চমক প্রতিনিধি: সিটি কর্পোরেশন এর রাজস্ব আদায়ে সফলতার জন্য আধুনিক ও বিজ্ঞান ভিত্তিক নিয়ম পালন করতে হবে। একারনে চাই দক্ষ জনশক্তি সঠিক কাগজপত্র ও কম্পিউটারাইজড ব্যবস্থাপনা। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে পুরোনো ধ্যান ধারনা অচল। বর্তমান ধ্যান ধারনায় রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতিকে সহজ থেকে সহজতর করতে হবে। একজন রাজস্ব আদায়কর্মী ও রাজস্ব প্রদানকারীর মধ্যে সম্পর্ক হবে মধুর।
রাজস্ব আদায়কারীকে দেখলেই যেন রাজস্ব প্রদানকারী মনে না করেন, ‘বর্গী এলো দেশে’। আসলে দেশে সমাজে রাষ্ট্রে এখন বর্গী নেই। মানুষ সুশিক্ষিত হয়েছে। দেশও উন্নতি হয়েছে। রাস্তাঘাট ফুটপাতে বাতি জলছে। রঙ্গীন রঙ্গীন ওভারব্রীজ দিয়ে মানুষ চলছে। গগনচুম্বী ফ্লাইওভার দিয়ে যেন গাড়ি উড়ে চলছে।
এসব নির্মান পরিচালনা ব্যয় বাড়ছে। মানুষের জীবনের মান উন্নয়নের জন্য যেভাবে অর্থের প্রয়োজন, সেভাবেই একটি নগরীর উন্নয়নের জন্য ও অর্থের প্রয়োজন। এ অর্থ আসবে কোতথেকে।
একজন সচেতন নাগরিকের তা ভাবা উচিত। তাছাড়াও নগরীতে বাড়ছে সব ধরনের বাজার বিপনি বিতান ব্যবসা বানিজ্য। এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাড়িঘরের মালিকদেরকে করের আওতায় আনা হয়েছে বহু পূর্ব থেকেই।
দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, যদিও কর দেওয়া গর্বের ব্যাপার, কর দেওয়া অহংকারের ব্যাপার, কর দেওয়া আনন্দের ব্যাপার। এ বিষয়গুলো নাগরিকদের এখনও জানতে দেওয়া হয়নি। বা তারা জানেন না। জানলেও ভয়ভীতি উত্তেজনা তাদের মধ্যে কাজ করে।
বিষ্ময়কর হলেও সত্যি যে, বর্তমানে আধুনিক সভ্য যুগে অনেক করদাতা বাড়িঘর দোকানপাট ও ট্রেড লাইসেন্স কর দিতে চাচ্ছেন। কিন্তু পদ্ধতিগত কারনে অথবা কোথাও কোথাও ব্ল্যাকমেইল ও দূর্ণীতির কারনে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা কর দিতে পারছেন না। বা লজ্জা ভয়ভীতি আতঙ্ক ও অনীহার মধ্যে আছেন। বিষয়টি দুঃখজনক।
একারনে কর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ ও করদাতাগনের যোগসূত্র রক্ষায় আমাদের সকলকে একযোগে এগিয়ে আসা জরুরী। সময় সময় করমেলার আয়োজন, কর সংশ্লিষ্ট কর্মশালা ও কর সচেতনতার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা কর আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।
করদাতাদের সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মান জানানো উচিত। তাদের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। কর আদায়নীতি সহজতর করা উচিত। সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই কর দেয়ার সহজ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে কর আদায়ের পদ্ধতি কিরূপ হওয়া প্রয়োজন এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর বাজার শাখার প্রধান ও কর কর্মকর্তা মিসেস ইমামা খানম বলেন কর প্রদান ও কর গ্রহন পদ্ধতিকে ঢেলে সাজাতে হবে। তিনি বলেন, তিন ধরনের করদাতা আমাদের ডিএনসিসির আওতায় রয়েছেনা।
১। সেচ্ছায় কর প্রদানকরী
২। কর কর্মকর্তাগণ কর প্রদানকরীর দারস্ত হলে কর প্রদানকারী
৩। কর প্রদানের অনীহা ভাব প্রকাশকারী

এদের মধ্যে প্রথম দুভাগের কর প্রদানকারীগনকে আমরা প্রায়ই হারাই। ৩য় ভাগের করদাতার চেয়ে প্রথম দুভাগের করদাতা কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে উত্তম। এদের জন্য আইনের শাসন নয় ন্যায়ের শাসনই যথেষ্ট। ৩য করদাতার জন্য আইনের শাসন জরুরী। আইনের শাসন ও ন্যায়ের শাসন কাছাকাছি অবস্থান করলেও এদুটোর কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে বলে অনেকের ধারনা।
করকর্মকতা মিসেস ইমামা খানম বলেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ও ডিএনসিসির বাজার থাকয় কাজ করে বিশ বছরে আমি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তা বিষ্ময়কর। ডিএনসিসিতে বর্তমানে তেতাল্লিশটি মার্কেটের অধিকাংশ ট্রেড লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী। ডিএনসিসির করদাতা মনে প্রানে চান, তিনি যেন ট্রেড লাইসেন্স ফি পরিশোধ করে ও দোকানের কর পরিশোধ করে ‘মিষ্টার ক্লিন’ হয়ে থাকেন।
তাদের সাথে কার্যক্রম পরিচালণা করতে তাদের চাই মাঠপর্যায়ের দক্ষ জনশক্তি। বর্তমানে ডিএনসিরি বাজার শাখা কর আদায়ে কর প্রদানকারীগনের সাথে সমন্বয় সাধন করে কাজ করছে। ডিএনসিসিতে এখন ট্রেড লাইসেন্স প্রদানে কোন ধরণের হয়রানি নেই ও বাধা নেই। দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় কেউ হয়তো বা মনে কষ্ট পেতে পারেন। আমাদের নলেজে আসার সাথে সাথে আমরা এর সমাধান করে ফেলব। বাজার শাখার কর কর্মকর্তা ইমামা খানম বলেন, আমি ষ্পষ্টভাবে বলতে চাই কাগজপত্র সঠিক থাকলে এবং ডিএনসিসির পাওনাদি পরিশোধ থাকলে প্রতি ঘন্টায় কোন প্রকার হয়ররানি ছাড়াই সম্মানিত ব্যবসায়ীগনকে আমরা ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করতে সক্ষম। ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত যে কোন অভিযোগ আমরা সমাধানে সচেষ্ট। মাননীয় মের্য় এর নির্দেশ, তিন দিনের বেশী কোন ফাইল যেন কোন টেবিলে অহেতুক পড়ে না থাকে। এ নিয়ম ডিএনসিসি এবং বাজার শাখায় চালু গয়ে গেছে। আমি আরও ষ্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সহ আমার টেবিলে আসার সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে এবং সৎ ব্যবসায়ীগন ট্রেড লাইসেন্স নবায়নযোগ্য হওয়ার পর পরই এখন আবেদন করছেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার দক্ষ কর্মী বাহিনীসহ এ ব্যপারে কর্মতৎপর হয়ে উঠি। ঘন্টার মধ্যেই সম্মানিত ব্যবসায়ীগণকে আমি ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, শর্ত কেবল সঠিক কাগজপত্র ও ডিএনসিরি পাওনাদি পরিশোধ।
এ ব্যাপারে যে কোন অভিযোগ আমাদের যে কেউ জানাতে পারেন। আমরা গুরুত্ত্বের সাথে এর সমাধান করব। মিসেস ইমামা খানম সর্বশেষে নিয়মিত কর প্রদানকারীগনকে ও ট্রেড লাইসেন্স ফি প্রদানকারীগনকে অভিনন্দন জানান। মিসেস ইমামা খানম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি অফিস ব্যবস্থাপনা ও কর ব্যবস্থাপনার উপর দেশে বিদেশে বহু প্রশিক্ষণ লাভ করেন। ইতোপূর্বে সরকার তাকে ব্যবস্থাপনার উপর প্রশিক্ষনের জন্য মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম প্রেরন করেন। সেখান থেকে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন।

স/ এষ্

         
print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন