান এই সম্পত্তি হাত ছাড়া হতে চলেছে, অপর দিকে আমার প্রস্তাবিত চিংড়ি জমি হওয়ায় রক্ষনা বেক্ষনের চেষ্টা করায় আমাকে অত্র এলাকা থেকে উৎখাত করার জন্য আমি সহ আমার গোটা পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি অব্যাহত রেখেছে। অভিযোগ উঠেছে, চর কাদিরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার ছানা উল্যাহ এ বিরুদ্ধে। সে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের দেওয়া আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভূমি দস্যুদের সঙ্গে গোপন আতাত করে মোটা অংকের অর্থ লুপে নেওয়ার মাধ্যমে সরকারের কয়েক কোটি টাকার মূল্যবান চিংড়ি জমি তাদের হাতে তুলিয়া দিয়েছে। সচেতন এলাকাবাসির দাবী অনতি বিলম্বে আদালতের স্থিতি অবস্থা বজায় রাখতে উক্ত ভূমিতে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রশাসনের নজরদারি খুবই জরুরী। এ ব্যপারে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি কামনা করছেন।
স/জনী

