ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥
অতিতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে ঝিনাইদহ-৪ আসন এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা স্বাধীনতা পরবর্তী কালের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বলে বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও জনসভায় দাবি করেছেন, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের জাতীয় সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম (আনার) স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সময় মতবিনিময়কালে ও সভা, সমাবেশে জানান, ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার ৪টি এবং কালীগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন মিলে ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রতিটি গ্রামে, জনপদে এ উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। গত ১০ম জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবার পর গত ৩ বছরে এলাকার প্রভুত উন্নয়ন হয়েছে। এমন কোন জনপদ নেই, যেখানকার কোন প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি।
গত ৩ বছরে এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ ও নলডাঙ্গা ভূষন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ কোটি ৪০ লাভ টাকা অনুদান প্রদান, কোলা ও ডাকবাংলা মসজিদে ইসলামিক পাঠাগার নির্মাণ, ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংষ্কার, ৭৫ লাখ টাকা ব্যায়ে নতুন স্কুল ভবন নির্মান, ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে মাল্টি মিডিয়ায় রুপান্তর। কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদে ১৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ এবং ৭৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ৫০০ জন শিক্ষিত বেকার যুবককে বিনামূল্যে স্থানীয় চিনিকল, পুলিশ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেয়া হয়েছে। আশ্রয়ন প্রকল্পে ১১৩ জনকে ১ একর ১৩ শতক জমি দান করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১টি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৬টি বাসস্থান ও ২০টি পরিবারের জন্য হাইলাইজ বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে। ২২ জন দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের ৭৫ হাজার টাকা এবং ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ২৮৪ জন মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেয়া হচ্ছে।
মতবিনিময়ে তিনি আরো জানান, ১৫৪ কোটি ব্যায়ে ১৮০ কিঃ মিঃ নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ১ কোটি টাকা ব্যায়ে বিভিন্ন রাস্তা সংষ্কার করা হয়েছে। ১৮ কোটি টাকা ব্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ, বৃহত্তর খুলনা প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা ব্যায়ে ব্রীজ নির্মাণ কাজ এবং মিনি ষ্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ব্যায়ে ৭৬টি বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ কোটি টাকা ব্যায়ে বারফা, আলাইপুর ও টিকারী এবং ২০ কোটি টাকা ব্যায়ে ইছাখানা, ভোলপাড়া, রামচন্দ্রপুর ও তালিয়ানে ব্রীজ নির্মাণ চলছে। ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যায়ে উপজেলা পরিষদ, দেড় লাখ টাকা ব্যায়ে কোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবণ নির্মাণ হয়েছে। ১১৮টি প্রতিষ্ঠানে টিআর, ২৫টি খেলার মাঠে গোলবার নির্মাণ, ২০টি প্রতিষ্ঠানে ষ্কাউট ড্রাম সেট ক্রয়, ৬৯৮টি প্রতিষ্ঠানে সোলার, ৯০টি রাস্তায় কাবিখা, ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানে কাবিটা, ২৩৩টি প্রতিষ্ঠানে সোলার পিলার প্রদান করা হয়েছে। সবকটি কমিউনিটি ক্লিনিক মেরামত এবং ২টি নতুন ক্লিনিক নির্মান ও সবকটিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।
এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম বটগাছ ও গাজীকালু চম্পাবতীর মাজারের শোভা বর্ধন করা হয়েছে। সাবরেজিষ্ট্রি অফিস ভবন ও ৯টি তহসিল অফিস ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৩টি তহসিল অফিস ইতিমধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ২১টি স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ হয়েছে।
১২৩ জন দুঃস্থ ব্যক্তিকে ৭০ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২৫ জন দুঃস্থ মহিলাকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও ২২টি সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে। এলাকার ১১৯৯ জনকে মাতৃত্বভাতা, ১৩২৯ জনকে ভিজিটি কার্ড, ৩৬০ জনকে ল্যাকটেট্রিন মাদার কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ৬৭৬৫ জনকে বয়স্ক ভাতা, ৩৩৪০ জনকে বিধবা ভাতা, ১৬২৪ জনকে প্রতিবন্ধি ভাতা, ৪ জনকে হিজরা ভাতা, ২৫ জনকে বেদে ভাতা, ১৪৫ জন প্রতিবন্ধি সন্তানকে উপবৃত্তি, ১৪৫ জন বেদে সন্তানকে উপবৃত্তি, ৭টি এতিমখানার ১৭৫ জনকে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। হাসপাতালের ১২৯ জন রোগীকে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার সেবা দেয়া হচ্ছে। ৭৫ জন ক্যান্সার ও কিডনী রোগীকে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা সাহায্য করা হয়েছে। ৪৮০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ৬৪ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে।
কালীগঞ্জের ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনকে ৩য় শ্রেণী হতে ২য় শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে দলীয় কার্যালয়, ক্রীড়া ভবন, ডায়াবেটিক হাসপাতালের নির্মাণ ও সংষ্কার কাজ করানো হয়েছে। মহিলা সমিতিতে ৩০টি সেলাই মেশিন দেয়া হয়েছে। সুধীজনের অর্থায়নে পৌরসভায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া চিত্রা নদী পুনঃখনন, ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬টি মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ, ডিজিটাল গ্রন্থাগার, অডিটরিয়াম, মুক্তমঞ্চ, বারোবাজার ফুড গোডাউন নির্মাণসহ ১০৫ কোটি টাকা ব্যায়ে কালীগঞ্জ শালিখা ও বাঘারপাড়া রাস্তা নির্মাণ, ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যায়ে কালীগঞ্জ বাজারে ব্রীজ নির্মাণ, ৫০ কোটি টাকা ব্যায়ে কালীগঞ্জ বিসিক শিল্প নগরী, বাফার গোডাউন ও আবাসিক ভবন নির্মাণ, সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যায়ে ৪টি মসজিদ নির্মাণের কাজ এবং ৭২ কোটি টাকা ব্যায়ে পিডিবিতে সাব ষ্টেশন নির্মাণ সহ জোনাল অফিস এবং কালীগঞ্জ ও বারোবাজার সাবষ্টেশন নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।
১৯৭১ সালের পর এলাকায় বিদ্যুৎ গ্রাহক ছিল ১২ হাজার। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৫০ হাজার। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৬ কোটি টাকা ব্যায়ে ২টি ২০০ মেগাওয়াট সম্পন্ন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। চিত্রানদী পুন: খনন, বাজার চাঁদনী নির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

