ঢাকারবিবার , ১ অক্টোবর ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

আয়োডিনবিহীন লবণ ব্যবহার হচ্ছে ,বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

admin
অক্টোবর ১, ২০১৭ ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ রাজিব তালুকদার

বুদ্ধিদীপ্ত থাকতে চাই, আয়োডিনযুক্ত লবণ খাই- এ স্ট্নোগান সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে বিশেষ করে বিসিক ও ইউনিসেফ ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে সারাদেশে। সরকার আয়োডিন লবণ উৎপাদন ও ব্যবহারে প্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এমনকি লবণ মিল মালিকদের ভর্তুকি দিয়ে আমদানি করা আয়োডিন সরবরাহ করছে। তবে এত প্রচার এবং প্রচেষ্টা থাকার পরও সচেতনতা বৃদ্ধির অভাবে ঝালকাঠির বিভিম্ন বাজারে খাবারের হোটেলে আয়োডিনবিহীন লবণ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে আয়োডিনের অভাবজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়েই চলছে। গরুর খাদ্যসহ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে শিল্প লবণ ব্যবহার করা হয়। একদিকে নিরক্ষরতা, অন্যদিকে অসচেতনতার কারণে শিল্প লবণ রাম্নার কাজে ব্যবহার করছেন গৃহবধূরা। তবে বাজার থেকে এই লবণ কিনে নিচ্ছেন গৃহকর্তারা।জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দরিদ্র, অসহায় ও সাধারণ মানুষই শিল্প লবণ রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন। তারা এই লবণে আয়োডিন নেই জেনেও নির্বিঘ্নে তা তরকারি রান্নায় ব্যবহার করে আয়োডিনের অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর ফলে গ্রামগঞ্জের জনসাধারণের মাঝে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে বলে বিসিক সূত্রে জানা যায়। সম্প্রতি ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, আমুয়া, নবগ্রাম, বাউকাঠিসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রকাশ্যেই বাজারে আয়োডিনবিহীন শিল্প লবণ বা খোলা লবণ বিক্রি হচ্ছে। বাউকাঠি বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, প্রতি হাটে ৫০ থেকে ৬০ কেজি খোলা লবণ বিক্রি করেন। প্রতি বস্তা ১২শ’ টাকায় কিনে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি করেন। এই খোলা লবণ তারা ঝালকাঠির বিভিন্ন মিল থেকে ক্রয় করেন। তবে ক্রেতারা এই লবণ বেশির ভাগই তরকারি রান্নায় ব্যবহারের জন্য ক্রয় করে থাকেন।

বাউকাঠি বাজারে লবণ ক্রেতা আ. ছত্তার, হামেদ মিয়া, জাহানারা, আমুয়া বাজারে লবণ ক্রেতা ছোবাহান সিকদার, বেল্লাল হোসেন, নবগ্রামের জয়নাল মিয়াসহ অনেকে জানান, খোলা লবণের ক্ষমতা বেশি, দাম কম এবং এতে কোনো কেমিক্যাল মেশানো হয় না। এ কারণে তারা লবণ রান্নার কাজে ব্যবহার করেন।নবগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী কুদ্দুস মল্লিক ও আমুয়া বাজারের দোকানদার হালিমসহ অনেক বিক্রেতা জানান, প্রতি হাটে আয়োডিনযুক্ত প্যাকেট লবণের চেয়ে এ খোলা লবণ বেশি বিক্রি হয়। হাটের দিন প্যাকেটের লবণ বিক্রি হয় আট থেকে ১০ কেজি এবং খোলা লবণ বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ কেজি। তরকারিতে ব্যবহার ছাড়াও গরুর খাবারে এ লবণ ব্যবহার করায় বেশি বিক্রি হচ্ছে। শিল্প লবণ খাবারের কাজে ব্যবহার না করার জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে বস্তার গায়ে ‘মানুষের খাবারে ব্যবহারের জন্য নয়’ বা অন্য কোনো কথা লেখা হয় না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ঝালকাঠি লাকি সল্টের মালিক হুমায়ুন কবির জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, শিগগির তা কার্যকর করার কথা ভাবছেন তারা।

ঝালকাঠি বিসিক উপব্যস্থাপক জালিস মাহমুদ বলেন, আসলে শিল্প লবণ মানুষের খাবার কাজে ব্যবহারে বিক্রি প্রতিরোধে তাদের কিছুই করার নেই। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারলেই এটা খাবারের কাজে ব্যবহার কমে আসবে। ঝালকাঠি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের সহকারী পরিচালক সাফিয়া সুলতানা বলেন, শিল্প লবণ ব্যবহার না করতে খাবার হোটেল মালিকদের সব সময় সতর্ক করা হয়। তবে গ্রামপর্যায়ে এ নিয়ে প্রচার বাড়ানো হলে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

স/মা