তাপস কুমার, নাটোর:

৬ বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ কথা রাখেনি
নলডাঙ্গায় জলাবদ্ধতা-কাঁদায় চরম দুর্ভোগে
গুচ্ছগ্রামের ৩০ পরিবার,
গত কয়েক দিনের প্রবল বষর্ণে জলাবদ্ধতা ও কাঁদায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাঁশিলা গ্রামে অবস্থিত গুচ্ছগ্রামের ৩০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় গুচ্ছগ্রামের প্রবেশ মুখে বুক সমান পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং গুচ্ছগ্রামের চলাচলের মাঝের রাস্তা পাকা না হওয়ায় বৃষ্টি হলেই পানি জমে জলমগ্ন ও হাটুসমান কাঁদায় দুর্ভোগ দুর্দশা চরমে উঠেছে। আদর্শগ্রাম বা গুচ্ছগ্রামে ৩০টি ভূমিহীন পরিবার বসবাস করার ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিবছর বর্ষার সময় প্রবল বষর্ণে অধিকাংশ স্থানে জলমগ্ন, হাঁটুসমান কাঁদায় বসবাস ও চলাচলের অনুপযোগী হলে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া সমস্যা সমাধানের জন্য শুধু প্রতিশ্রুতিই শুনতে হয়েছে অসহায় পরিবারগুলোকে। কিন্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কোন কাজ না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বসবাসকারী পরিবারগুলো।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাঁশিলা গ্রামে বিগত ২০১১ সালে ৮ জলাই খাস জমির উপর বাড়িঘর নির্মান করে ৩০টি ভূমিহীন অসহায় পরিবারকে বসবাসের সুযোগ করে দেয় সরকার। ৩০টি ঘরবাড়ি নির্মান করে ৩০ টি পরিবার কে বসবাসের সুযোগ করে দিলেও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আর কোন কাজ না করায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে জলমগ্ন ও কাঁদায় দুর্ভোগ দুর্দশা চরমে পৌছায়। বিশেষ করে বর্ষায় প্রবল বৃষ্টির জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় গুচ্ছগ্রামের প্রবেশ মুখে রাস্তায় বুক সমান পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি এবং গুচ্ছগ্রামের চলাচলের মাঝের রাস্তা পাকা না হওয়ায় বৃষ্টি হলেই পানি জমে জলমগ্ন ও হাঁটুসমান কাঁদায় দুর্ভোগ চরম বেড়ে যায়। পরিবারের শিশু, কিশোর-কিশোরী, বৃদ্ধা, মহিলারা ঘর থেকে বের হলেই হাঁটুসমান কাঁদা ও বুকসমান জলমগ্ন পানির মধ্যে দিয়ে হেটে প্রধান সড়কে উঠতে হয়। এতে স্কুলগামী ছেলে মেয়েরা এই সময় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে ঘরে বসে থাকে এবং অনেকে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে প্রতিবছর স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ছুটে গিয়ে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অসহায় পরিবার গুলোকে আশ্বাস দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন। কিন্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোন কাজ না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বসবাসকারী অসহায় পরিবারগুলো।
গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দ্রা রুপালী বেগম, মমতাজ বেগম, আহাদ আলী সরদার জানান, বর্ষাএলেই আমাদের বাড়িঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকে এবং সমস্ত এলাকা কাঁদায় ঘর থেকে হতে পারিনা। তারা আরোও জানায় আমাদের বসবাস করার ৬ বছর পেরেই গেলেও সরকারী লোকজন এসে আমাদের খোজ খবর নিলেও এই সময় আমাদের দুর্ভোগ ও কষ্টের কথা জেনেও কোন কাজ করেনি।আরেক বাসিন্দা কালাচাঁন জানান, এই গ্রামে বিদ্যুৎ নাই সোলার বসিয়ে এতদিন আলো জালিয়ে আসছি তা আবার ব্যাটারী নষ্ট হযে সোলার চলে না। গুচ্ছগ্রামের আরেক বাসিন্দা আবু বক্কর জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণে আমাদের বাড়িতে আসা একমাত্র রাস্তার প্রবেশ মুখে বুকসমান পানি জমে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ফলে আমাদের অন্যের বাড়ির উপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। মাধনগর ইউপির ৯ নং ওর্য়াড সদস্য আব্দুল মালেক বেপারী জানান, আমার নির্বাচনী এলাকায় এ গুচ্ছগ্রামের অবস্থান হওয়ায় আমি নির্বাচিত হওয়ার পর সব জায়গায় তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে সমস্য সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, বিষয়টি জেনেছি তাদের সমস্যা সমাধানের সব ধরনের উদ্দ্যেগ গ্রহন করা হবে।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন