প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে জঙ্গিরা। বিশেষ করে পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তারা। ব্যবহার করছে নানা রকম অ্যাপস। এনক্রিপটেড হওয়ায় গ্রেফতারের পর জঙ্গিদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের এসব অ্যাপস থেকে আলাপচারিতা উদ্ধার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম দিকে জঙ্গিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করতো। পরবর্তীতে তারা থ্রিমা, টেলিগ্রাম বা উইকারের মতো অ্যাপস ব্যবহার শুরু করে। এখন এসব ছাপিয়ে তারা আরও বেশি গোপনীয় অ্যাপস ব্যবহার করছে। গত বছর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গিদের ব্যবহৃত এসব অ্যাপস থেকে নানাভাবে তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনার পর ধারাবাহিক অভিযানে জঙ্গিদের আমরা কোণঠাসা করে ফেলেছি। জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসার চেষ্টা করছে। আমরা নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্র জানায়, জঙ্গিরা প্রথম দিকে যোগাযোগের সাধারণ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করতো। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে, তারা নিত্য নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপস ব্যবহার করছে। এ কারণে তাদের নিজস্ব যোগাযোগ ব্যবস্থার অভ্যন্তরে ঢুকে গোপন তথ্য জানা কিছুটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জঙ্গি নেতারা কাউকে নিজেদের দলে ভেড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাকে প্রথমে প্রযুক্তি বিষয়ক কিছু প্রশিক্ষণ করানো হয়। অ্যাপস চালানোর কলা-কৌশল এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে যোগাযোগের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ফেসবুক ও টুইটার

সিটিটিসি’র একজন কর্মকর্তা জানান, প্রথমদিকে জঙ্গিরা যোগাযোগের জন্য ফেসবুকের মেসেঞ্জার অ্যাপস ব্যবহার করতো। এছাড়া টেলিগ্রামও প্রথমদিকে ব্যবহৃত হতো। সেকেন্ডারি মাধ্যম হিসেবে উইকার, সিওরস্পট ও পিটি নামের অ্যাপসগুলো ব্যবহার করতো। বর্তমানে জঙ্গিরা সিএস, কিক ও থ্রিমা অ্যাপস ব্যবহার করছে।

সিটির ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, জঙ্গিরা ভবিষ্যতে সাইলেন্ট সার্কেল, সিগন্যাল, চ্যাট সিকিউর, ওএস টেল ও রেডফোনের মতো সিক্রেট ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার করতে পারে। জঙ্গিরা এসব যোগাযোগ অ্যাপস ব্যবহার করলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি হিসেবে আইটি এক্সপার্ট অনেক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জঙ্গিরা টার্গেট করে আইটি এক্সপার্টদের দলে ভিড়িয়ে নেয়। কারণ জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক এখন পুরোটাই আইটি নির্ভর। মোবাইল ফোনের সাধারণ ব্যবহারের চাইতে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকা। এজন্য আইটিতে এক্সপার্টরা সাধারণ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এমনকি প্রতিটি জঙ্গি সংগঠনের আইটি শাখা নামে আলাদা একটি শাখাও রয়েছে।

উল্লেখ্য, হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার সময় ভেতরে থাকা জঙ্গিরা প্রটেক্টেড টেক্সট নামে একটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাইরে থাকা জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। হলি আর্টিজান থেকে উদ্ধার হওয়া ৩০টি মোবাইল ফোন এফবিআই-এর ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়ে পরীক্ষার পর এই তথ্য জানতে পারে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সূত্র : বাংলাট্রিবিউন

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন

Power by

Download Free AZ | Free Wordpress Themes