গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় সিলেট নগরের বৃহত্তম কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় গেলে আতাউর রহমানের দেখা মেলে।সেখানে তিনিসহ আরও ১১ জন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, টার্মিনালটি থেকে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ভৈরব, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে কয়েক হাজার যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। প্রতিদিন এখান থেকে গড়ে ১০ হাজার যাত্রী বাসে ওঠানামা করে। অথচ টার্মিনালটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চল্লিশোর্ধ্ব আতাউর রহমান দুই হাতে পরনের প্যান্ট টেনে তুলেছেন ওপরের দিকে। জুতায় কাদা লেপটে আছে। চোখেমুখে বিরক্তিভাব। হবিগঞ্জগামী একটি বাসে ওঠার পর তাঁর কাছে যেতেই বললেন, ‘দেখেন তো ভাই অবস্থা! বাস টার্মিনালে এলেই এমন দুর্ভোগে পড়তে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলকাদায় একাকার হয়ে পড়ে। কী বিশ্রী অবস্থা!’

যাত্রী, বাসচালক ও পরিবহন শ্রমিকনেতারা বলেন, ২০০৭ সালে সর্বশেষ বাস টার্মিনালে সংস্কারকাজ হয়েছিল। এরপর আর সংস্কার না হওয়ায় টার্মিনালেরস্থানে স্থানে ইট উঠে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে সামান্য বৃষ্টিতেই জলকাদায় একাকার হয়ে যায়। এ ছাড়া নিয়মিত টার্মিনালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না। ফলে স্থানটি সর্বক্ষণ নোংরা, আবর্জনা ও দুর্গন্ধময় থাকে। এ অবস্থায় যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনাল চত্বর কাদাপানিতে একাকার। স্থানে স্থানে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের খালি প্যাকেট ও পরিত্যক্ত কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। যাত্রীরা আবর্জনা ও কাদা মাড়িয়ে গাড়িতে উঠছেন। এতে অনেকেরই পা নোংরা হয়ে পড়ছে। কারও কারও কাপড়চোপড়ে কাদা লেগে বিনষ্ট হয়েছে। কয়েকজন নারী যাত্রী জানান, টার্মিনাল এলাকায় মাত্র দুটি গণশৌচাগার (পাবলিক টয়লেট) রয়েছে; যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এতে করে নারী যাত্রীদের সমস্যা হচ্ছে বেশি।

বাসচালকের সহকারী ইসমাইল মিয়া বলেন, বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি একাকার হয়ে পড়ে। আবার শুষ্ক মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ধুলা ওড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় টার্মিনালটি যাত্রীদের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া যাত্রীদের অপেক্ষা করার জন্যও পর্যাপ্ত ছাউনি নেই।

মাহবুবা খানম নামের মৌলভীবাজারগামী এক যাত্রী বলেন, টয়লেটের অপ্রতুলতা নারীদের বেশি ভোগায়।

        দুজন পরিবহন শ্রমিকনেতা জানান, টার্মিনালটি সংস্কারে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও টার্মিনাল এলাকাটি সংস্কার করা হচ্ছে না। নেই পর্যাপ্ত যাত্রীছাউনি ও পাবলিক টয়লেট। এককথায় টার্মিনালটি মোটেও যাত্রীবান্ধব নয়। তাই যাত্রীসুবিধা নিশ্চিতে টার্মিনালটির তদারক-প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসা উচিত। আর ময়লা-আবর্জনার বেশির ভাগই যাত্রীরা ফেলে যায়।

একজন বাসচালক ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, টার্মিনালে এলেই যাত্রীদের জলকাদা মাড়াতে হয় তাদের পা ও কাপড়চোপড় নোংরা হয়। অনেক দিন ধরেই এ সমস্যা চলছে। এ ছাড়া টার্মিনাল এলাকার যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা থাকলেও সেসব অপসারণে সিটি করপোরেশনের গাফিলতি রয়েছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে সর্বশেষ বাস টার্মিনালটি সংস্কার করেছিল সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান  বলেন, টার্মিনাল এলাকায় আরও কয়েকটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া পুরো টার্মিনাল চত্বরে ইট বিছিয়ে সংস্কারকাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। টার্মিনাল এলাকাটি যেন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়, সে ব্যাপারেও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন