ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

যাত্রী সংকটে দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ সার্ভিসে বিদায়ঘণ্টা

admin
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২ ১:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যাত্রী সংকটে দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ সার্ভিসে বিদায়ঘণ্টা

মোঃ মোছাদ্দেক হাওলাদার, বরিশাল: ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের বিশেষ করে বরিশালের প্রায় দুইশ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী লঞ্চ সার্ভিসে বিদায়ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ভাড়া কমিয়েও যাত্রী মিলছেনা বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে।

সর্বশেষ জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর লঞ্চ মালিকরা সভা করে রোটেশন করেও এই সার্ভিসকে টিকিয়ে রাখতে পারছেনা। লঞ্চ মালিকদের দাবি, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর লঞ্চগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে যাত্রী কমতে শুরু করেছে। সবশেষ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে লঞ্চ সার্ভিসে রোটেশন প্রথা চালু করেও যাত্রী মিলছেনা। এমতাবস্থায় লঞ্চ মালিকরা তাদের সার্ভিসটি বাঁচাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।

সূত্রমতে, পদ্মা সেতু চালু হওয়া পর প্রথমদিকে লঞ্চ সার্ভিস অব্যাহত থাকবে, এমনটাই আশা করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু বরিশাল থেকে সড়কপথে পদ্মা সেতু হয়ে মাত্র দুই ঘন্টায় পরিবহনগুলো ঢাকায় পৌঁছে যাওয়ায় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে আশঙ্কাজনক হারে যাত্রী কমতে থাকে। শুধু তাই নয়; লঞ্চের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর লঞ্চ মালিকদের রীতিমতো ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে কয়েকটি কোম্পানি তাদের বেশির ভাগ লঞ্চ অন্য কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। অপরদিকে গত ১৫দিন ধরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী টরকী-গৌরনদী-ঢাকা রুটের লঞ্চ চলাচল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল রুটের বিলাসবহুল লঞ্চ এমভি কীর্তনখোলা-১ নিয়মিত যাত্রী না পেয়ে ক্রমাগত লোকসান গুনে আসছিল। অবশেষে এই লঞ্চটি বিক্রির জন্য প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু লঞ্চ সার্ভিসের সার্বিক লোকসান পরিস্থিতির কারণে এটি কিনতে রাজি না হওয়ায় সবশেষ কেটে লোহার দরে বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু কীর্তনখোলাই নয়; খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, ইতোমধ্যে ১০টি লঞ্চ এভাবে কেটে বিক্রি করা হয়েছে।

লঞ্চ মালিকদের দাবি, রাউন্ডট্রিপে প্রতিবার লোকসান দিতে হচ্ছে দুই লাখ টাকার ওপরে। তাই বাধ্য হয়েই এমনটা করতে হচ্ছে। কুয়াকাটা-২ লঞ্চের মালিক আবুল কালাম খান বলেন, পদ্মা সেতুব বদৌলতে যাত্রীরা দক্ষিণাঞ্চলে ভ্রমণে এখন লঞ্চের চেয়ে বাসে যেতে বেশি আগ্রহী। তাই আমরা চরম যাত্রী সংকটে ভুগছি। এরমধ্যে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের বাড়তি মূল্য। যার কারণে আমরা লঞ্চে যাত্রী পরিবহন পোষাতে পারছি না। এ অবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ এ খাতের সবাইকে লঞ্চ সার্ভিস বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে।

লঞ্চ সার্ভিস নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে নৌ-যাত্রী পরিবহন সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, লঞ্চ ব্যবসায় এখন খুব মন্দা যাচ্ছে। আগে যেখানে আমরা খুব ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতাম, সেখানে এখন আমরা দিন আনি দিন খাই অবস্থা। আমাদের লঞ্চ সার্ভিসে লিস্টেড সাতশ’ লঞ্চের মধ্যে ছয়শ’র অবস্থাই খারাপ।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই কিন্তু আমরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি। যাত্রী না পাওয়ায় লঞ্চগুলো স্ক্র্যাপ হয়ে যাচ্ছে। অনেক মালিক ব্যাংক ঋণ খেলাপি হয়ে গেছেন। সর্বোপরি আমরা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে আমরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

স/অ