সৌদি আরবের মুদি দোকান, কনফেকশনারি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে এমন দোকানে বিদেশি অভিবাসীদের জন্য দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারা আর এসব দোকানে কাজ করতে পারবেন না।

সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজ উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি খসড়া সিদ্ধান্ত প্রস্তুত করেছে। এ প্রস্তাব অনুযায়ী, সৌদি আরবের নাগরিক নন এমন কোনো ব্যক্তি এসব দোকানে কাজ বা চাকরি করতে পারবেন না।

সৌদি আরবের শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সৌদি নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি লক্ষ্যে ছোট ছোট মুদির দোখান ও বিভিন্ন শপিং সেন্টারে সৌদি তরুণদের নিয়োগ দেওয়া পরিকল্পনা করছেন বলে জানায় সৌদি আরবে প্রভাবশালী পত্রিকা আরব নিউজ। যার ফলে ১৫ লাখ প্রবাসী শ্রমিক কর্মসংস্থান হারাবে।

সৃএ মতে, সৌদি নাগরিকদের ক্ষমতায়ন এবং উচ্চতর অগ্রাধিকার দিতে মুদির দোকান ও কনফেকশনারি দোকানগুলোতে স্থানীয়করণের হার বাড়ানো জোর দেন সৌদি সূরা কাউন্সিল।

এই পদ্ধতিতে চাকরি স্থানীয়করণ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রথম বছরে ২০ হাজার সৌদি নারী ও পুরুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে বলে আশা করছে।

সূত্র মতে, আরো বলা হয়েছে এই রকম সিদ্ধান্তের ফলে মোবাইল বিক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে 8 হাজারের অধিক সৌদি নাগরিকদের নিযুক্ত করা হয়েছে। যার ফলে সৌদি নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) মতে ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি পরিসংখ্যান করা হয়। ঐ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে খুচরো খাতে ১.৫ মিলিয়ন শ্রমিক কাজ করছে যার মধ্যে কেবল ৩,০০,০০০ সৌদি নাগরিক রয়েছে।

ট্যাক্সি ও বিভিন্ন শপিং মলগুলোতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১০০ শতাংশ সৌদি করনেরও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার। এই খাতে ৫ হাজার সৌদি নাগরিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলেও জানান বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।

সৌদি আরবের দৈনিক পত্রিকা আল মদিনা’কে উদ্ধৃত করে আরব নিউজ জানিয়েছে, এসব দোকান শতভাগ সৌদি নাগরিক দিয়ে চালাতে হবে। একজনও বিদেশি সেখানে কাজ করতে পারবেন না।

ফলে সৌদি আরবে এইসব ক্ষতে চাকরি হারাবে ১.৫ মিলিয়ন প্রবাসী যাদের মধ্যে অধিকাংশ ইন্ডিয়ান ও বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে। ছোট ছোট মুদির দোকান ও কনফেকশনারি দোকানগুলো ইন্ডিয়ান ও বাংলাদেশিরা কফিলের নামে নিজেদের ব্যবসা করে আসছিল। সৌদি নিয়োগকরন হলে অসংখ্য বাংলাদেশি এতে বেকার হয়ে পড়বে।

মন্ত্রণালয়ের সূত্র আরো উল্লেখ করে খবরে বলা হয়েছে, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত ও তা বাস্তবায়নের প্রথম বছরে সৌদি আরবের কমপক্ষে ২০ হাজার নাগরিকের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে করে খাদ্য ও কোমল পানীয় বিক্রির কাজ সৌদি নাগরিকদের জন্য সীমিত করার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

দেশটির শূরা কাউন্সিল সম্প্রতি শ্রম ও সমাজ উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী, মিউনিসিপ্যাল ও গ্রামীণ সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ছোট ছোট সরবাহের দোকানগুলো বন্ধ করে দিতে। পাশাপাশি শুধু বড় বড় স্টোরগুলোকে খুচরা বিক্রি করার লাইসেন্স দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের অনেক নারী ও পুরুষের চাকরির ব্যবস্থা হবে।

কাউন্সিল জানিয়েছে, এ পদক্ষেপ নেয়া হলে সৌদি আরবের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে এবং নির্ধারিত বেতনের ভিত্তিতে যারা সৌদি নাগরিক পরিচয় দিয়ে ব্যবসা করছে সেইসব মানুষের অসাধু উদ্যোগ কমে যাবে।

সূত্রে জানা যায়, শুধু টেলিকম খাতে সৌদিকরণ করার ফলে দেশটির ৮ হাজারেরও বেশি নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থান হবে। এসব খাতে কাজ হলো মোবাইল ফোন মেরামত করা, রক্ষণাবেক্ষণ করা ও বিক্রি করা। কার রেন্টাল অফিসে কাজকে সীমিত করে ৫ হাজারের বেশি সৌদি নাগরিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা করছে মন্ত্রণালয়।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সৌদি আরবের ৭৫০০ ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্রগুলোতে তাদের কাজের সুযোগ নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন

Power by

Download Free AZ | Free Wordpress Themes