ইবি প্রতিনিধি :
প্রশ্ন ফাসের কারণে বাতিল হওয়া কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে আইগত কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার এস এম আব্দুল লতিফ জানান, “ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ সেশনের এফ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাসের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৩ তম সিন্ডিকেট সভায় উক্ত ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ৭ই মার্চ ২০১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির এক সভায় ১৬ ই মার্চ ২০১৭ তে পুনারায় ওই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।“
তিনি বলেন “ যাদের ভর্তি বাতিল করা হয়েছে , সে সব ছাত্ররা হাইকোর্টের আশ্রয় নিলে, মহামান্য হাইকোর্ট ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের নির্দেশ ৬ মাসের জন্য স্তগিত করে। এবং পাশাপাশি হাইকোর্ট আরো রায় দিয়েছে যে, আগামী ১৬ তারিখে যে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষার দিন ধার্য রয়েছে সেটা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রিট আবেদনকারী ৮৮ জনকেও যেন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ দেওয়া হয়।“
তিনি আরো বলেনঃ “ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পূর্ব-গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ও হাইকোর্টের দেওয়া সুপারিশ সাপেক্ষে ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি ফর্ম উত্তোলনকারী ২৯৪৪ জনকেই আগামী ১৬ ই মার্চ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। তাই আগামী ১৬ তারিখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এতে আইনগত কোন বাধা নেই’’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ডঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ ১৬ তারিখে এফ ইউনিটের পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন কারী প্রত্যেককে টেলিটক এর মাধ্যমে মেসেজ দিয়ে অবহিত করা হয়েছে।’
জানা যাই, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছু পরে এফ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের গুজব উঠে। প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে এমন অভিযোগের সত্যাতা যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গঠিত কমিটি তদন্ত করে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের কারণে ‘এফ’ ইউনিটের সম্বয়ক মো. নুরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরীক্ষা কমিটিতে থাকা অপর দুই শিক্ষক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান (গণিত বিভাগ) ও মো. আলতাফ হোসেন রাসেলকে (পরিসংখ্যান বিভাগ) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ‘এফ’ ইউনিটে ভর্তি হওয়া ১০০ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁসে জড়িত গণিত বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র মনোজিৎ মণ্ডলকে আজীবন বহিষ্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী আলাউদ্দিন আলাল ও সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, ‘এফ’ ইউনিটে ভর্তি হওয়া ১০০ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ওই ইউনিটে ভর্তি হওয়া ৮৮ জন শিক্ষার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ দেন।
এই বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, “ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতি ও প্রশ্নফাস দূরীকরণে বর্তমান ইবি প্রশাসন বদ্ধপরিকর। প্রকৃত মেধাবীদের তাদের ন্যায্য সুযোগ প্রদানে আমরা সবসময় তৎপর।”
স/শা

