সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসলরক্ষা বাধ নির্মাণে অনিয়ম- দুর্নীতির দায়ে ৬১জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরখাস্তকৃত নির্বাহি প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনকে। রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় দুদকের সহকারি পরিচালক ফারুক আহমদ বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ৫(২) ধারা ১০৯, ১৬৬/১০৯/৪০৯/৫১১/১০৯ মামলাটি রজু করা হয়। মামলা নং ০২/১৯৫ ২০১৭ ইং। মামলায় আফসার উদ্দিন ছাড়াও আসামী করা হয়েছে, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সিলেট পওর সার্কেল মো. নুরুল ইসলাম সরকার, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (উত্তর পূর্বাঞ্চল) আব্দুল হাই, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস, খলিলুর রহমান, সেকশন কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লা, ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ খান, খন্দকার আলী রেজা, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. শাহআলম, মো. বরকত উল্লাহ ভূইঁয়া, মো. মাহমুদুল করিম, মো. মোছাদ্দেক, সজিব পাল, মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ঠিকাদার ও পিআইসির সদস্যদের উপর এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসব কর্মকর্তারা ঠিকাদার ও পিআইসির সদস্যদের সাথে হাত মিলিয়ে উদ্দেশ্য ও প্রণোদিতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। তারা ব্যাক্তিগত লাভের জন্য বাঁধের কাজে এমন দুর্নীতি করেছে। ফলে কাজ না হওয়ায় পাহাড়ী ঢলে জেলার শতভাগ হাওর তলিয়ে যায়। মামলা দায়েরের পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও পিআইসি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। হাওরে বাধ নির্মাণের নামে লুটপাটের অভিযোগ তদন্তে এর আগে হাওর পরিদর্শন করে দুদকের একটি প্রতিনিধি দল। তারা কৃষকদের নানা অভিযোগ তদন্ত করে দেখেন। গত এপ্রিল মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও পিআইসিদের দুর্নীতিতে জেলার শতভাগ হাওর অকাল বন্যায় তলিয়ে যায়। হাওরবাসীর দুঃখ দুর্দশার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন বাঁধ নির্মাণের দুর্নীতিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তারা যত বড়ই ক্ষমতাশালী হোক আইনী ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বাঁধ নির্মাণের দুর্নীতি ও গাফিলতির বিষয় নিয়ে দুদকের পরিচালক বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তদন্ত করার জন্য সরজমিনে হাওর পরিদর্শন করেন। কৃষকদের অভিযোগের সাপেক্ষে কয়েকটি তলিয়ে যাওয়া বাঁধও পরিদর্শন করেন দুদক প্রতিনিধি দল। পরে কৃষকের আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন দুদক প্রতিনিধি দল। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় দুদকের সহাকরি পরিচালক সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এবং একই সাথে ১৪ কর্মকর্তার বিরুেেদ্ধ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে দুদক। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান জানান, বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতির দায়ের দমন কমিশন(দুদক) সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করবেন দুদক কর্মকর্তারা। আর দুদক আইনে এই মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মে জড়িত পাউবোর মোট ২৫৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) এর সভাপতিদের বাঁধ দিয়ে শুধুমাত্র কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে একতরফা ভাবে মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সনুনামগঞ্জের সিভিল পসাসাইটি।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন

Power by

Download Free AZ | Free Wordpress Themes