সাদের হোসেন বুলু নবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
ঢাকা নবাবগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ এলায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। সোনালী আঁশ পাটের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অনেক দিন পর এবার পাট চাষীদের মূখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে।এ যেন রোদ্দুর তাপে হারিয়ে যাওয়া কৃষক ও কৃষাণী চিরচেনা মূখ গুলো আজ আবার পাটের সবুজ পাতার আলিঙ্গনে জেগে উঠেছে এক নতুন চেহারায়।
ভালো ফলন হওয়ায় সুবাদে এবার চাষীরা পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো, শুকানো ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এইঅঞ্চলের কৃষক সমাজ।
নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি পাট মৌসুমে ৯৯০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ৯৯৭ হেক্টর জমিতে। বিঘা প্রতি পাট উৎপাদন হয়েছে ১০ থেকে ১৩ মণ প্রায়। যাঁরা পাট চাষ ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাঁরাও স্বল্প পরিসরে পাট চাষ করছেন এবার এ উপজেলায়।
উপজেলার নলগোরা গ্রামের কৃষক নকুল বিশ্বাস বলেন , আট বিঘা জমিতে প্রায় ৯০ মণ পাট হয়েছে। বাজারে দেশী জাতের পাট বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ শ টাকা দরে, তুষা পাট বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ টাকা দরে।
জমিতে চাষ, সার, আগাছা পরিষ্কার, পাট কাটাসহ বিভিন্ন খাতে বিঘা প্রতি খরচ হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদিত পাট বাজারে বিক্রি করে ১৫-১৬ হাজার টাকা পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
শোল্লার রুপারচর গ্রামের চাষী সামেদ বলেন,পাট চাষে কৃষকের যেমন লাভ হয়, তেমনি পাটশলা দিয়ে কৃষকের জ্বালানি সংকটও মিটে। এতে কৃষক দুভাবে লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল আমীন বলেন, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে পাট চাষ হয়েছে। তাছাড়া অনুকূল আবহাওয়ায় পোকার আক্রমণ কম হয়েছে। এতেও ফলন হয়েছে তুলনামূলক ভাল। পাটের দাম আশানুরূপ পেলে চাষীরা পাট চাষে আরও এগিয়ে আসবেন।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন