মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম বলেছেন, মাদকের ব্যাপারে তদবীরকারীরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন শেষে ফেনালাপকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। জানা গেছে ,পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম যোগদান করার পর পর মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন। সভা ,সেমিনার , মাদক বিরোধী র‌্যালী, সমাবেশ ও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির মাধ্যমে জেলায় ব্যাপক সচেতনতা বাড়িয়েছেন। ইতিমধ্যে বিপুল সংখক মাদক সেবনকারী, বিক্রেতা ও ঢিলারদের আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ। কয়েকমাস আগে জেলা পুলিশ সুপার ঘোষনা করেন, জেলার সকল উপজেলার সকল মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের তালিকা তৈরী করে মাদক সেবীদের চিকিৎসা ও বিক্রেতাদের পূর্নবাসনের উদ্যোগ গ্রহন করেন। সে লক্ষে বিভিন্ন সংস্থার সাথে আলাপ আলোচনা করেছে জেলা পুলিশ । ইতিমধ্যে এ কাজে অনেক সংস্থাই এগিয়ে আসার জন্য আগ্রহী হয়েছেন। সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানাগেছে, মুন্সীগঞ্জ জেলায় এখন মাদকের ব্যবহার আগের চেয়ে কমে গেছে। জেলখানা সুত্রে জানাযায়, জেলখানায় কয়েদীদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগই মাদক মামলার আসামী। কিন্তু ইদানিং মুন্সীগঞ্জে হঠাৎ করে ব্যাপক হারে মাদকের ব্যাপারে তদবীরকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসীরা অনেকটা উৎসাহী হয়ে আইনসৃংখলা বাহিনীর চোখে দূলো দিয়ে চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা। এলাকার সাধারন মানুষের সাথে আলাপকালে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্র ছায়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা আবারো মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর চেষ্টা ও যুবসমাজকে ধবংসের পায়তারা শুরু করেছে। আর এর সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে কতিপয় নামধারী সংবাদকর্মী। তারা বিভিন্ন সময়ে মাদকের ব্যাপারে জোর তদবীর চালায় । এতে করে একদিকে মাদক ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হচ্ছে অন্যদিকে উঠতি বয়সের যুব সমাজ চলে যাচ্ছে ধবংসের পথে। আর খুচরা বিক্রির সাথে জড়িত রয়েছে দরিদ্র কিছু মানুষ। কেউ কেউ মাদক ব্যবসা করে পেটের দায়ে আবার কেউ অল্পতে বড় লোক হওয়ার লোভে। আবার কেউ কেউ মহান পেশার আড়ালে , রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, সাংবাদিকতার আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। অনেকে আবার দেখা গেছে মাদক নিয়ে কেউ আটক হলে জোর তদবীর শুরু করেন। আবার কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে মাদক বিক্রেতার পক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদ পরিবেশন করে। এতে করে সাধারন মানুষের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্চুক এক আইনজীবি অভিযোগ করে বলেন, মূল যারা ব্যবসায়ী তারা সমাজের পুঁজিবাদি বা নেতা প্রকৃতির লোক। কেউ বা গোপনে সাংবাদিকতার আড়ালে জড়িয়ে পড়েছে মাদক ব্যবসার সঙ্গে। অল্প দিনেই অনেকে বাড়ী , গাড়ী ও কোটি টাকার বনে গিয়েছে। তারা বরবারই ক্ষমতা ও টাকার জোরে থেকে যায় অন্তরালে। সংবাদিকরা হলো সমাজের বিবেক আর এই বিবেকবান ব্যক্তিরা যদি মাদক নিয়ে ধরা পড়ে তাহলে জাতি তাদের থেকে কি আসা করতে পারে? ।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, আপনাদের আশপাশে যারা অতি অল্প সময়ে গাড়ী ও বাড়ীর মালিক হয়েছেন। যাদের দৃশ্যমান কোন আয় নেই তারাই হলো মাদক ব্যবসার গডফাদার। এরা মূলত রাজনৈতিক প্রভাব , সাংবাদিকতার প্রভাবে সব সময় পর্দার আড়ালেই থাকে। মাঝে মধ্যে ছোট ছোট নেশার চালান নিয়ে যেসব লোক ধরা পরে তাদেরকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে সেসব প্রভাবশালী লোক আর সাংবাদিকদের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে যায়। প্রভাবশালীদের কথামত কাজ না করলে পুলিশের বদনাম করে বেড়ায় আর সাংবাদিক নামদারী মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে দোষারোপ করে মিথ্যা অভিযোগ এনে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে। মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে তদবীরকাদীদের লাভ কোথায়? কি স্বার্থ আছে মাদকের ব্যাপারে তদবীর করে? । নিশ্চই তারা মাদক সেবন আর বিক্রির সাথে জড়িত রয়েছে। এমন অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্ব মহলে ।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোন আপোষ নয়। রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক,প্রভাবশালী ,সাংবাদিক হোক কারো তদবীর চলবেনা। যারা মাদকের ব্যাপারে তদবীর করে তাদের কি লাভ? আমি মনে করি তদবীরকারীরা কোন না কোনভাবে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত।

স/এষ্

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন