মিথ্যাচারী মালিকদের সঙ্গে শ্রমজীবী একাট্টা হয় না
আদিম সাম্যবাদী থেকে পুঁজিবাদী সমাজ। দিন দুনিয়ার অগ্রগতি। কারও একক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেনি। কোটি টাকার মালিক একাই কী করবে। যদি শ্রমজীবী হাত না লাগায়। যুথবদ্ধ সংগ্রামেই পৃথিবীর এত বদল। প্রযুক্তি এসেছে, গ্লোবালাইজেশন হয়েছে। কিন্তু জোরদার শোষণ প্রক্রিয়া। এটা রাষ্ট্র থেকে প্রতিষ্ঠান। সব জায়গায় একই সেন্টিমেন্ট। মিথ্যাচারী মালিকদের সঙ্গে শ্রমজীবী একাট্টা হয় না।
যোগ্যতা নয়, আনুগত্যই এখন চাকরির যোগ্য মানদণ্ড। একদিকে ধোঁকাবাজ-মিথ্যাচারী কর্পোরেট সংস্কৃতি। অন্যদিকে ছাঁটাইয়ের ভয় আর আয়-ব্যয়ের অনিশ্চয়তা। সেখানে মেধাবী, সৎ, উদ্ভাবনী মানুষ ক্রমাগত অসহায়। ভদ্র ভাষার ঠকানো। বেতন-চুরি। জীবন থেকে প্রাপ্য ছিনিয়ে নেওয়া। চোখের জল। মালিকের দম্ভটাই যেন বলে দেয়—খামখেয়ালিই নিয়ম। শ্রমের মূল্য কর্মীর অধিকার, করুণা নয়।
আপনার অফিসটা আপনার নয়। ওটা দাঁড়িয়ে আছে যারা প্রতিদিন সময় দেয়, ঘাম দেয়, সহ্য করে—তাদের কাঁধে। আপনি শুধু চেয়ারে বসে আছেন। যারা নিচে কাজ করে, তারাই আপনাকে মালিক বানিয়ে রেখেছে। ভদ্র মুখোশ। হাসিমুখে ঠকাবেন না। একদিন হিসেব হবে, শ্রমই এই পৃথিবী গড়েছে। সেইদিন শ্রমিকের ঘামে শোষকের সিংহাসন ভাঙবে।
সততা, বুদ্ধিমত্তা—যেকোনো ডিগ্রির চেয়ে অনেক দামি। এটাই বেঁচে থাকার আসল মন্ত্র। হোঁচট খাওয়া, ভুল সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া—এগুলো কোনোটাই ব্যর্থতা নয়। ব্যর্থতা হলো থেমে যাওয়া। সঙ্গে কিছু ভালো মানুষের সমাবেশ। বুদ্ধিজীবীর রক্তক্ষরণ পৃথিবীর অগ্রগতি। ধমকে প্রতিভা আটকায় না। প্রতিকূলতায় কেউ এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেখায়। বিপ্লব একা আসে না। তা আসে মানুষের যুথবদ্ধ চেতনায়।
রাজিউর রাহমান
সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক
স/এষ্

