কেশবপুর(যশোর)প্রতিনিধি: 

কেশবপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।  বুধবার স্থানীয় এমপি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের পক্ষ মন্ত্রীর সহকারি সচিব মঞ্জুরম্নল হাফিজ  ১০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৮শ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন।  ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সাইফুর রহমান, সহকারি কমিশনার (ভুমি) মোঃ কবীর হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য হাসান সাদেক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক, আওয়ামীলীগ নেতা তপন কুমার ঘোস মন্টু। আশ্রয় কেন্দ্রে জলাবদ্ধ  প্রায় এক হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে বানভাসী মানুষের জন্য ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে  উপজেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পস্নাবিত হয়েছে। ১০ টি মেডিকেল টীম কাজ করছে । টানা ছয় দিন ধরে বিরামহীন মুষল ধারার বৃষ্টিতে কেশবপুর পৌরসভা ও উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি  হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।  মঙ্গলবার সকালে কেশবপুর কলেজ, কেশবপুর পাইলট স্কুল এ্যান্ড কলেজ, কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ,&আলীয়া মাদ্রাসা , মধু শিক্ষা নিকেতন, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,&বালিয়াডাঙ্গা ব্রীজ,গণসাহায্য সংস্থা আশ্রয় কেন্দ্রে ৮শ বানভাসী পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ছাড়াও যশোর সাতক্ষারা সড়কের মধ্যকুল নামকস্থানে দুই পাশে প্রায় ২ শতাধিক পরিবার টোংঘর তৈরী করে আশ্রয় নিয়েছে।  ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে ১০ জন ট্যাগ অফিসার নিযুক্ত করে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা নিরম্নপনে কাজ শুরম্ন করেছে।কেশবপুর পৌরসভার মধ্যকুল, ভবানিপুর, হাবাসপোল, সাহা পাড়া, বালিয়াডাঙ্গা আলতাপোল, সাবদিয়া, বাজিতপুর, ব্রম্মকাটি , রামচন্দ্রপুর, রাজনগরবাঁবাবর্শি , সাগরদত্তকাটি, মান্দারডাঙ্গা, নারায়নপুর, কৃষ্ণনগর, মঙ্গলকোট সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিমণাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, প্রবল বৃষ্টিতে ২হাজার ৫শ মাছের ঘের ও পুকুর পস্নাবিত হওয়ায় অবকাঠামোসহ ক্ষতির পরিমান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ কোটি টাকার। উপজেলা প্রকল্প বাসত্মবায়ন কর্মকর্তা নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তী জানান, ১০ টি আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর ক্ষয় ক্ষতির পরিমান কত তার কাজ চলছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন নদীতে বেশি পানি থাকার কারনে স্কেভেটর মেশিন উঠিয়ে পানি প্রবাহে বাঁধাগ্রস্থ হওয়া এলাকায় ভাসমান যন্ত্র দিয়ে পলি খননের কাজ চলছে।  উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ আবু শাহীন জানান, পস্নাবিত এলাকায় ১০ টি মেডিকেল টীম কাজ করে চলেছে। কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, হরিহর নদীর উপচে পড়া পানিতে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড পস্নাবিত হয়ে চার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন থেকে মানুষের নিরাপদ বসবাসের জন্য ১০ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ।

স/এম

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন