এ.কে.আজাদ/এম. শাহরিয়ার কামাল:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলাধীন তোরাবগঞ্জ টু মতিরহাট রাস্তাটি অবহেলিত উপেক্ষিত অবস্থায় চরম অবর্ণনীয় দৈন্যদশায় পরিণত হয়েছে। রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কারবিহীন বড় বড় খানা-খন্দকে পরিণত হওয়ায় চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত্র পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ দৈনন্দিন কর্মের টানে ছুটতে হয় এই সড়কটি দিয়ে। বড় বড় গর্তে পরিণত হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। রাস্তাতো নয় যেন মরণ ফাঁদ! যন্ত্রনার তীব্র দহন নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তাটির বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকটি পত্রিকায় লেখালেখি ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায়ও প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে। তার পরে ও সড়কটি নির্মাণের কোন আশু সম্ভাবনার দার খুলছে না। বর্তমান মহাজোট সরকারের উন্নয়নের মাইলফলক ইতিবাচক চিন্তাচেতনা উন্নয়নের রুপরেখা ডিজিটাল হাইস্পিডে রুপান্তরিত হচ্ছে বলে দাবি করছেন সরকার। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদকালে এই পর্যন্ত বৃহত্তর রামগতির অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ কমলনগর উপজেলার বাজেট-বরাদ্দের ডায়েরী হিসাব করতে গিয়ে সর্ববৃহত উন্নয়নের অংক মিলানো রয়েছে সুপরিকল্পিতভাবে। বাজেট সমীকরণে বাস্তবের সাথে মিলাতে গিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন এই প্রতিবেদকের মাথায়, বিভিন্ন উন্নয়নখাতে বরাদ্দকৃত প্রকল্পগুলোর যতটা উন্নয়ন হয়েছে তার চেয়ে অধিক নিস্পেষিত, উপেক্ষিত, প্রশ্নবিদ্য, কালের বির্বতনে সময়ের সিদ্ধান্তে কর্তৃপক্ষের নিরলস নিরবতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নামমাত্রিক কাজ করে প্রকল্পের ইতি টেনেছেন যে, তাও একান্ত কালের স্বাক্ষী। দুইটি উপজেলার মধ্যে বিশেষ করে রামগতিতে উন্নয়ের সু-বাতাস বইছে প্রশংসনীয় হারে, আর সে তুলনায় কমলনগরের উন্নয়ন কাগজ-কলমের বরাদ্দের মধ্যে কোন ভাবেই “বেড়া-জাল” ছিদ্র করে বেরিয়ে আসলে ও খুব বেশী একটা প্রযুক্তি নির্ভর যে হয়নি, তার বাস্তব চিত্র হলো কমলনগর নদী রক্ষা বাঁধের কয়েক মাসের মধ্যেই সি-সি ব্লকে ধস লেগে ভাঙ্গন চিত্র ফুটে ওঠা, আবার নবীগঞ্জ টু লরেঞ্চ বাজার সড়কটি নিমার্ণ কাজ সমাপ্তের তিন মাসের মাথায় খানা-খন্দকের সাবেক করুন চিত্র ভেসে ওঠা। আর তাই কমলনগরের গণমানুষের বক্তব্য হচ্ছে ভাঙ্গা কপালে কখনো জোড়া নেয়না। যদি নিতই তাহলে পরিসংখ্যানের দিকদিয়ে রামগতির তুলনায় এ অঞ্চলের ভোটার সংখ্যা অধিক, সর্ববিষয়ে উন্নয়নের দিকেও পিছিয়ে রয়েছে এই অঞ্চলের জনজীবন। বর্তমান হাই-ফোকাস রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিদের সু-দৃষ্টির আশায় দীনাতিপাত করা ছাড়া এই অঞ্চলের উন্নয়ন আদৌঃ সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন এই অঞ্চলের হতভাগ্য জনগন। কেউ কেউ আবার বলছেন বিরোধী রাজনৈতিক কোনো অপশক্তির হিংসাত্বক মনোভাবে মনোনীবেশ করে নাকি এই অঞ্চলের উন্নয়নের ধারাকে বেগমান করছেন না-ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গরা, নাকি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট পূর্ববর্তী মূহুর্তে ক্ষমতায় যাওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে এই সড়কটিকে শীতের চাঁদরে মুঁড়িয়ে দিবে কর্তা ব্যক্তিরা, এমনটাও ভাবনা বিরাজ করছে এখানকার জনমনে। সরকারের মেয়াদপূর্তি হতে চলছে, সচেতন এলাকাবাসী জানান শুকনো মৌসুমে খানা-খন্দকের কারণে যেমন চলা-চলের অনুপযোগী তেমনী প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে হাটু সমান কর্দমাক্ত পথ অতিক্রম করতে হয় পথচারীকে। জনসাধারণের মনে প্রশ্ন! নতুন সরকার গঠনের আগেই অবহেলিত এই রাস্তাটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে কিনা? এদিকে মতিরহাটের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরাও স্থানীয়রা জানান, প্রান্তিক মেঘনার তীরবর্তী মতির হাট বাজারটিতে দৈনন্দিন জীবনের নৃত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহনে প্রতিদিনই ট্রাকে করে শহর থেকে মালামাল আনা-নেওয়া হচ্ছে। সড়কটির দৈন্যদশায় চরম বিঘœ ঘটছে দিনের পর দিন। দীগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে মহাজনদের। বর্ষার মৌসুমে এখান থেকে প্রতিদিন কয়েক টন রুপালি ইলিশ পরিবহন হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। আবার মেঘনার তীরবর্তী সমতল ভূমিতে ঐতিহ্যবাহী সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের মতো দৃশ্যপট ও ভিজিট করতে আসছে দর্শনার্থীরা। তাই অনতিবিলম্বে অবহেলিত ও উপেক্ষিত এই সড়কটি মেরামতের জোড়ালো দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। চরম অবর্ণনীয় দৈন্যদশায় পরিণত হওয়া এই রাস্তাটি সংস্কার হলে সরকারের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে এই অঞ্চলের জনগণ।
স/এষ্

