কেন্দুয়া-চিরাং সড়কে লাল ধূলায় জনদুর্ভোগ চরমে
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি – নত্রকোনার কেন্দুয়া-তাড়াইল সড়কের কেন্দুয়া থেকে চিরাং বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার নির্মাণাধীন সড়কের লাল ধূলায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
এ সড়কে যাতায়াতকারী লোকজন অভিযোগ করে বলেন, এই একটিমাত্র সড়ক দিয়ে আমাদের প্রতিদিন চিরাং বাজার থেকে কেন্দুয়া উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। নির্মাণাধীন এই সড়কটির দীর্ঘদিনেও কাজ সম্পন্ন না করায় নিম্নমানের ইটের খোয়াগুলো গুড়ো হয়ে এখন লাল ধূলায় পরিণত হয়েছে।
ফলে এ রাস্তায় যাতায়াত করতে সাধারণ লোকজনকে এখন বাড়তি পোশাক শরীরে পড়ে বের হতে হচ্ছে। রাস্তার পাশের চকবাট্টা গ্রামের রফিক, সবুজ ও শহীদুল বলেন, আমাদের এখন বোরকার মতো বাড়তি কাপড় শরীরে দিয়ে এ রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাড়িঘরেও থাকতে পারছি না। সড়কের পাশের জমিতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিদিন লাল ধূলার কারণে বাড়িতে রান্না করা খাবার পর্যন্ত নষ্ট হচ্ছে। সোমবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে সরজমিনে গেলে রাস্তাটির পাশের দোকানী শহীদুল হক, রফিক মিয়া, সবুজ মিয়া সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, বছরখানেক আগে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নি¤œমানের ইটের খোয়া ফেলে রোলার করে।
প্রায় তিন মাস আগে থেকে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদার। আমরা এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। তারা আরও বলেন, বর্তমানে এই সড়কটিতে প্রতিদিন শত শত ট্রাক, ট্রলি, যাত্রীবাহী সিএনজি, ব্যাটারীচালিত অটোরিকসা চলাচল করে। ইটের গুড়োর লাল ধূলায় আমাদের দোকানপাট বন্ধ রেখে বেকার হয়ে পড়েছি। কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, রাস্তার পাশের সব জমিতে লাল ধূলার স্তর পড়ে যাচ্ছে।
এতে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। আবুল কাশেম ও শহীদুল হক খান বলেন, লাল ধূলার কারণে আমাদের ছেলেমেয়েরা এ সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। ধূলাবালিতে তাদের পোশাকসহ স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। এ সড়কের অটোরিকসা চালক খোকন মিয়া, সিএনজি চালক ওয়াহিদুল আলাল জানান, চিরাং বাজার থেকে কেন্দুয়া পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার রাস্তা এলে মানুষের চেহারা ধূলার কারণে বদলে যায়। প্রতিদিন দু-তিনবার কাপড় বদলাতে হয়। ভালো পোশাক পড়তে পারি না।
এছাড়া আমাদের গাড়িরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোজাম্মেল হক জানান, ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে তাহের এন্ড সল এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কটির কাজ পান।
এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকারও বেশি। কাজটি চলতি বছরের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার লোকসান হচ্ছে জানিয়ে কাজ করবেন না বলে জানান। এখন টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি করতে হলে অনেক সময়ের ব্যাপার।
স/বি

