ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুনরায় ভর্তি বা সেশন ফি আদায় নিষিদ্ধ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
পাশাপাশি জাতীয় দিবস পালন, দেশীয় সংস্কৃতিসহ বাংলাকে গুরুত্ব দিতে ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার সেশন ফি ও ভ্যাট আদায় নিয়ে দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেয়।
রিটকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অনিক আর হক ও জে আর খান রবিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাশেদ জাহাঙ্গীর।
অভিভাবকদের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল হাই কোর্ট ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি বা সেশন চার্জ আদায় থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।
শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ওই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল।
যেসব নির্দেশনা এসেছে
বেসরকারি স্কুল নিবন্ধন অধ্যাদেশ ১৯৬২ অনুসারে স্কুলগুলোতে অভিভাবকসহ শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করতে হবে।
অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ওই অভিভাবক প্রতিনিধির বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়োগ করতে হবে। তাতে মালিকপক্ষের কোনো প্রাধান্য থাকবে না।
এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি, সেশন ফি বা একাডেমিক ফি’র নামে কোনো ‘ফি’ আদায় করা যাবে না।
ভর্তি ফি, টিউশন ফি নির্ধারণ করবে ম্যানেজিং কমিটি। তাতে অভিভাবক প্রতিনিধিদের মতামত প্রাধান্য পাবে। ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করতে হবে।
ইংরেজি মাধ্যমের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং প্রত্যেক অভিভাবককে ওই রিপোর্ট সরবরাহ করতে হবে।
প্রত্যেক জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং দেশীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতির আবহে পালন করতে হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ প্রখ্যাত বাঙালি কবি-সাহিত্যিকদের রচনাবলীর সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের পরিচয় ঘটাতে হবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ভাষা শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরবগাথা ও স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস শিক্ষার্থীদের জানাতে হবে।
প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এখন যেভাবে বাংলা পড়ানো হচ্ছে তার চেয়ে আরও ভালোভাবে শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষার চর্চা করাতে হবে। যাতে তারা শুদ্ধভাবে বাংলা লিখতে, পড়তে ও বলতে পারে।
স/এষ্

